রবিবার ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

এপ্রিল জুড়েই থাকবে আবহাওয়ার দ্বৈত আচরণ

এপ্রিল ১০, ২০১৯ | ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ

তুহিন সাইফুল,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,

মার্চ মাস শেষ হয়েছিল আকস্মিক এক কালবৈশাখী ঝড়ে। ঈশান কোনের ঘূর্ণি বায়ুতে সেদিন ভেঙ্গে পড়েছিল অসংখ্য গাছ। প্রাণ হারিয়েছিলেন তিন জন। আহত হয়েছিলেন কমপক্ষে আরও ১৫ জন। ধারণা করা হয়েছিল, এপ্রিলের শুরুটাও বোধহয় এমনই হবে। তবে আবহাওয়ার অপ্রত্যাশিত আচরণে পরের দিনই ঢাকার মানুষ পায় এক রোদ-ঝলমলে রঙিন দিন। সপ্তাহব্যাপী চলে সূর্যের দাপট।

এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে আবারও পাল্টে যায় ‘জল-পরি’র মেজাজ। ৮ তারিখ সারাদিন ধরে আকাশের মুখ ভার থাকলেও, ৯ তারিখ গোটা শহর অন্ধকার করে নামে বৃষ্টি। শুরু হয় ঝড়ও। বৈশাখের শুরুতে আবহাওয়া কিছুটা মেজাজি হয়ে উঠলেও এবারের চিত্র আগের বছরগুলোর থেকেও ভিন্ন। অকাল বোধনে বসন্ত আসার মতো এবার যেন ‘অ-কালবৈশাখী’ আঘাত হানছে জনপদে।

আবহাওয়া বৈরী আচরণ করছে না

আবহাওয়া কি আদৌ বৈরী আচরণ করছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আবহাওয়া ঠিক বৈরী আচরণ করছে তা বলা যাবে না। তবে এবার কালবৈশাখী কিছুটা আগেই শুরু হয়ে গেছে বলা যায়। তাছাড়া বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে দু’টি ঝড় হয়ে যাওয়ার কারণেও এমনটা ভাবছেন অনেকে। আবহাওয়ার আচরণ স্বাভাবিকই আছে বলা যায়।’

এ দুটো ঝড়ই নয়, এ মাসে আরও দু’টি কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ার আশংকা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। যার একটি হতে পারে এই মাসের ১৭ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে যেকোনো সময়ে। অপরটি আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে মাসের শেষে। এছাড়াও পহেলা বৈশাখে রাজধানীতে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, ‘এ মাসে প্রকৃতি দ্বৈত আচরণ করবে। এখন যেমন বৃষ্টি চলছে, সেটা থামলেই আবার তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। আবার পাঁচ-ছয় দিন পর কালবৈশাখী ঝড় শুরু হবে। বৈশাখের পর প্রকৃতির বৈরিতা কিছুটা কমতে পারে। তখন সূর্যের তেজ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টির সম্ভাবনা

এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বজলুর রশীদ। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা এই মাসে দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় শুষ্ক যাবে। আবহাওয়া অফিস বলছে, রংপুর ও রাজশাহীর কোথাও দাবদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সে. হতে পারে।

এপ্রিলের বৃষ্টি প্রসঙ্গে আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঢাকায় ১৩০ থেকে ১৬৫ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৩৫ থেকে ১৭৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৩০ থেকে ১৬৫ মিলিমিটার, সিলেটে ২৬৫ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার, রাজশাহী ৭৫ থেকে ৯৫ মিলিমিটার, রংপুর ৮৫ থেকে ১১০ মিলিমিটার, খুলনায় ৬৫ থেকে ৯০ মিলিমিটার, বরিশাল ১২০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, ঢাকায় আগামী বারো ঘণ্টায় স্বল্পমাত্রায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আগাম বন্যার সম্ভাবনার নেই

ঝড়-বৃষ্টি নিয়মিত হলেও এবার আগাম বন্যার সম্ভাবনার কথা নাকচ করে দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। আবহাওয়াবিদরা সামছুদ্দিন আহমেদ বলেন, এবার বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক, তবে সেটা আগাম বন্যার কারণ হবে না। হাওর অঞ্চলের মানুষেরা এখন ফসল ঘরে তুলবে। সেক্ষেত্রে বন্যা হলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এখন পর্যন্ত তেমনটা হওয়ার কোন সম্ভাবনা আমরা দেখছি না। ফসল উঠানোর পর নদীগুলোতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে আমি দ্রুত ফসল তোলার পরামর্শ দেবো।’

এদিকে গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, এ বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন মানুষ বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। তবে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা সংখ্যাটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন। কারণ, মৃতদের মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন যারা কালবৈশাখীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, পূবালী বাতাসের সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপের মিলনের কারণে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত বজ্রপাতের অনুপাত বাড়তে থাকবে।

সারাবাংলা/টিএস/আরএ

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন