বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

একবছরেও জমা পড়ল না রাজীবের হাত কাটা মামলার প্রতিবেদন

এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | ১:৫২ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর কাওয়ান বাজারে দুই বাসের রেষারেষিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেনের ডান হাত হারানোর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন একবছরেও দাখিল করতে পারলেন না তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত বছরের ৩ এপ্রিলে দুর্ঘটনার পর এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালত প্রথম দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন ৯ মে। এরপর গত একবছরে আরও ১০ বার আদালত সুযোগ দিলেও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। এদিনও প্রতিবেদনটি দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন করে এই প্রতিবেদন দাখিলের দিন আগামী ২২ মে ঠিক করেছেন।

আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল। এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ আলী প্রতিবেদন দাখিল না করায় নতুন তারিখে নির্ধারণ করে দেন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারী।

এর আগে, গত ১৩ মার্চ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। ওইদিনও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেননি। পরে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজকের (১৮ এপ্রিল) দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন।

এর আগে আরও ৯ বার এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত বছরের ৯ মে প্রথম দিন নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন আদালত। সেদিন তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারলে ১০ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করে দেন আদালত। এরপর একে একে গত বছরের ১৬ জুলাই, ১৩ আগস্ট, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২৫ অক্টোবর ও ২৮ নভেম্বর এবং চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ও ৬ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

এই মামলার অভিযুক্তরা হলেন— রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন বিআরটিসি বাসের চালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন পরিবহনের বাসের চালক খোরশেদ (৫০)। বর্তমানে তাদের দু’জনই কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, যাত্রাবাড়ীর মিরহাজীরবাগের একটি মেসে থাকতেন তিতুমীর কলেজের স্নাতক (বাণিজ্য) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাজীব। কলেজের কাছেই একটি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক্স ডিজাইনিং কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। গত বছরের ৩ এপ্রিল বাসা থেকে বেরিয়ে বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে করে ওই প্রতিষ্ঠানেই যাচ্ছিলেন। বাসে দাঁড়িয়ে ছিলেন পেছনের গেটে, তার ডান হাতটি গেটের কিছুটা বাইরে বেরিয়েছিল।

বিআরটিসি বাসটি কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার কাছে পৌঁছালে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসি বাসটিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং দুই বাসের মাঝখানে ঝুলে থাকে।

পরে রাজীবকে দ্রুত পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ১৬ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান রাজীব।

সারাবাংলা/এআই/টিআর

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন