বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

জালিয়াতের পক্ষে স্ট্যাটাস, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেল ঢাবি শিক্ষার্থী

এপ্রিল ১২, ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ সেশনে জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছিলেন এক শিক্ষার্থী। যাদের মাধ্যমে সে ভর্তি হয়েছিল তারা সিআইডির হাতে গ্রেফতারের পর আদালতে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে। কিন্তু সেই শিক্ষার্থীর পক্ষ নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন আরেক শিক্ষার্থী।

মাহফুজ চৌধুরী নামের ওই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সাইয়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সে মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য।

মাহফুজ গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের একটি গ্রুপে সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানকে নিয়ে আপত্তিকর একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি সেটি মুছেও ফেলেন।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা যায়, জালয়াতির মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঘটনায় অভিযুক্ত সুবহা লিয়ানা তালুকদারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে মাহফুজের। লিয়ানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ সেশনে জালিয়াতির মাধ্যমে আইন বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি পরীক্ষায় ‘ডি ইউনিট’ থেকে তিনি দ্বিতীয় হয়েছিলেন। পরে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে যে তিনি (লিয়ানা) ডিজিটাল জালিয়াতি করে ঢাবিতে ভর্তি হয়েছেন। অনুসন্ধানেও এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডির একটি সূত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গতকাল বুধবার ‘স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ এর নামে ফেসবুকের একটি গ্রুপে লিয়ানা জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছেন এবং তার ভর্তি বাতিল চেয়ে পোস্ট করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাহফুজ একই গ্রুপে জালিয়াতি নিয়ে রিপোর্ট করা সাংবাদিককে নিয়ে আপত্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেন।

সেই আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য মাহফুজ চৌধুরীকে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত সাড়ে আটটার দিকে সিআইডি কার্যালয়ে ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মাহফুজ চৌধুরী নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে যাচাই না করে কোনো বক্তব্য উপস্থাপন করবেন না এই মর্মে মুচলেকা দেন। এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মাহফুজ চৌধুরী সারাবাংলার কাছে সিআইডির নিকট মুচলেকা দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করেছেন। এরপর নিজের ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘গতরাতে চ্যানেল ২৪ এর প্রতিবেদন নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলাম। সেটি তথ্য যাচাই না করেই লিখেছিলাম। তার জন্য আমি অনুতপ্ত ও ক্ষমাপ্রার্থী। তথ্য যাচাই না করে মন্তব্য না করার অনুরোধ রইল।’

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতির ঘটনার মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। শিগগিরই আদালতে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

সারাবাংলা/কেকে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন