বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ইং , ১২ বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৮ শাবান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

যে ঘটনায় না ফেরার দেশে ৯৬ লিভারপুল সমর্থক

এপ্রিল ১৫, ২০১৯ | ৫:১৩ অপরাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম বড় ট্রাজেডি ‘হিলসবোরো ট্রাজেডি’। ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল খেলা দেখতে এসে পদদলিত হয়ে মারা যান ইংলিশ ক্লাব লিভারপুলের ৯৪ জন সমর্থক। পরে আরও দুজন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। হিলসবোরো স্টেডিয়ামের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ৭৬৬ জন।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৬ সালে ন্যায় বিচার পেয়েছিলেন নিহত ৯৬ লিভারপুল সমর্থকের পরিবার। ২৬ বছর পর কর্তৃপক্ষের ভুলের কথা জানায় যুক্তরাজ্য সরকার। ওই ঘটনাকে ‘বেআইনী হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেন যুক্তরাজ্যের ওয়ারিংটনের আদালত। আদালতের রায়ে বলা হয়, ৯৬ জনের মৃত্যু আসলে নিছক দুর্ঘটনা নয়। এর দায় আসলে কর্তৃপক্ষের। পুলিশের অব্যবস্থাপনাই এ হত্যাকান্ডের প্লট তৈরি করে। ম্যাচ কমান্ডার সুপ্ট ডেভিড ডাকেনফিল্ড তার দায়িত্বে অবহেলা করেছিলেন এবং ভক্তদের কথা সঠিকভাবে চিন্তা করেনি।

এই দিনে (১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের হিলসবোরো স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ চলছিল। ম্যাচের নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে হিলসবোরো স্টেডিয়ামকে বেছে নেওয়া হয়। যেখানে লিভারপুল মুখোমুখি হয় নটিংহ্যাম ফরেস্টের। দুই দলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ এড়াতে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভাগ করে দেয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

খেলা শুরুর ১৫ মিনিট আগেই লিভারপুলের সমর্থকদের লিপিংস লেন প্রান্তে বসার কথা ছিল। খেলা শুরু হবার কথা ছিল দুপুর ৩ তিনটায়। আড়াইটার পর থেকে সমর্থকদের বড় একটি অংশ নিজেদের নির্ধারিত জায়গায় জড়ো হতে থাকেন। প্রায় ৫০০০ সমর্থক স্টেডিয়ামে প্রবেশের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। সমর্থকদের সামাল দিতে পুলিশ বের হওয়ার জন্য (এক্সিট গেট) নির্দেশিত গেট খুলে দেয়। এই স্ট্যান্ডে প্রবেশের একটি মাত্র পথ থাকায় ক্রমেই ভিড় বাড়তে থাকে। ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ। সরু পথে হাজার হাজার সমর্থকের একসঙ্গে ঢোকার জন্য অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়ামে কোনো এক অজানা কারণে নিরাপত্তাকর্মীরা বের হয়ে যান। এরই মধ্যে খেলা শুরু হয়ে যায়। যে পথ দিয়ে স্টেডিয়ামের নির্ধারিত অংশে যাওয়া যেত, গ্যালারির ঐ অংশগুলো পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল আগেই। কিন্তু, ঐ পথ দিয়ে যারা ভিতরে ঢুকছেন তাদের সেটা জানা ছিল না!

ম্যাচের উত্তেজনায় স্টেডিয়ামে কিছুটা সমস্যা হলে রেফারি ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে খেলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। দুর্ঘটনা এড়াতে অনেকে স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি ডিঙিয়ে বের হয়ে যেতে থাকেন। স্টেডিয়ামের সব এক্সিট গেট খুলে দেওয়া হয়। হুড়োহুড়িতে অনেকেই পায়ের নিচে পড়তে থাকেন। দম আটকে অনেকে দাঁড়ানো অবস্থাতেই মারা যান। পুলিশের চরম অদক্ষতায় আহতরা মাঠে ঢুকে লুটিয়ে পড়েন। পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ার মতোই একের পর এক অলরেডস সমর্থক নিচে পড়তে থাকেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অনেকের।

মোট ৯৪ জন ঐদিন মারা যান। ঘটনার চার দিন পর ১৪ বছর বয়সী লি নিকোল হাসপাতালে মারা গেলে মৃতের সংখ্যা উন্নীত হয় ৯৫ জনে। চার বছর কোমায় থাকার পর ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে টনি ব্লান্ড মারা গেলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৬। এ ঘটনাকে মেনে নিতে পারেননি সারাবিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। এই ঘটনার স্মরণে হিলসবোরো স্টেডিয়ামে ১৯৯৯ সালে স্মরনিকা স্থাপন করা হয়।

ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে অন্যতম বেদনাদায়ক হিসেবে এই দিনটিকে মনে করা হয়। যেটি পরবর্তীকালে পরিচিতি পায় ‘হিলসবোরো ট্রাজেডি’ নামে। ঘটনার তদন্ত কমিটি টেইলর রিপোর্ট প্রকাশ করে যাতে প্রধান কারণ হিসেবে পুলিশি নিয়ন্ত্রণের অভাবকেই দায়ী করা হয়। উঠে আসে ইংল্যান্ডের তৎকালীন অনেক স্টেডিয়ামের সমস্যার কথা। সেই ঘটনার পর ইংল্যান্ডের ফুটবল স্টেডিয়ামে ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

সারাবাংলা/এমআরপি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন