শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ২ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ইঁদুর মারিবার আগে . . .

এপ্রিল ১৩, ২০১৯ | ৩:৩৭ অপরাহ্ণ

পলাশ মাহবুব

বাসায় সবকিছু সহ্য করা যায়। একমাত্র ইঁদুর বাদে।
সেই ইঁদুর-ই দেখা গেলো বাসায়। খুব খারাপ জাতের ইঁদুর। ভালো বংশের ইঁদুরের মানুষের প্রতি সম্মান আছে। দেখলে পালিয়ে যায়। এই ইঁদুর খারাপেরও খারাপ। পালানো তো দূরে থাক উল্টো চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে থাকে। তেড়ে গেলে খানিকটা সরে। তারপর আবার তাকিয়ে থাকে। একা আসলে কথা ছিলো। এই ইঁদুর পুরো ফ্যামিলি নিয়ে চলে এসেছে। ফ্যামিলি আবার প্ল্যানিং ছাড়া। বাচ্চা-কাচ্চার সংখ্যা হালির ওপরে।
শুধু মানুষ না, দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিও এই ইঁদুরের কোনও সম্মান নেই। রাষ্ট্র বলেছে, দুটির বেশি সন্তান নয়/ একটি হলে ভালো হয়। কার কথা কে শোনে।
ইঁদুরের হাতে বাসা বেদখল হওয়ার দশা। ঘুমাই ফ্লোরে। রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে কি না কি করে বসে। যে ইঁদুর চোখ পাকিয়ে তাকাতে পারে, সে ইঁদুরকে কোনও বিশ্বাস নাই।
মহা টেনশন।
কি করা যায়, কি করা যায়?
একজনকে ফোন দিলাম।
তিনি বললেন, টেনশন করে লাভ নাই। দৌড় দিয়ে দোকানে যান। এক প্যাকেট ল্যানিরাট কিনা নিয়া আসেন। তারপর ইঁদুরের বংশ ল্যানিরাট দিয়ে করুন ধ্বংস।
বললাম, হবেনা।
ক্যান ভাই! ল্যানিরাটের কি সমস্যা?
ওটার কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা আমার। দোকানে গিয়ে ওই নামটা উচ্চারণ করতে পারবো না। আমার ‘ল’-এ সমস্যা।
ওইটা কোনও সমস্যা হইলো নাকি! দোকানে গিয়া বলবেন ইন্দুর মারার জিনিস দ্যান। দেখবেন ল্যানির‌্যাট নিয়া হাজির। এক নম্বর জিনিস। বানাইছে ইন্দুরের লাইগ্যা কিন্তু খাইলে মানুষও মরে।
বলো কি!
হ, ভাই।

দোকানে গিয়ে ল্যানিরাট পাওয়া গেলো না। দোকানদার আরেকটা প্যাকেটা নিয়ে হাজির।
বললাম, এইটা নাতো। ওইটা দেন।
ওইটা আবার কোনটা!
অবাক হয়ে জানতে চায় দোকানি।
আরে ওই যে ওইটা। ইঁদুরের বংশ ওইটা দিয়া করুন ধ্বংস। বলে না . . . সেইটা দেন।
দোকানদার আমার কথা বোঝে না। সে দোকানের সব ইঁদুর মারার ওষুধ এনে হাজির করে।
নাহ। একটাও ওইটা না।
দোকানদার এবার বিরক্ত।
এক কাজ করেন তাইলে, ওষুধের দোকানে যান। ওইখানে আপনার ওইটা পাইতে পারেন।
আমার ওইটা মানে!
দোকানদার হাসে।
বুঝলাম ইয়ার্কি করছে। এটা বাড়তে দেয়া যাবে না। কয়েকটা প্যাকেটের মধ্য থেকে একটা নিলাম।
ফিনিশ রাট কিলার।
দোকানি বললো, ফিনিশ- এইটা একটা জিনিস। দিন অথবা রাইত/ ইন্দুর জায়গায় খাইবো, জায়গায় কাইত।
কথার তালে তালে দোকানি তার শরীর কিছুটা কাত করে।
একটুকু কাইত হলে তো চলবে না। পুরা কাইত হতে হবে।
আরে আমি মানুষ বইল্যা অল্প কাইত হইছি। ইন্দুর তো পুরা ফ্লোরিং হইয়া যাইবো। তবে . . .
আবার তবে কিসের? এইটা কি মোবাইল কোম্পানির প্রোডাক্ট নাকি। শর্ত প্রযোজ্য।
দোকানি আমার কথায় কান দেয় না।
তবে. . .খুব সাবধান। ইহা বিষ সমতুল্য। ব্যবহারের আগে নিয়ম-কানুন ঝারা মুখস্থ কইরা ফালাইবেন। নাইলে ইন্দুরের বদলে আপনি-ই ক্যাক খাইয়া যাইবেন।
এবার আগের চাইতে বেশি কাত হয় দোকানদার।
আমি দ্রুত ব্যবহার বিধি পড়তে শুরু করি।
সেটা আরও ভয়ংকর। ইঁদুর মারার জন্য দানাদার ওষুধ ছিটিয়ে রাখার পর যেগুলো ইঁদুর খাবেনা সেগুলোকে এক ফুট মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে বলা হয়েছে।
পুরো এক ফুট!
জ্বি।
দোকানদার হাত ভাঁজ করে এক ফুট মেপে দেখায়।
ইহা ভয়াবহ বিষ। ঊনিশ-বিশ করা যাবে না একদম।
পড়লাম মহাবিপদে।
বলালাম, আমার বাসার আশেপাশে তো মাটি নেই। সব রাস্তা। মাটি পাবো কই?
দোকানদার এবার একগাল হেসে বললো, তাইলে রাস্তাই খুঁড়বেন। ইটের রাস্তা আধা ফিট খুঁড়লেই চলবো।
সঙ্গে এক বড় ভাই ছিলেন। তিনি আবার নিয়ম মানার মাস্টার। ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল দেয়ার আগে দাঁড়িয়ে যাওয়া মানুষ।
তিনি বললেন, রাস্তা যে খুঁড়বা সমস্যা কিন্তু সেখানেও আছে।
ওইখানেও সমস্যা! কি?
রাস্তা-ঘাট সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি। খোঁড়ার আগে প্রোপার অথরিটির অনুমতি লাগবে।
অনুমতি!
হমম। মেয়র মহোদয় বরাবর দরখাস্ত করতে হবে। কি কারণে কতটুকু খুঁড়তে চাও ডিটেলস লিখে অনুমতি নিতে হবে। তার আগে কোপ দিছো তো মরছো। এখনকার মেয়র খুব কড়া। জানোই তো।
বলেন কি ভাই! তাইলে তো সমস্যা আরও একটা আছে।
আর কি সমস্যা!
আমি তো উত্তর-দক্ষিন কিছুই বুঝি না।
কিসের উত্তর-দক্ষিন?
সিটি কর্পোরেশনের।
মানে!
মানে, আমার বাসা দুই সিটি কর্পোরেশনের বর্ডারে। আমি আসলে কোন সিটি কর্পোরেশনের আন্ডারে সেইটাই এখনো জানি না।
তাইলে তোমার দুইটা দরখাস্ত করতে হবে। দুই মেয়রের কাছ থিকাই অনুমতি নিয়া রাখা ভালো।
থাক ভাই। দরকার নাই। তারচে বরং ইঁদুরের কাছেই হাতজোড় করি। হাতজোড় করে বলবো, বাসায় থাকছিস, থাক। কিন্তু কামড়াইস না।

সারাবাংলা/পিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন