বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

মুজিব স্মারকগ্রন্থ সমৃদ্ধ করতে লেখা আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

এপ্রিল ১৩, ২০১৯ | ২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নৃপেন রায়, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লিখতে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষ উদযাপনে স্মারকগ্রন্থ সমৃদ্ধ করতে এ লেখা আহ্বান করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে ‘মুজিববর্ষ’ পালনে কি কি কর্মসূচি গ্রহণ করে করা যায় সে বিষয়েও পরামর্শ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে আগামী ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এই মুজিববর্ষ পালিত হবে। এরইমধ্যে জাতীয় ও সরকারিভাবে দু’টি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক সূত্র জানায়, শুরুতেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা মুজিববর্ষ উদযাপন নিয়ে নিজের চিন্তা-চেতনার কথা তুলে ধরেন। উপদেষ্টা পরিষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষে সারাবছর অনুষ্ঠান হবে। আলোচনা সভা হবে, সেমিনার হবে। দেশি ও বিদেশি কবি, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ও কূটনৈতিকদের কাছে লেখা আহ্বান করে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোও বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে মুজিববর্ষ পালন করবে। ইতোমধ্যে জাতীয় উদযাপন কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটিসহ কিছু উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সামনে আরও কিছু উপ কমিটি গঠন করা হবে।’

এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি উপস্থিত সদস্যদের কাছ থেকে মুজিববর্ষ পালনে পরামর্শ ও করণীয় বিষয়ে মতামত জানতে চান। বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি জাতির পিতাকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের সূত্র ধরে উপদেষ্টা পরিষদের এক সদস্য বলেন, ‘আপনি (তোফায়েল) নিজেই ইতিহাস। কাজেই আপনিসহ যারা বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছেন সেসব স্মৃতি ও ঘটনা নিয়ে আপনারা লেখেন। আপনাদের অনেক স্মৃতি আছে। আপনারা লিখলে বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে। যদিও আপনারা বক্তব্য দিতে অভ্যস্ত এবং পছন্দ করেন তারপরও এগুলো নিয়ে আপনাদের লেখা উচিত।’

এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওই উপদেষ্টা সদস্যকে লেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারাও লিখুন।’ জবাবে ওই সদস্য বলেন, ‘আমরা লিখলে তো হবে না, যাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জড়িত তারা লিখলে জাতির পিতার ইতিহাস সমৃদ্ধ হবে।’

এসময় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যের কয়েকজন, সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাওয়া তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ বিশিষ্টজন, যারা জাতির পিতার স্নেহ পেয়েছেন, নানা ধরনের স্মৃতি বহন করছেন তাদের বক্তব্য রেকর্ডিং করারও পরামর্শ দেন। পরে এগুলো লেখা আকারে প্রকাশেরও আহ্বান জানান। এছাড়াও ডকুমেন্টারি করে প্রকাশ করার পরামর্শও দেন ওই সদস্য।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা মুজিববর্ষ পালনে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ভিত্তিক চিন্তা-ভাবনা ও দর্শন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিনারের পরামর্শ দেন। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষাভাবনা কেমন ছিল, বিজ্ঞান ভাবনা কেমন ছিল, সংস্কৃতি ভাবনা কেমন, রাজনীতি ভাবনা কেমন ছিল প্রভৃতি বিষয়ের ওপর সেমিনারগুলো হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনায় এসব বিষয়ে সম্মতি দেন।

সূত্র জানায়, দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তওফিক ইমাম সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে কথা তোলেন। তিনি আওয়ামী লীগে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিচ্ছে বলে সভায় উল্লেখ করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি সে বিষয়ে কোনো কথা না বলে মুজিববর্ষ পালনে উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা বঙ্গবন্ধুর ওপরে লিখুন। যার যতটুকু জানা আছে, স্মৃতি আছে তা নিয়ে লিখুন। আমরা দেশে ব্যাপক পরিসরে মুজিববর্ষ উদযাপন করতে চাই।’

এজন্য আগামী ১৯ এপ্রিল বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বৈঠকের বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধাননমন্ত্রী আমাদেরকে মুজিববর্ষ উদযাপনে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে লেখার পরামর্শ দিয়েছেন। যারা বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পেয়েছে, এগুলোর স্মৃতি ও ঘটনা নিয়ে লেখার কথা বলেছেন। এসব লেখাসহ দেশি-বিদেশি লেখক, কবি-সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদদের লেখা নিয়ে মুজিববর্ষে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হবে।’

এর আগে, সভার সূচনা বক্তব্যে উপদেষ্টা পরিষেদের বৈঠকের কার্যসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বিষয়ে আলোচনা করব। আমরা একটা জাতীয় কমিটিও করে দিয়েছি এবং সেখানে কিছু সাব-কমিটিও হবে। আমি একটা অফিসও ঠিক করে দিয়েছি সরকারিভাবে। বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও প্রতিটি ইউনিট, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কর্মসূচি নেওয়া হবে।’

বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, এইচ টি ইমাম, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রফেসর ড. আব্দুল খালেদ, মির্জা এম জলিল, প্রফেসর হামিদা বানু, মুকুল বোস, অ্যাম্বাসেডর জমির, ড. মশিউর রহমান, মহীউদ্দিন খান আলমগীর, প্রফেসর ড. অনুপম সেন, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট রেজাউর রশিদ খান, আব্দুল বাসেত মজুমদার, মকবুল হোসেনসহ অন্যরা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ দফতর ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

সারাবাংলা/এনআর/এমও

মুজিব স্মারকগ্রন্থ সমৃদ্ধ করতে লেখা আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন