বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বসল দশম স্প্যান, দৃশ্যমান দেড় কিলোমিটার

এপ্রিল ১০, ২০১৯ | ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

পদ্মাসেতু এলাকা থেকে: বসা‌নো হ‌লো পদ্মাসেতুর দশম স্প্যান। দুপুর সা‌ড়ে ১২টায় স্প্যান‌টি বসা‌নো হয় মাঝনদীর ১৩ এবং ১৪ নম্বর পিলারের ওপর। এর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেতুর দেড় কিলোমিটার অংশ।

এর আগে নোঙ্গর করতে জটিলতার মুখে পড়ায় দশম স্প্যানটি পিলারে ওঠাতে কিছুটা দেরি হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় স্প্যান ওঠানোর কাজ। কিন্তু ক্রেন থেকে ফেলা নোঙ্গর বার বার মাটি থেকে ছুটে আসায় পিলারের উপর স্প্যান বসাতে বৈরী পরিস্থিতির মুখে পড়েন প্রকৌশলীরা। প্রায় আড়াই ঘন্টার চেষ্টায় স্প্যানটি পিলারের ওপর পুরোপুরি বসানো সম্ভব হয়।

বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই জটিলতা চলে।

দেখা গেছে, পিয়ারের ঠিক কাছাকাছি মাটি ছেড়ে ছুটে আসছে নোঙ্গর। যে কারণে ক্রেন‌কে টেনে ধরতেও পারে নি নোঙ্গর। এমন পরিস্থিতিতে স্প্যানটি পিয়া‌রের উপর বসানোর ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়েছেন চায়না মেজর ব্রিজ কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলীরা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: পদ্মাসেতুর দশম স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়া শুরু

প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্যে আরও জানা গেছে, আগামী মাসের শুরুতেই আরো একটি স্প্যান বসানো হবে। তার আগে আগামী ২০ এপ্রিল বসবে পদ্মা সেতুর ১১ তম স্প্যান।

এর আগে বুধবার (১০ এপ্রিল) সকালে পদ্মাসেতুর মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেনটি স্প্যান নিয়ে দ্রুত গতিতে ১৩ এবং ১৪ নম্বর পিলারের দিকে এগিয়ে যায়।

আরও পড়ুন- নোঙ্গর জটিলতায় বসতে দেরি হচ্ছে দশম স্প্যান

কুয়াশা কাটলে পিলারের উপর স্প্যান বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করবেন প্রকৌশলীরা। সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্প্যান বসানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

সেতুর প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, ১০টি স্প্যান বসানোর পাশাপাশি সেতুর ২৪৭টি পাইল বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। বাকি ৪৭টি পাইলের মধ্যে ১৫টি পাইলের অর্ধেক বসানো হয়ে গেছে।

পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, পদ্মাসেতুর পিয়ার বা খুঁটি ৪২টি। এর মধ্যে ২২টি খুঁটির নির্মাণ শেষ। আগামী জুন মাসের মধ্যে বাকি আরও ১০টি খুঁটির নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আরও গতিতে স্প্যান বসানো যাবে। প্রতি মাসে দুটি করে স্প্যান বসানো তখন সম্ভব হবে।

সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনের চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং (এমবিইসি) সূত্র জানায়, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মাসেতু গড়তে তাদের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ করতে হয়েছে পদ্মার তলদেশে। তলদেশে মাটির গঠনগত বৈচিত্র্যের কারণে ১১ পিয়ারের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। শুরুর দিকে মাওয়া অংশে কাজ বাদ দিয়ে জাজিরা চলে যেতে হয়েছে। তারপর বছরখানেক পর পুনরায় পিয়ার ডিজাইন হাতে পাওয়ার পর মাওয়া অংশে কাজ শুরু হয়।

সেতুর মাওয়া অংশে ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির পাইল বসাতে গিয়ে দেখা যায়, তলদেশে নরম মাটির স্তর বেশি। যে কারণে পিয়ার তোলা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে, সেই ৬ ও ৭ নম্বর খুঁটির পাইল বসানোর কাজ শেষ।

সারাবাংলা/এসএ/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন