সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আমদানি কম, খেজুর-চিনির বাজার অস্থিতিশীলের আশঙ্কা

এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আমদানি কম হওয়ায় আসছে রমজান মাসে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে খেজুর ও চিনির বাজার। তবে ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ছোলা ও মসুর ডালের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এই চারটি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মূলত এই ছয়টি পণ্যকেই রমজানের ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হয়।

এদিকে, আসন্ন রমজান মাসে কোনো ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম যেন না বাড়ে সেজন্য এরই মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার ও দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত সেল কাজ শুরু করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ট্যারিফ কমিশনের তথ্য পর্যালোচনা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ প্রসঙ্গে সারাবাংলাকে বলেন, ‘রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হবে না। যেসব পণ্যের আমদানি কম হয়েছে তা রমজান মাসের আগেই আমদানি করা হবে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ এসেছে, খালাসের অপেক্ষায় আছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘রমজান মাসে বাজার যেন অস্থিতিশীল না হয় সেজন্য বাজার মনিটরিং করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রীর মনিটরিংয়ের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘সরকার প্রতিবছরই বাজার মনিটরিংয়ের কথা বলে। তারপরেও নিত্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমরা দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত চিনির লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ১৩২ টন। এ সময় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ৩১৬ টন চিনির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে চিনির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৬ টন ও ১৭ লাখ ১৮ হাজার ২৩৬ টন। সে হিসাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই অর্থবছরে চিনির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫৪ টন, এলসির নিষ্পত্তি কমেছে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯২০ টন।

একইভাবে একইসময়ে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে ২৩ হাজার ৪১২ টন। এ সময় ১৩ হাজার ৪৪৫ টন খেজুরের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছিল ২৯ হাজার ৪৫২ টনের জন্য, এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ২৪ হাজার ৯৪৫ টন। সে হিসাবে খেজুরের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে যথাক্রমে ৬ হাজার ৪০ ও ১১ হাজার ৫০০ টন।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে কেবল রমজান মাসেই এ চাহিদা ৩ লাখ টন। একইভাবে দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার টন। আর রমজান মাসে চাহিদার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার টন। এই হিসাবে এই দু’টি ভোগ্যপণ্যের আমদানির পরিমাণ চাহিদার তুলনায় কম।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন, রমজান মাসে চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ১৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩৬ টন। এ সময় ১৫ লাখ ৮ হাজার ৫৪০ টন ভোজ্যতেলের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ ও ১৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬২৩ টন। সে হিসাবে গত রোজার তুলনায় ভোজ্যতেলের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে।

একইভাবে দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন, রমজান মাসে চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৫ টন। এ সময় ৮ লাখ ২৩ হাজার ৩৬৮ টন পেঁয়াজের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে পেঁয়াজের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ যথাক্রমে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৭৯২ টন ও ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯৫৭ টন। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় পেঁয়াজের আমদানিও বেড়েছে। ফলে পেয়াজের মজুতও পর্যাপ্ত।

এছাড়া ছোলার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসে চাহিদা প্রায় ৮০ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪২৪ টন। এ সময় ১ লাখ ২২ হাজার ৮০৯ টন ছোলার এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছোলার এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ ও ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টন। সেই হিসাবে ছোলার আমদানিও বেড়েছে এ বছর।

আর দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসে চাহিদা প্রায় ৮০ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মসুর ডালের এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৯০৫ টন। এ সময় ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫৯৮ টন মসুর ডালের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মসুর ডালের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ যথাক্রমে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৯ ও ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৬৪ টন। অর্থাৎ, রমজান মাসের ভোগ্যপণ্য মসুর ডালের আমদানিও এ বছর বেড়েছে।

সারাবাংলা/এইচএ/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন