বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের তাগিদ

এপ্রিল ১১, ২০১৯ | ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বর্তমানে রোগসৃষ্টিকারী অনেক জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ নাও করতে পারে, তাই গৃহস্থালি পর্যায় থেকে সবক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন আইসিডিডিআরবির অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট ফসিউল আলম নিজামী।

বুধবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালীতে আন্তর্জাতিক উদারাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআর,বি) সাসাকাওয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন এই বিজ্ঞানী। সেমিনারে আইসিডিডিআর,বি এবং যুক্তরাজ্যের গবেষণা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর (লাফবোরো ইউনিভার্সিটি, ডারহাম ইউনিভার্সিটি, ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটি) পরিচালনায় ‘বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার’ বিষয়ক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সেমিনারে বক্তরা অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ও যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

বক্তারা বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স বিশ্ব স্বাস্থ্যের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। যখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক যা আগে কী না বিশেষ কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল, কিন্তু এখন তা আর কাজ করছে না, তখন তাকে বলা হচ্ছে অ্যান্টিমাইক্রবিয়াল রেজিসটেন্স। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্যে অত্যাবশ্যক কিন্তু অনেক ব্যাকটেরিয়াই এখন অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিসটেন্ট হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পর্কিত গবেষণায় (PAUSE Study) গবেষকরা দেখেছেন যে অসুস্থতার সময় মানুষ কিভাবে নিজেদের এবং তাদের গবাদি পশু-পাখির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করছে।

মানুষ অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে কোথায় যায়, কোন ধরনের অসুস্থতার জন্যে তারা অ্যান্টিবায়োটিক খোঁজে এবং অ্যান্টিবায়োটিক কিভাবে কাজ করে এ বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়। এই গবেষণায়  প্রশিক্ষিত ডাক্তার (এমবিবিএস) এবং পশুচিকিৎসক হতে শুরু করে ঔষধের দোকানদারসহ মোট ৪৬ জন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর (গ্রাম ও শহর মিলিয়ে) সাক্ষাতকার নেওয়া হয়, যেখানে জানার চেষ্টা করা হয় যে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও বিতরণের (ডিসপেন্স) ক্ষেত্রে কী কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

এছাড়া এই গবেষণায় ৪৮টি খানাভিত্তিক সাক্ষাতকারও নেওয়া হয়।

এই ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষক দলটি অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ বিক্রি (ডিসপেন্স) ও গ্রহণ করার বিষয়ে কিছু সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তন বিষয়ক কৌশল নির্ধারণ করেছে। এই গবেষণাটি ‘বাংলাদেশ মডেল ফার্মেসি ইনিশিয়েটিভ’ এর মতোই অ্যান্টিবায়োটিকের উন্নত ব্যবহার বিষয়ক জাতীয় নীতিমালা সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

সেমিনারে ওয়াশিংটন স্টেট ইউভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও আইসিডিডিআরবির এডজাঙ্কট সায়েন্টিস্ট ড. আমিনুল ইসলাম ও যুক্তরাজ্যের লাফবোরো ইউনির্ভাসিটির ড. এমিলি রউশাম অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসটেন্স বিষয়ক সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।

আইসিডিডিআর,বি-র মো. রফি উদ্দিন গৃহস্থালী পর্যায়ে পরিবারের সদস্যসমূহ এবং তাদের গবাদি পশুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। যুক্তরাজ্যের সাসেক্স ইউনিভার্সিটির ড. পাপরিন নাহার অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালসের বিক্রয় বিষয়ে প্রশিক্ষিত এবং অপ্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক (ডা.) আবুল কালাম আজাদ ও ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন।

সারাবাংলা/জেএ/এসএমএন

অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের তাগিদ
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন