বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৩ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘কোথাও প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেব না’

এপ্রিল ১৫, ২০১৯ | ৯:২৪ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম শহরের কোথাও প্রকাশ্যে ধূমপান করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ‘সকলের অংশগ্রহণে নিশ্চিত হোক তামাকমুক্ত চট্টগ্রাম নগরী’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক প্রচারাভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন বিটা, ইলমা ও ক্যাব টিমু। এতে ‘পিপলস জুবিলান্ট অ্যানগেজমেন্ট ফর টোব্যাকো ফ্রি চিটাগং সিটি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বিটার কর্মসূচি ব্যবস্থাপক প্রদীপ আচার্য।

অনুষ্ঠানে মেয়র নাছির উদ্দীন বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের কোথাও প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেব না, নির্দিষ্ট জায়গা ব্যতীত ধূমপান করা যাবে না। এটা যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই করবো এবং আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবো।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি নানা কারণে এখন আন্তর্জাতিক মানের। এটা করতে পারলে শুধু দেশের নয় চট্টগ্রামের পরিচিতিও সারাবিশ্বে বাড়বে।’

মেয়র বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় কোনো পান-সিগারেটের দোকান থাকবে না। নির্দিষ্ট কর্নার করা হবে যেখানে গিয়ে ধূমপায়ীরা ধূমপান করবে।’

এ সময় সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুল-কলেজের একশ গজের মধ্যে সব পান-সিগারেটের দোকান বন্ধ করে দেবেন বলেও ঘোষণা দেন মেয়র।

তিনি বলেন, ‘এ শহর থেকে আমি বিলবোর্ড উচ্ছেদ করেছি। এটাও আমি পারবো। আমি পান-সিগারেট খাই না, তাই এই নৈতিক শক্তি আমার আছে।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘কিশোর-তরুণদের নিরাপদ রাখতে পারলে জাতি এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবে। প্রত্যেক অফিস ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে। টাকার বিনিময়ে ধূমপান করার জন্য নগরীর বিভিন্নস্থানে স্মোকিং জোন করা যেতে পারে।’

অনুষ্ঠানে বিটা’র নির্বাহী পরিচালক শিশির দত্ত বলেন, ‘আইনে আছে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন শ গজের মধ্যে কোনো তামাক বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে না। আশা করি তিন মাসের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) আইসিইউর বারান্দাতে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা ধূমপান করেন। যেখানে মানুষ সেবা নিতে যায় সেখানেই এই পরিস্থিতি। চট্টগ্রাম রেল স্টেশন, আদালত ভবন ও চমেক হাসপাতাল আমরা তামাকমুক্ত রাখতে চাই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ ড. শরিফুল আলম এবং ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি নাজের হোসাইন।

সারাবাংলা/আরডি/এসবি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন