বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

জ্যোতিকা জ্যোতির বৈশাখের ৩ পদ

এপ্রিল ৮, ২০১৯ | ৬:২২ অপরাহ্ণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ছেলেবেলায় মা যখন কয়েকদিনের জন্য নানুবাড়ি যেতেন, বাবার সাথে রান্নাবান্নায় সাহায্য করতে হতো অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতিকে। তখন রান্নার কাজ একদমই ভালো লাগতো না, তবুও বাধ্য হয়ে করতে হত। এখন অবশ্য শখ করেই করেন। ব্যস্ত জীবনে চাইলেও সবসময় রান্নাঘরে ঢুকতে পারেন না। তবে সময় পেলেই নিজের হাতে রান্না করে প্রিয়জনদের খাওয়াতে ভালোবাসেন তিনি। পছন্দ করেন মিষ্টিজাতীয় খাবার আর মায়ের হাতের যেকোনো রান্না। তবে মায়ের হাতের নানারকম পিঠা, শজনে ডাঁটা, পায়েস, মুড়িঘন্ট, নানারকম দেশি ছোট মাছ রান্না বেশি পছন্দ তার। আবার নতুন নতুন জায়গায় গেলে সেখানকার খাবার খেতে ভালোবাসেন। অনেকসময় শিখে নেন রান্নাটাও। পহেলা বৈশাখ আসে চিরন্তন বাঙালি ঐতিহ্য আর বাংলা সংস্কৃতি উদযাপনের উপলক্ষ নিয়ে। বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে আমরা বৈশাখের প্রথম দিন বাঙালি পোশাক পরি, বাড়িতে বাড়িতে রান্না হয় নানারকম দেশিয় খাবার। নানারকম ভর্তা, মাছ বা ভাতই শুধু নয়, পহেলা বৈশাখে নানারকম দেশিয় খাবারও খাওয়া হয়। পহেলা বৈশাখের রান্নায় আজ থাকছে এমনই ৩টি মুখরোচক বাঙালি খাবারের রেসিপি। সারাবাংলার পাঠকদের জন্য মায়ের কাছে শেখা ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর রেসিপি দিয়েছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

লুচি

উপকরণ

ময়দা ২ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, পানি প্রয়োজনমতো, ভাজার জন্য তেল।

জ্যোতিকা জ্যোতির রান্না

ফুলকো লুচি

পদ্ধতি

ময়দার সাথে চিনি, ঘি ও লবণ মেশান। এরপর সামান্য পানি দিয়ে ময়ান করে লুচির খামির তৈরি করে নিতে হবে। খামির বেশ ভালো করে হাত দিয়ে ডলে ডলে মাখান। তারপর বেশ কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

একটা পাত্রে ডুবো তেলে ভাজা যায় এমন তেল নিয়ে গরম হতে দিন।

খামির থেকে ছোট আকারের লেচি কেটে নিয়ে মোটামুটি পাতলা করে বেলে নিন। বেলার সময় খেয়াল রাখুন লুচির পুরুত্ব যেন খুব মোটা বা পাতলা না হয়। মোটা বা পাতলা করে বেলা হলে ফুলকো লুচি নাও পেতে পারেন। এরপর বেলে নেওয়া লুচি গরম ডুবো তেলে বাদামি করে ভেজে নিতে হবে।

পায়েস

উপকরণ

দুধ ১ লিটার, চিনিগুড়ো চাল ১০০ গ্রাম, দারচিনি ১ ইঞ্চি, এলাচ ৩টি, তেজপাতা ২টি, চিনি স্বাদমতো, যেকোন বাদাম ও কিশমিশ।

জ্যোতিকা জ্যোতির রান্না

ঘন দুধের পায়েস

পদ্ধতি

দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিতে হবে। জ্বাল দেওয়ার সময় খেয়াল রাখবেন খুব বেশি আগুন যেন না হয়, এতে পাত্রের নীচের দিকে পুড়ে যেতে পারে। তাই দুধ ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। এতে পায়েসে দুধ পোড়া গন্ধ হবে না।

দুধ ফুটতে শুরু করলে তাতে চাল দিয়ে ভালো করে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। চাল কিছুক্ষণ পরপরই নেড়ে দিতে হবে যেন চাল হাঁড়ির তলায়ে লেগে পুড়ে না যায়। চাল সিদ্ধ হলে তাতে চিনি দিতে হবে। সবকিছু ভালোভাবে মিশে গেলে নামিয়ে কিসমিস ও বাদাম দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

লাবড়া

উপকরণ

সবজি: আলু ১ কাপ, মিষ্টি কুমড়ো ১ কাপ, কাঁচকলা ১টি, ঝিঙে ১টি, বড় আকারের বেগুন ১টি, শসা ১টি, ডাঁটা ১ কাপ, পটল ১ কাপ, চাল কুমড়া ১ কাপ, আরও যা যা মৌসুমি সবজি পাওয়া যায় ১ কাপ করে নিতে পারেন। সবজির পরিমাণ বাড়লে মসলার পরিমাণও কিছুটা বাড়াতে হবে।

মসলা: আদাছেঁচা ছোট ১ টুকরা, হলুদগুঁড়ো আধা চা চামচ, জিরাগুঁড়া আধা চা চামচ, ধনেগুঁড়া আধা চা চামচ, তেজপাতা ২টি, পাঁচ ফোড়ন ১ চা চামচ, শুকনামরিচ ৪/৫টি, লবণ স্বাদ মতো, তেল আধা কাপ, ঘি।

নানারকম সবজির লাবড়া

পদ্ধতি 

সব সবজি কেটে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। সব সবজি ধরবে এমন আকারের পাত্রে পানি গরম হতে দিন। পানি ফুটে উঠলে কাটা সবজিগুলো দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ভাপিয়ে নিন। অল্প পানিতে ভাপাবেন যেন পানি ফেলতে না হয়। এবার আদাসহ বাকি সব মসলা সবজিতে দিন।

এবার কড়াইতে তেল গরম করে তাতে একে একে শুকনো মরিচ, তেজপাতা, পাঁচ ফোড়ন দিয়ে এক মিনিট নাড়ুন। এরপর ভাপিয়ে নেওয়া সবজিগুলো দিয়ে দুই থেকে তিন মিনিটের জন্য ঢেকে দিন। নামানোর আগে ঘি দিয়ে নেড়েচেড়ে মাখা মাখা হলে পরিবেশন করুন।

সারাবাংলা/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন