সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

৩ দশকে হস্তচালিত তাঁত কমেছে ৪৫ ভাগ

এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে হস্তচালিত তাঁতের ব্যবহার ব্যাপক হারে কমে যাচ্ছে। গত তিন দশকে এই তাঁতের ব্যবহার কমেছে ৪৫ ভাগ। আর হস্তচালিত তাঁতের অর্ধেকেরও বেশি রয়েছে পার্বত্য তিন জেলায়। এছাড়া হস্তচালিত তাঁতে পুরুষদের অংশগ্রহণও কমছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপে উঠে এসছে এমন চিত্র। শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে দেশে মোট হস্তচালিত তাঁত ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৪২১টি, যা ২০০৩ সালে কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২টিতে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী ২০১৮ সালে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ১ লাখ ১৬ হাজারে। অর্থাৎ ১৯৯০ সালের তুলনায় দেশে হস্তচালিত তাঁতের সংখ্যা কমেছে ৪৫ দশমিক ৩৯ ভাগ।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনের সম্মেলন কক্ষে তাঁত শুমারি ২০১৮-এর প্রাথমিক প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উইং চিফ জাহিদুল হক সরদার। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন তাঁত শুমারির প্রকল্প পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শেষ পর্যন্ত হস্তচালিত তাঁত থাকবে না। এটা আবেগ-অনুভূতির বিষয় নয়। যন্ত্রের কারণে ধীরে ধীরে হস্তচালিত তাঁত কমে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। তবে এর সঙ্গে যন্ত্রচালিত তাঁতের হিসাব থাকলে ভালো হতো। একসময়ের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করছে বলেও এসময় জানান তিনি।

তাঁত শুমারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালের বিবর্তনে পাওয়ার লুম বা কলের তাঁতের ব্যবহার বেড়েছে। এই খাতে বড় বড় শিল্পায়ন হচ্ছে। হস্তচালিত তাঁত এখন আর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। শতকারা ৯৯ ভাগ হস্তচালিত তাঁত পারিবারিক ভাবে উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন প্রজন্ম একে পেশা হিসেবে না নেওয়ায় দক্ষ জনবলেরও অভাব রয়েছে।

শুমারিতে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে ৫৫ ভাগ পুরুষ এই শিল্পে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে তাদের অংশগ্রহণ নেমে এসেছে ৪৪ শতাংশে। অন্যদিকে, নারীদের অংশগ্রহণ ৪৪ ভাগ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৭ ভাগ।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, দেশে অর্ধেকের বেশি হস্তচালিত তাঁত রয়েছে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাঙ্গামাটিতে, ২৯ হাজার ২২৪টি (২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ)। পার্বত্য বাকি দুই জেলার মধ্যে খাগড়াছড়িতে রয়েছে ১৮ হাজার ১১৬টি (১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ) ও বান্দরবানে ১৬ হাজার ৮৩০টি (১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ)। পার্বত্য জেলার বাইরে সবচেয়ে বেশি হস্তচালিত তাঁত রয়েছে কুষ্টিয়ায়— ১০ হাজার ৬৫৬টি (৯ দশমিক ১৯ শতাংশ)। এরপর রয়েছে সিরাজগঞ্জ, এই জেলায় তাঁত রয়েছে ৯ হাজার ৭৬৬টি (৮ দশমিক ৪২ শতাংশ)। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে ৩৯৪৪টি, বগুড়ায় ৩৩৭৫টি, টাঙ্গাইলে ৩২৯০টি, পাবনায় ২৮৩৩টি, মৌলভীবাজার ২৪৯১টি, ঝিনাইদহে ১৮৯৯টি, ঢাকায় ১৩৮১, রাজবাড়িতে ১২৫৭টি ও নরসিংদীতে রয়েছে ১১২৮টি তাঁত।

২০০৩ সালের পর ২০১৮ সালে পরিসংখ্যান ব্যুরো সর্বশেষ একটি শুমারি পরিচালনা করে। বিবিএস সূত্র জানায়, দেশে বাগেরহাট, ভোলা, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলায় কোনো তাঁতের ব্যবহার পাওয়া যায়নি।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন