বিজ্ঞাপন

সংসদে যাওয়ার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই: হানিফ

April 20, 2019 | 3:45 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে যাওয়া বা না যাওয়ার সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির মুক্তি বা জামিনের বিষয়টি সম্পৃক্ত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন হানিফ।

খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিলে বিএনপি থেকে নির্বাচিত নেতারা সংসদের যাবেন, এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হানিফ বলেন, ‘আমরা বার বার বলেছি খালেদা জিয়া আদালতের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি কিন্ত রাজনৈতিক কারণে কারাগারে নন। আপনারা জানেন ২০০৭ সালে, ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলা হয়েছিল  দুর্নীতির অভিযোগে, সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, আদালত তাকে দণ্ড দিয়েছে। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে কারাগারে আছেন।’

বিজ্ঞাপন

দেশের আইন অনুযায়ী একজন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মুক্তির বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘এর বাহিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দ্বিতীয় আরেক পন্থা আছে, সেটা হলো কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তার অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করলে তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এই দুইটা পদ্ধতি ছাড়া আর কিছু আছে বলে আমাদের জানা নেই।’

প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি কারাবিধি অনুযায়ী আবেদন করতে হয় জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘বিএনপির বা খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এখন অবধি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে কি না, আমাদের জানা নেই। তবে সাংবাদিকদের কথার পরিপেক্ষিতে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যদি বেগম জিয়ার পক্ষ থেকে অথবা বিএনপির পক্ষ থেকে তার প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়, সেক্ষেত্রে ওনারা বিবেচনা করতে পারেন। আর যারা জতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সংসদে যাওয়া, না যাওয়ার সঙ্গে কোনো দণ্ডপ্রান্ত কয়েদির মুক্তি বা জামিনের বিষয় সম্পৃক্ত হতে পারে না।’

বিজ্ঞাপন

হানিফ বলেন,জাতীয় সংসদে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্যের নৈতিক দায়িত্ব হচ্ছে তার সংসদে যাওয়া। যে ভোটাররা তাকে ভোট দিয়েছেন সেই ভোটারদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তার সংসদে যাওয়া উচিত। কারণ সেই ভোটারদের পক্ষে কথা বলা, ভোটারদের এলাকার উন্নয়নের জন্য কথা বলা, এলাকার সমস্যা দূর করতে কথা বলার জন্য এবং জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার জন্যই ভোটাররা তাকে ভোট দিয়েছেন। নিশ্চয়ই কোন ভোটাররা কাউকে মুক্তির জন্য তাকে (এমপি) ভোট দেননি।

খালেদা জিয়ার জামিন না হলে সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত যারা নিয়েছেন সেটা খুব খারাপ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও মনে করেন মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেন, ‘এই ধরনের রাজনীতি সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে কাম্য নয়।’

বিজ্ঞাপন

আরেক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ‘আমার মনে হয় প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে বিএনপি নেতারা যতখানি আগ্রহী, তার চেয়ে বেশি সাংবাদিক বন্ধুরা আগ্রহী। তাদের কাছ থেকে বারবার এই প্রশ্নগুলো আসছে। বিএনপি নেতারা কখনও বলছেন না যে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আবেদন করেছেন, আমাদের কাছেও এরকম কোন তথ্য নেই।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, ইকবাল হোসেন অপুসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন