শুক্রবার ১৯ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৪ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না’

এপ্রিল ১৫, ২০১৯ | ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নিরাপদ সড়ক ও সমাজকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন সময় যে সব সুপারিশ দেওয়া হয় তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে যেসব সুপারিশ আসে সেগুলো বস্তবায়ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও শ্রেণি-পেশার সংগঠনের নেতারা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদক মুক্ত সমাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এই মত দেন। সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার সব কিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো এখনো সমাধানের পথে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মাদক এখনও সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু তার নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি। অনেক সমস্যা আছে যেগুলো সমাধানের জন্য যেসব সুপারিশ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে তা সমাধান হয়নি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার আমলে সৃষ্ট অনেক সমস্যা আমরা এখনও সমাধান করতি পারিনি।’

১৪ দলের এই সেমিনারে যে সুপারিশগুলো এসেছে সেগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে দেবো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে অন্যান্য বিষয়ের মতো সড়ক ও মাদক সমস্যারও সমাধান হবে। জঙ্গিবাদ যদি আমরা মুক্ত করতে পারি, সড়ক সমস্যার সমাধান এবং মাদকও আমরা মুক্ত করতে পারবো।’

বিজ্ঞাপন

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারের সময় বিআরটিসিকে দুর্নীতিবাজ সংগঠনে পরিণত করা হয়েছিল। দেশে হাইওয়ে বলে কিছু ছিলো না, নামে মাত্র হাইওয়ে ছিলো। পুরো সিস্টেমটাই দুর্বল করে ফেলা হয়েছিলো। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ার সময় এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিলো। এখন আমরা সেগুলো ঠিক করতে পারিনি। তবে প্রত্যেকটি সেক্টরে আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে।’

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা তার বক্তব্যে বলেন, ‘সড়কে বিরাট বড় নৈরাজ্য চলছে। যানবাহনের ফিটনেস দেখার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। চালকরা মাদক খেয়ে সড়কে নামে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর কয়েক মাস পর বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী পালন হবে। সেই সঙ্গে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। আমি সব রাজবন্দিদের মুক্তি দিয়ে শুধুমাত্র দণ্ডিত দাগী আসামি ছাড়া এই দুইটি উৎসব সবাইকে নিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে পালন করার প্রস্তাব করছি।’

প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে যেসব সুপারিশমালা দেওয়া হয় সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। সুপারিশ বাস্তবায়নের এই অবহেলা দূর করতে হবে।’

‘সেই হাসি’র ব্যাখ্যা দিলেন শাজাহান খান

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, সংসদ সদস্য এ্যারোমা দত্ত, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

সারাবাংলা/এনআর/এমও

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন