বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বৈশাখী চাহিদায় থামছে না জাটকা নিধন

এপ্রিল ১২, ২০১৯ | ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা বেড়েছে। বাড়তি চাহিদা ও আকাশচুম্বী দামকে পুঁজি করে বাজারে বেড়েছে জাটকার সরবরাহ। গত কয়েকদিনে রাজধানীতে বেশ কয়েক টন জাটকা জব্দ করা হয়েছে। ছোট-বড় বাজারেই অহরহ জাটকার দেখা মিলছে। এমন পরিস্থিতিতে জাটকা নিধন রোধকল্পে অভিযানে প্রায় ব্যর্থ হয়ে জাটকা খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে মৎস্য অধিদফতর। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারাও এখন স্বীকার করছেন ‘পান্তা-ইলিশ বাঙালির কোনো ঐতিহ্য নয়।’

জানতে চাইলে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক সারাবাংলাকে বলেন, ‘বৈশাখে ইলিশ খাওয়া কোনোদিনই বাঙালির ঐতিহ্য নয়। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে একশ্রেণির লোক এটিকে প্রথা বানিয়েছেন। তারা আভিজাত্য আনার চেষ্টা করেছে। ইলিশের চাহিদা বাড়ায় জেলেরা ফাঁক-ফোকর দিয়ে নদীতে নামছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সরাসরি কাউকে ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলতে পারি না। কিন্তু আমরা বলছি, জাটকা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।’

সারাবাংলার এক প্রশ্নের উত্তরে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘জাটকা নিধন রোধে সারাদেশেই আমাদের অভিযান চলছে। শুধু ঢাকাতেই ১০টি টিম কাজ করছে। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী থেকে ১০ টন জাটকা জব্দ করেছি। মানুষ জাটকা খাওয়া থেকে বিরত থাকলে এবং আরও সচেতন হলে দেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, এক যুগ আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা ১২৫টি উপজেলার নদ-নদীতে বিস্তৃত হয়েছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড় ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রচার-প্রচারণা, জেলেদের প্রণোদনাসহ সমন্বিত উদ্যোগে দেশে প্রতিবছরই বাড়ছে ইলিশের উৎপাদন।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্যমতে, সর্বশেষ অর্থবছরে (২০১৭-১৮) দেশে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। এর আগে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার টন। এক যুগের কম সময়ে দেশে ইলিশের উৎপাদন ৭৬ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি মৎস্য অধিদফতরের।

মৎস্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুধু ইলিশকে কেন্দ্র করে দেশে জেলের সংখ্যা ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ। আর মৌসুমি জেলের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লাখ। ফলে ব্যাপক অভিযানের পরও অনেক ক্ষেত্রে জাটকা নিধন সম্ভব হয় না।

এদিকে, জাটকা নিধন রোধে সারাদেশ ব্যাপকহারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুম অক্টোবর মাসের ২২ দিন নদীতে সব ধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। মার্চ-এপ্রিলেও ২ মাস নদীতে জাল ফেলা নিষিদ্ধ থাকে ইলিশ প্রধান অঞ্চলে। এ সময় ধরেই সারাদেশে অভিযান পরিচালতি হয়।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্যমতে, জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রমের আওয়াতায় নভেম্বর থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৮ হাজার ৭০৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ সময়ে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের সংখ্যা ১ হাজার ৫১৬টি। জব্দ জাটকার পরিমাণ ১৮৬ টন। জাটকার সঙ্গে জব্দ হয়েছে ১৯ টন অন্য মাছও। বছরটিতে এখন পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছে ৭৯২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। জাটকা ধরায় মামলা হয়েছে ৯৮৩টি। জেল হয়েছে ৭৯১ জন জেলের। তারপরও থামেনি জাটকা নিধন।

জানতে চাইলে মৎস্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাসুদ আরা মমি সারাবাংলাকে বলেন, ‘জাটকা নিধন রোধে সারাদেশে ব্যাপকভাবে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু বৈশাখকে সামনে রেখে চাহিদা তৈরি হওয়ায় অনেকেই নদীতে যায়। পহেলা বৈশাখে আমরা যেন ইলিশ মাছ না খাই সে ব্যাপারেও প্রচারণা চলছে। যদি আমরা বিরত থাকি তবে ইলিশের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়বে।’

মাসুদ আরা মমি আরও বলেন, ‘২৫ লাখ জেলেকে আমরা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করব? দেখা গেল, মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা দুপুরের খাবার খেতে গেল। তখনই জেলেরা নদীতে নেমে যাচ্ছে। তাই জাটকা খাওয়া থেকে সাধারণ মানুষকেও বিরত থাকতে হবে।’

সারাবাংলা/ইএইচটি/একে/আপ-এমও

বৈশাখী চাহিদায় থামছে না জাটকা নিধন
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন