শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ইং , ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

অব্যাহত দরপতনের প্রতিবাদে বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | ৫:০৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পুঁজিবাজারে আবারো দরপতন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন। এদিকে, ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এ সময় তারা পুঁজিবাজারে কারসাজি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ায় বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ, আইপিও এবং প্লেসমেন্ট শেয়ারের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের পর গঠিত খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা। যেসব কোম্পানির শেয়ার ইস্যুমূল্যের নীচে নেমেছে, ওইসব কোম্পানিকে তাদের শেয়ার ইস্যু মূল্যে বাইব্যাক করতে বাধ্য করা।

এ ব্যাপারে বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান খান সারাবাংলাকে বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করতে বর্তমান কমিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। তাই, এই কমিশনের চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনকে ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করার আহবান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত সপ্তাহে টানা চারদিন সূচকের পতনের পর শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে, বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখীতা একদিনের বেশি স্থায়ী হয়নি। সোমবার (১৫ এপ্রিল) এবং আজ মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) পরপর দুইদিন দরপতনে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ২৬৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এটি ২০১৮ সালের ২২ শে মার্চের পর একদিনে ডিএসইতে সর্বনিম্ন আর্থিক লেনদেন। ওইদিন ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছিল ২২৪ কোটি টাকার শেয়ার। ওইদিনের পর আজ মঙ্গলবার ডিএসইতে সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ডিএসইতে ৩৪৪টি কোম্পানির ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৬টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৫৯টির, কমেছে ২৫৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টি কোম্পানির শেয়ার। দিনশেষে ডিএসইতে ২৬৯ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন, ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৪৮ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ২৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৭৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২১২ পয়েন্টে নেমে আছে।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২১৮টি কোম্পানির ৪৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৬০টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া এসব শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে দাম বেড়েছে ৩৯টির, কমেছে ১৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০ টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। দিনশেষে সিএসইতে ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এদিন, সিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৮৮ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ১০০ পয়েন্ট নেমে আসে।

সারাবাংলা/জিএস/জেএএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন