সোমবার ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জাবিতে ফের র‌্যাগিং, কান ফাটালো জুনিয়রের!

এপ্রিল ১৯, ২০১৯ | ২:০১ পূর্বাহ্ণ

জাবি করেসপন্ডেন্ট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আবারও এক শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের সময় বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই শিক্ষার্থীর ‘কান ফেটে’ রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ওই শিক্ষার্থীকে ‘বিশেষজ্ঞ’ দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে মওলানা ভাসানী হলের ১১৪ নং রুমে এ ঘটনা ঘটে। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মোশাররফ হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তবে, ভয়ে এ বিষয়ে তিনি মুখ খুলতে চাননি।

একাধিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে মওলানা ভাসানী হলের গণরুমে যান হলটির ৪৭ ব্যাচের একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা ৪৮ ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীকে ১১৪ নং রুমে একত্রিত হতে নির্দেশ দেন। অভিযোগ রয়েছে, এ রুমে নিয়মিতই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে র‌্যাগ দেওয়া হয়।

র‌্যাগিংয়ের সময় তুচ্ছ কারণে ৪৮ ব্যাচের অনেক শিক্ষার্থীকে গালাগাল ও মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে পরিচয় দিতে ভুল করায় মোশাররফকে বাংলা বিভাগ ৪৭ ব্যাচের জাহিদ হাসান তুহিন মারধর করেন। মারধরের পর মোশাররফকে ১১৩ নং রুমে পাঠানো হয়। পরে তিনি পুনরায় ১১৪ নং রুমে এসে ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরকে জানান যে, তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। এরপর বাংলা বিভাগ ৪৭ ব্যাচের মো. নজরুল তাকে পুনরায় মারধর করেন। এতে তার বাম কান ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এরপর ৪৭ ও ৪৮ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যায়। এসময় মোশাররফকে ছাড়া আরও ৪-৫ জনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, কাল বড় ভাইয়েরা গণরুমে ঢুকেই বলেছে যে, আজ এক্সট্রিম (র‌্যাগিং) পর্যায়ে হবে। এরপর অনেককে মারধর করা হয়। একজনের কান ফেটে যায়। শুধু গতকাল নয়, প্রায় প্রতিদিনই মারধর করা হয়। ৪৮ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, র‌্যাগিংয়ের সময় মোশাররফের কান ফেটে গেছে। পরে তাকে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলা বিভাগ ৪৭ ব্যাচের নজরুলের মারধরে ওই শিক্ষার্থীর কান ফেটেছে বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ওই দিন রাত ৩টার দিকে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী আহত এক শিক্ষার্থীকে মেডিক্যালে নিয়ে আসে। তার বাম কানের বাহিরের অংশে ছিলে গেছে। আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এছাড়া তাকে একজন বিশেষজ্ঞকে দেখানোর পরামর্শ দিয়েছি।

তবে, মারধরকারী নজরুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কীভাবে মারবো? আমি তো গতকাল হলেই ছিলাম না। আমার বাবা অসুস্থ। এজন্য আমি ঢাকায় ছিলাম। আর আমি তো নিয়মিত গণরুমেই যাই না, মাঝে মাঝে যাই। একই বিষয়ে জানতে চাইলে তুহিন বলেন, আমি মারধরের বিষয়ে কিছু জানি না। আমি এখন প্রভোস্ট স্যারের রুমে আছি।

ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, রসায়ন বিভাগের মোশাররফ নামে বৈধ কোন ছাত্র নেই আমাদের হলে। কেউ যদি অন্য কোন হল থেকেও এসে থাকে তবু তাকে র‌্যাগ দেয়া যাবে না। প্রক্টর আমাকে ফোন দিয়ে জানিয়েছেন। আমি খোঁজ নিচ্ছি। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, এটা হলের বিষয়। এটা হলের প্রভোস্ট দেখবেন। তবে হলের প্রভোস্ট যদি আমাদের কাছে কোন সহযোগিতা চান, আমরা সহযোগিতা করবো।

সারাবাংলা/ইএইচটি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন