রবিবার ২১ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘মডেল ভিন্নতায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে পার্থক্য হয়’

এপ্রিল ১৯, ২০১৯ | ১২:০৯ অপরাহ্ণ

ড. মোস্তাফিজুর রহমান। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো। এর আগে তিনি একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এসেছিলেন সারাবাংলার ‘বিজনেস এক্সপ্রেস’ অনুষ্ঠানে। সেখানে অর্থনীতির বেশকিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সারাবাংলার পাঠকদের জন্য কিছু অংশ তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জয়েন্ট নিউজ এডিটর জিমি আমির

সারাবাংলা: জিডিপির হিসেব নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিন ধরনের হিসাব এসেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দশমিক শতাংশ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে শতাংশ, সরকার বলছে দশমিক ১৩ শতাংশ। একই বিষয়ে ভিন্নমত কেন হয়?

. মোস্তাফিজ: এই মতপার্থক্যের বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ আছে। কোনো একটি অর্থবছরে আমরা কত উৎপাদন করেছি, তার মূল্য সংযোজন করে যেটা হয়, তার বাজারমূল্য রূপান্তর করে আমরা একটা হিসাব তৈরি করি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আছে, তারাই এটা পরিমাপ করে থাকে। জিডিপি পরিমাপের এই তথ্য অন্য কারও নেই। তারা যখন কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা দেয়, তখন কিন্তু এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয় না।

যেমন— গত অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত দাঁড়াবে, তা এখনই প্রাক্কলন করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত কিছু কিছু তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেছে। কৃষিতে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে, বছর শেষে এমন নাও থাকতে পারে। আমরা প্রাক্কলন করতে পারি রেমিটেন্স, অন্যান্য সেবাখাতের উৎপাদন নিয়েও। আবার শিল্প উৎপাদন কত হয়েছে, সেটার হিসাব কিন্তু হালনাগাদ নেই। সব হিসাব আমরা জানতে পারি অক্টোবর মাসে। সুতরাং প্রাক্কলনটা এ পর্যন্ত চলতিই থাকে। এই প্রাক্কলনকে অন্যান্য সূচক দিয়ে আমরা তখন বিবেচনা করি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- কর দেওয়ার পরিবেশ সহজ করে দিতে হবে: সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান

যেমন— কৃষিতে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু অনেকেই হয়তো বলবেন, বোরোর ফসলের জন্য তো অপেক্ষা করতে হবে। শিল্প খাতে বলা হচ্ছে, ১৩ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু পরে কী হবে, তা কিন্তু বলা হচ্ছে না। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কী হবে? ক্রেডিট গ্রোথ কেমন হয়েছে? এ ধরনের প্রাক্কলন নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়।

বিভিন্ন আলোচনা হয়, কেউ বলে সামনের অনেক খবর আমরা জানি না। আমার হালনাগাদ তথ্য নেই। কিছু কিছু সূচক মেলানো সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না। এজন্যই তর্ক-বিতর্ক হয়। তবে এটা ঠিক, ’৯০-এর দশকের পর থেকে প্রতি দশকে এক শতাংশ করে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। খুব সম্প্রতি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১১ শতাংশ ছিল, এখন তা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হচ্ছে।

এরপরও কথা থাকে। যেমন— বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। জীবনযাত্রার মান, মাথাপিছু আয়— এসব বাড়ছে। এগুলো কিভাবে বাড়ছে, বিবিএস এসব তথ্য স্বাধীনভাবে আমাদের দিতে পারছে কি না। বিদেশে কিন্তু পরিসংখ্যান ব্যুরোতে অটোনোমাস বডি থাকে বা তারা স্বায়ত্তশাসিত হন। তারা নিজেরাই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এসব জানান। আমাদের বিবিএস নিয়েও কিন্তু অনেক সময় সন্দেহ থাকে যে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের প্রভাব আছে কি না। সেটা থেকেও অনেক সময় তর্ক-বিতর্ক হয়। এটার যথেষ্ট কারণও আছে। আমরা অনেক সময় দেখেছি, কোনো একটি উপাত্ত একেবারেই থাকে না। লেবার ফোর্স সার্ভে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় এখন আমরা আর কোনো তথ্যই পাচ্ছি না বিবিএস থেকে। এই বিষয়গুলোই অস্বচ্ছতার জন্ম দেয়, তর্ক-বিতর্কের জন্ম দেয়।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এভাবেই ফারাক দেখা দেয়। বিশ্বব্যাংক বা এডিবি বিভিন্ন মডেলের ওপর মূল্যায়ন করে তাদের হিসাব করে। এই মডেলের মধ্যেও নানা ধরনের মূল্যায়ন থাকে। আবার এসব প্রতিষ্ঠানেরও বিতর্ক বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকে।

সারাবাংলা: কিছু মেগা প্রকল্পের কারণে দেখা যাচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। কিন্তু দেশে বিনিয়োগ কম, কর্মসংস্থান বাড়ছে না। গত এক দশক ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ ২২ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তাহলে যে জিডিপি কথা বলা হচ্ছে, তা আসলে কতটা টেকসই?

. মোস্তাফিজ: আমরা তো শুধু প্রবৃদ্ধির পার্সেন্টেজ কত হচ্ছে সেটা চিন্তা করি। কিন্তু এর সঙ্গে আরও দু’টো জিনিস যোগ করা উচিত। একটা হলো, প্রবৃদ্ধির গুণগত মান কী, কোন সেক্টর থেকে প্রবৃদ্ধি আসছে? আর দ্বিতীয় হচ্ছে, এই প্রবৃদ্ধি বণ্টন হচ্ছে কিভাবে? এ দু’টো কিন্তু প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটাকে সরলরৈখিকভাবে যদি আমরা চিন্তা করি, সেটা কিন্তু হবে না। বাংলাদেশ যদি একবিংশ শতাব্দীতে যদি সামনের দিকে যেতে হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধির সূত্রগুলো কী, সেটা দেখা উচিত। সেই প্রশ্নই আপনি তুলেছেন।

আরও পড়ুন- ‘এখন আশঙ্কাজনক নয়, তবে দুঃসময় পার করছে ব্যাংকিং খাত’

প্রাইভেট সেক্টরের ক্রেডিট গ্রোথ খুব একটা বাড়েনি। তবে সরকার জিডিপি সাড়ে ৬ থেকে ৮ শতাংশের ওপরে নিয়ে গেছে। এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিনিয়োগ ৩১ শতাংশের মতো। কিন্তু এটি ৩৫ বা ৩৬ শতাংশ হলে ভালো হতো। এই বিনিয়োগের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। বিনিয়োগ শুধু টাকার অঙ্কে দেখলে হবে না, উৎপাদনশীলতাও দেখতে হবে। এটা ঠিক যে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে। আবার এই বিনিয়োগের ইতিবাচক দিক হচ্ছে এটা বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে।

এখন যদি একটা ব্রিজ হয়, তাহলে বেসরকারি খাত এটার সুযোগ নিতে পারে। তার প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়বে। খরচ কম হবে। লেবার মোবিলিটি বাড়বে। সুতরাং সরকারি বিনিয়োগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এতদিন বলে এসেছি যে আমাদের অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে আমাদের বিনিয়োগ বাড়ে না। এ কারণে জিডিপি ডাবল ডিজিটে নিতে পারছি না। সরকারও সেই কাজটিই করার চেষ্টা করছে, যেখানে বিনিয়োগ দুর্বলতা সেখানেই বিনিয়োগ করার চেষ্টা করছে। এটা ইতিবাচক ফলাফল আমরা পাব।

কিন্তু বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ করলেই তো হবে না। বিদ্যুৎ পেলাম, কিন্তু বিদ্যুতের গুণগত মান কী, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কী প্রাইসে পেলাম, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। বিনিয়োগ বেশি দামে করলে বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বেশি হবে। তখন বেসরকারি খাত ওই ব্যয় করে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পারবে না। সুতরাং সাশ্রয়ীভাবে সরকার যে বিনিয়োগ করতে পারছে বিশেষ করে মেগা প্রজেক্টের ক্ষেত্রে, সুশাসনের সঙ্গে করতে পারছে কি না, সময়মতো করতে পারছে কি না— এগুলো দেখা জরুরি। অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় শর্তের সঙ্গে বলা হয়ে থাকে যে যথেষ্ট শর্ত থাকতে হয়। এই যথেষ্ট শর্তই হচ্ছে সাশ্রয়ীভাবে, সুশাসনের সঙ্গে বিনিয়োগ করলে এর বিনিয়োগটা সাশ্রয়ী হয়।

সারাবাংলা: বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ কমে যাওয়া, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতা এই তিনটি কারণে আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের সক্ষমতা কমছে। বিষয়ে আপনি কি বলবেন?

. মোস্তাফিজ: আমার মনে হয়, এই তিনটিই অগ্রাধিকার পাওয়ার মতো সমস্যা। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ তো জিডিপির অংশ হিসেবে যেভাবে বাড়ার দরকার ছিল, সেভাবে বাড়ছে না। অবকাঠামো করলেই হবে না, এটার সঙ্গ ইজ অব ডুয়িং বিজনেসের লজিস্টিকস র‌্যাংকিং, গ্লোবাল কম্পিটিটিভ র‌্যাংকিং সবগুলোতেই আমরা একেবারে নিচের দিকে আছি; যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানও যেখানে আমাদের থেকে এগিয়ে আছে। এখন তো আমাদের বাজার মোটামুটি উন্মুক্ত, একইসঙ্গে নিজের বাজার ও বিশ্ববাজার দুই জায়গায়তেই প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। সেখানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা রেগুলেটরি সিস্টেম যদি কঠিন হয় তাহলে বেসরকারি খাত ওই ভাবে আসবে না।

এছাড়া, খেলাপি ঋণের বিষয়ে দেখা যায় কেউ ব্যবসা করতে পারছে না, আবার কেউ টাকা নিয়ে আর ফেরত দেয় না। উইলফুল বা নন-উইলফুল দুই ধরনের ডিফল্টারই আছে। এদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের প্রতি আইনের প্রয়োগ করা উচিত। আমাদের লোন অ্যাক্টে যেসব আছে, সেসব যুগোপযোগগী করা এবং তা প্রয়োগ করা উচিত। আসলে এসবের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার সুশাসন।

তৃতীয় হচ্ছে, অভ্যন্তরীণ রিসোর্স মোবিলাইজেশন ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও সারাবিশ্বের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে কম। আমাদের আশপাশের দেশেও এ হার ১৬-১৭ শতাংশ। এর দেড়গুণ বাড়াতে পারলে লাখ লাখ কোটি টাকা আমাদের থেকে যেত, যেটা আমি বিনিয়োগের জন্য ব্যয় করতে পারতাম। অন্যান্য দেশে ডিরেক্ট ট্যাক্সের হার অনেক বেশি। আমাদের বাড়লেও এটা এক-তৃতীয়াংশের মতো। এর মধ্যে ব্যক্তিখাতের কর বিভিন্ন দেশে অনেক বেশি আসে। আমাদের দেশে যারা দিতে পারতেন, তারা ঋণখেলাপি হয়ে আছেন। উল্টো সরকার তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেন। এসব জায়গায় আরও শক্তিশালী এনফোর্সমেন্টের দরকার। এই তিনটিকে অ্যাড্রেস করতে পারলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে।

সারাবাংলা: রিসেন্টলি সরকারের অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ বাজেট বাস্তবায়নে ৯টি বাধাকে চিহ্নিত করেছেন। বিশেষ করে তারা উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে ছয়টি বাধার কথা বলেছেন ভূমি অধিগ্রহণ করতে না পারা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা, প্রকল্প দলিলের অসম্পূর্ণতা এবং বারবার প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন বা সংশোধন করা। প্রশ্ন হচ্ছে, এই আলোচনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে। তাহলে কেন সরকার এই বিষয়গুলোর সমাধান করেন না, নাকি জিইয়ে রাখেন?

. মোস্তাফিজ: এই বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে, অথচ দেখা যায় কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয় না। যেমন— প্রকল্প পরিচালক, তিনি ওই প্রকল্পের জায়গায় থাকেন না, ঢাকা শহরে থাকেন। এর আগেও এমন ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এমন কাউকে কি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যিনি সৎভাবে ওখানে থেকে কাজটি করতেন? সেটা অনেক সময়ই করা হয়নি। সুতরাং যোগ্যতার ভিত্তিতে রিক্রুটমেন্ট বা দক্ষতার ভিত্তিতে প্রমোশন— এরকম সংস্কৃতি থেকে বের হতে আমাদের যে ডেভেলপ করার দরকার ছিল, সেটা যখন হয় না তখনই সমস্যা হয়। আসলে এর সঙ্গে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ব্যবস্থার দরকার হয়। সেই জায়গাটাতেই দুর্বলতা। চিহ্নিত করা হয়েছে ঠিকই। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, জনবল বাড়ানো, চিহ্নিত করাটা নতুন নয়, যথাযথ বাস্তবায়ন করাই নতুনত্ব।

আরও পড়ুন- ‘সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে, তবে সুশাসনে নজরদারি বাড়াতে হবে’

সারাবাংলা: এত সমস্যার ভিড়েও বেশকিছু সম্ভাবনা আছে। রিজার্ভ স্ট্রং, রফতানি দিনকে দিন বাড়ছে, রেমিটেন্স মোটামুটি ভালো, কৃষিতে অনেক বেশি ফলন হচ্ছে। অর্থনীতিকে টেকসই করতে এসব কি ভূমিকা রাখবে?

. মুস্তাফিজ: বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বই আছে— ‘বাংলাদেশ দ্য টেস্ট কেস ফর ডেভেলপমেন্ট’। বইটি লিখেছিলেন দু’জন বিদেশি। তারা বলেছিলেন, এই দেশে যদি উন্নয়ন সম্ভব হয় তাহলে পৃথিবীর সব দেশেই উন্নয়ন সম্ভব। আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তবে, এর ওপর নির্ভর করে সামনের দিনে যদি আমাদের ডাবল ডিজিটে যেতে হয়, তাহলে আমাদের ডাবল ডিজিট পার ক্যাপিটা ইনকাম বাড়াতে হবে। তাহলে একটা প্রজন্মে ডেভেলপ কান্ট্রিতে যাওয়া সম্ভব। আমরা এমনটা চীনে দেখেছি, সাউথ কোরিয়া-জাপানে দেখেছি। এটা এক ধরনের কনফিডেন্স দেয়। কিন্তু আমরা যদি সুশাসন বা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিকে জিরো টলারেন্সে গুরুত্ব না দেই, তাহলে এটা যে আগামীতেও সরলরৈখিকভাবে চলতে থাকবে, সেটা মনে করারও কোনো কারণ নেই।

সারাবাংলা: টেকসই অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশকে এখন কোন বিষয়ে নজর দিতে হবে?

. মুস্তাফিজ: এখন থেকেই প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণগত মানের দিকে নজর দিতে হবে। রেগুলেশনসগুলো আধুনিকায়ন করতে হবে। আমাদের দক্ষতার ওপর জোর দিতে হবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। শিল্পায়ন বাড়াতে হবে। অবকাঠামোগত যে বিনিয়োগ, এটাকে ম্যাক্সিমাইজ করা গেলে ভালো। গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস যদি অ্যাড্রেস করতে পারি, তাহলে ভালো। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসনের দিকে খুব নজর দিতে হবে। ২০৪১ সালের যে ভিশন আছে তার জন্য গতানুগতিক কোনো কিছু করলে হবে না।

সারাবাংলা/জেএএম/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন