শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

কাগজশিল্পের উন্নতি তুলে ধরছে পেপটেক এক্সপো

এপ্রিল ১৩, ২০১৯ | ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের কাগজশিল্পের উন্নতির চিত্র দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে ঢাকায় শুরু হয়েছে পেপটেক এক্সপো। রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী শেষ হবে শনিবার (১৩ এপ্রিল)।

এক্সপোর আয়োজকরা জানালেন, বই ছাপার আর কোন অর্ডার এখন আর দেশের বাইরে যায় না। কোটি কোটি বই দেশেই ছাপা হচ্ছে। সেই বই বছরের প্রথম দিন শিশু কিশোরদের হাতে পৌঁছে যায়। অথচ বছর তিনেক আগেও ভারত ও চীনে চলে যেত বই ছাপার অর্ডার।

দেশে মোট ১০৬টি কাগজ তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ৭০টির মত প্রতিষ্ঠান দিন রাত কাগজ তৈরি করছে। পুরনো এসব কাগজ তৈরির প্রতিষ্ঠান এবং এ শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহী করে তুলতে ঢাকায় চলছে আন্তর্জাতিক পেপটেক এক্সপো।

প্রায় ২০ বছর ধরে এই শিল্পে নিজেকে পাকাপোক্ত করেছেন লিনা গ্রপের জেনারেল ম্যানেজার পাথ সাহা। দেশে প্রথম অটোমেশন পদ্ধতির কাগজ তৈরি হয়েছে লিনায়। এ নিয়ে তিনি বলছিলেন, কাগজ শিল্পে দেশে নিরব বিপ্লব হয়েছে। এখন দেশে উন্নত মানের যে কাগজ তৈরি হচ্ছে তা দিয়ে পাঠ্যপুস্তক তৈরি হচ্ছে। হাজার হাজার কোরআন শরিফ ছাপা হচ্ছে। অথচ কয়েক বছর আগেও বিদেশ থেকে কাগজ আনতে হয়।

বিজ্ঞাপন

কাগজ কারখানার প্রযুক্তি সরবরাহ করে এমআরবিডি পেপটেক লিমেটেড। তাদের দেওয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করছে দেশের বড় বড় কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, মেঘনা, বসুন্ধরা, পারটেক্স ও লিনাসহ অধিকাংশ পেপার মিলস।

এমআরবিডি পেপটেক চেয়ারম্যান মনজিল হোসাইন খান জানান, কাগজ তৈরিতে এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির চাহিদা থাকে বেশি। একমাত্র তার প্রতিষ্ঠান এমআরবিডি বিদুৎ সাশ্রয়ী এবং সবশেষ প্রযু্ক্তি সরবরাহ করে। আগে পেপারমিলগুলোতে আলাদা আলাদা যন্ত্রপাতি দিলেও এখন একটি পেপার ইন্ড্রাস্ট্রির সব যন্ত্রপাতি তারাই দিচ্ছেন। ওয়ানস্টপ সল্যুশন হিসেবে তাদের কাজ শুরু হয়েছে।

পেপার মিলসের জন্য বিভিন্ন ধরনের পাম্প, মোটর, গ্যাস সিলিন্ডার, পালপার, হেডবক্সসহ সব ধরণের যন্ত্রপাতি এনে দেয় এমআরবিডি। এছাড়া সিমেন্সের বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। জার্মানির সিমেন্স কোম্পানি অটোমেশনের যত ধরণের প্রযু্ক্তি আছে তা বাংলাদেশে নিয়ে আসছেন বলেও জানান মনজিল হোসাইন খান।

এমআরবিডি পেপটেকের মত বহু প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। যারা দেশের কাগজ শিল্পের প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। ফলে এই শিল্পের যে সম্ভাবনা রয়েছে তা নতুনদের আগ্রহী করে তুলছে।

একটি ব্যবসায়ি গ্রুপের পরিচালক আরিফ আহমেদ সারাবাংলাকে জানান, তার অনেক দিনের স্বপ্ন টিস্যু পেপার এবং ডায়াপার জাতীয় পণ্যের ব্যবসা করার। এই মেলায় অনেক প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার তিনি প্রযু্ক্তিগুলো এক সঙ্গে দেখে বাছাই করার সুযোগ পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তিনি দেখছেন সাশ্রয়ী মেশিনারিজ।

আরিফ বলেন, দেশে যেভাবে শিশুদের ডায়াপার, টিস্যুর চাহিদা বাড়ছে। তাতে এ খাতে বিনিয়োগ করলে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে বলে তার মনে হচ্ছে। এজন্য চীনে গিয়ে প্রযুক্তি দেখে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে মেলায় বহু দেশের প্রযুক্তি সরবরাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে পাওয়ায় তার সুবিধা হয়েছে। এখানেই তিনি বিষয়টি বুঝে নিতে পারছেন।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) মেলা ঘুরে দেখা গেল, বিশ্বের ১৭টি দেশের ১৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে  অংশ নিয়েছে। তারা পাল্প, পেপার, পেপার তৈরির মেশিনারিজ, প্যাকেজিং, কনভার্টিং ও কেমিক্যালসহ কাগজ উৎপাদন-সংক্রান্ত উপকরণ প্রদর্শন করছে। আবার মেলা থেকে নতুন অর্ডারও পাচ্ছেন অনেকে।

সারাবাংলা/এসএ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন