মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ২ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ডিনামাইটে ভাঙবে বিজিএমইএ ভবন!

এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | ১:২৮ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ডিনামাইট ব্যবহার করে কন্ট্রোল ডিমোলিশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতি ভেঙে ফেলা হবে হাতিরঝিলে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই গড়ে ওঠা বিজিএমইএ ভবন। সেই অনুযায়ী যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এই পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে দেশে ডিনামাইট ব্যবহার করে কোনো ভবন ভাঙার প্রথম নজির হবে এটি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সারাবাংলাকে এসব তথ্য জানান রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার। এদিন সকালে তৈরি পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

মেসেঞ্জার-ইনবক্সে খবর জানাবে সারাবাংলা News BOT

বিজিএমইএ ভবনের ভেতরে সারাবাংলার সঙ্গে আলাপে জেসমিন আক্তার বলেন, ভবনে থেকে যাওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালামাল সরিয়ে নিতে আমরা সময় দিয়েছি। বলেছি মালামাল সরিয়ে নিতে। মালামাল সরিয়ে নেওয়ার পর আজই ভবনটির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ সব সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

ডিনামাইট

বিজ্ঞাপন

ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার বলেন, রাজউকের হাতে ভবনটি ভাঙার জন্য তিন মাস সময় রয়েছে। তবে ভবনটি ভাঙার সব প্রস্তুতি রাজউক নিয়ে রেখেছে। ডিনামাইট দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এত বড় একটি ভবন ম্যানুয়ালি ভাঙার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন- ভবন ভাঙায় আপত্তি নেই বিজিএমইএ’র

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এই প্রথম ডিনামাইট ব্যবহার করে কোনো ভবন ভাঙার প্রস্তুতি নিয়েছে রাজউক। এ পক্রিয়ায় ভবনটি মুহূর্তেই ধূলায় পরিণত হবে। তবে এতে করে হাতিরঝিলসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে দূষণের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ভবনটি শেষ পর্যন্ত ডিনামাইটেই উড়িয়ে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ জানিয়েছেন কেউ কেউ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজউকের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিবেশগত দিক বিবেচনায় রেখেই ডিনামাইট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। বাংলাদেশে এমন নজির আগে না থাকায় ডিনামাইট ব্যবহার করে ভবন ভাঙার ক্ষেত্রে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে।

রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা বিজিএমইএ’র এই ভবনটি ভাঙা নিয়ে আলোচনা শুরু প্রায় ৯ বছর আগে। ২০১০ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে ভবনটি কেন ভাঙা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন আদালত। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ভবনটি ভেঙে ফেলার রায় দেন।

আরও পড়ুন- বিজিএমইএ ভবন থেকে সব অফিস সরাতে দুই ঘণ্টা সময় দিল রাজউক

এরপর আপিল ও রিভিউ খারিজে ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দফায় দফায় সময় প্রার্থনা শুরু করে বিজিএমইএ। সর্বশেষ গত বছরের ৩ এপ্রিল বিজিএমইএ’কে এক বছরের সময় দেন সর্বোচ্চ আদালত। সেই সময় শেষ হওয়ায় এবারে বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু হলো। এর মধ্যে অবশ্য উত্তরায় নিজেদের নতুন কমপ্লেক্স তৈরি করেছে বিজিএমইএ। ১৩ তলা ভবনটির ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেখানেই নিজেদের কার্যক্রম স্থানান্তর করেছে বিজিএমইএ। আজ হাতিরঝিলের ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করলো রাজউক।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন