বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৩ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

দুই মায়ের ডিম্বাণু থেকে এক সন্তান

এপ্রিল ১৫, ২০১৯ | ১০:২১ অপরাহ্ণ

বিচিত্রা ডেস্ক

বিশ্বে প্রথমবারের মতো দুই নারীর ডিম্বাণু ও এক পুরুষের শুক্রাণুর মিলনে গঠিত ভ্রুণ থেকে শিশুর জন্ম দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে গ্রিস ও স্পেনের চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গত ৯ এপ্রিল এই শিশুর জন্ম হয়েছে।

জন্ম নেওয়া শিশুটির ওজন দুই দশমিক ৯ কেজি। চিকিৎসকরা জানিয়েছে, শিশু ও তার জন্মদাত্রী মা দুজনেই সুস্থ আছেন।

চিকিৎসকরা পরীক্ষামূলকভাবে আইভিএফ পদ্ধতি ব্যবহার করে দুজন নারীর ডিম্বাণু ও একজন পুরুষের শুক্রাণুর সমন্বয় ঘটিয়ে প্রক্রিয়াটি সফল করেন। তারা জানান, এই ঘটনায় চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে। এতে করে বিশ্বজুড়ে অনুর্বর নারীরাও গর্ভধারণে সক্ষম হবেন।

প্রাথমিকভাবে মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগে আক্রান্ত পরিবারকে সহায়তা করতে আইভিএফ পদ্ধতি চালু করা হয়। কেন না, প্রাণঘাতী এই রোগ বংশানুক্রমে মা থেকে শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

তবে এই প্রক্রিয়ার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্যের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অনুচিত।

কয়েকজন চিকিৎসকের বিশ্বাস, এই প্রযুক্তিতে আইভিএফ-এর উপযোগিতাও ফুটে ওঠে। তারা বলেন, পুরো বিষয়টি হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া কেন্দ্রিক। এগুলো হচ্ছে শরীরের প্রতিটি কোষের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র কম্পার্টমেন্ট। এরা খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করে। মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ হলে, তারা অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই কোনো মায়ের ডিএনএর সঙ্গে  কোনো দাতা নারীর ডিএনএর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

গ্রিসে যে নারীর ওপর আইভিএফ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে তার বয়স ৩২ বছর। তিনি আইভিএফ-এর চারটি ব্যর্থ প্রক্রিয়া সহ্য করার পর পঞ্চমবার গর্ভধারণে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু তার গর্ভে জন্ম নেওয়া ছেলে সন্তানটির শরীরে তার নিজের মাইটোকন্ড্রিয়া সম্বলিত ডিএনএর পাশাপাশি অন্য একজন নারীর অল্প পরিমাণ ডিএনএও রয়েছে।

ইনস্টিটিউট অব লাইফ ইন এথেন্স-এর প্রেসিডেন্ট ড. প্যানাজিয়োটিস পিসাথাস বলেন, একজন নারীর নিজের জেনেটিক উপকরণ দিয়ে মা হওয়ার যে অধিকার তা আজ বাস্তবে পরিণত হল। আমরা এখন এমন একটি অবস্থানে আছি যে, একাধিকবার আইভিএফ ব্যবহার করে ব্যর্থ হওয়া বা বিরল মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগে আক্রান্ত নারীরাও এখন থেকে সুস্থ সন্তান জন্ম দিতে পারবেন।

এই প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা গ্রিক ও স্প্যানিশ চিকিৎসকদের দলটি জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক এই প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদানের জন্য আরও ২৪ জন নারী প্রস্তুত রয়েছেন।

সারাবাংলা/আরএ

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন