রবিবার ১৬ জুন, ২০১৯ ইং , ২ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১২ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

শবে বরাত: করণীয় ও বর্জনীয়

এপ্রিল ২১, ২০১৯ | ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শবে বরাত আজ। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই শবে বরাতের রাত হিসেবে পালন করা হয়।

আরবি ভাষায় ‘শব’ অর্থ রাত, আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ ভাগ্য। এই দুই শব্দের সম্মিলনে গঠিত শবে বরাত-এর অর্থ ‘ভাগ্য রজনী’ বা ‘ভাগ্যের রাত’ বা ‘ভাগ্য নির্ধারণের রাত’। এছাড়া, মুক্ত হওয়া বা বিচ্ছেদের রাত অর্থেও শবে বরাত ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অপরাধীরা আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে, এ ক্ষেত্রে বান্দার বন্দেগির সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়। আর আল্লাহর ওলিরা পার্থিব অপমান-লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত হয়ে যায় (ইবনে মাজাহ)।

আরও পড়ুন- আজ পবিত্র শবে বরাত

শবে বরাতের গুরুত্ব ফজিলত

বিজ্ঞাপন

হযরত উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) বর্ণনা করেন— আমি একদিন রাসূল (সা.)-এর খেদমতে আরজ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি আপনাকে শাবান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে এত অধিক পরিমাণে রোজা রাখতে দেখিনি। রাসূল (সা.) বললেন, এটা ওই মাস যে মাস সম্পর্কে অধিকাংশ লোকই গাফেল থাকে। এটা রজব ও রমজান মাসের মধ্যবর্তী মাস। এটা এমন মাস, যে মাসে মানুষের আমল আল্লাহ পাকের দরবারে পেশ করা হয়। আমার আকাঙ্ক্ষা, আমার আমল আল্লাহর দরবারে এ অবস্থায় পেশ হোক যে আমি রোজাদার। (নাসায়ী, শুআবুল ঈমান)

হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে— তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.)-কে রমজান মাস ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবান মাসের চেয়ে অন্য কোনো মাসে এত বেশি রোজা রাখতে দেখিনি। (বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী)।

কোরআনের আলোকে শবে বরাত

পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে কোরআনুল কারিমে নির্দেশনা আছে কি না, এ বিষয়ে মুফাসসিরে কেরামদের মধ্যে মতভেদ করেছেন। আর তাদের এ মতভেদের ভিত্তি হলো সুরা দুখানের ৩ নম্বর আয়াতের ভাবার্থ। জমহুর মুফাসসিরিন প্রায় সকলই এ আয়াতের (লাইলাতুল মুবারাকা) শব্দের ব্যাখ্যা ‘শবে কদর’ করেছেন এবং এর পক্ষে হাদিস পেশ করেছেন।

শবে বরাতে করণীয়

বিভিন্ন হাদিস থেকে শবে বরাতে করণীয় ইবাদত সম্পর্কে জানা যায়। এ রাতে গোসল করা মোস্তাহাব, গোসলের পর দুই রাকাত তাহিয়াতুল অজুর নামাজ, তারপর দুই রাকাতের নিয়তে প্রত্যেক রাকাতে সুরা ফাতিহা ও সুরা ইখলাছ সহকারে ৮ রাকাত নামাজ পড়তে হয় বলে বর্ণিত আছে। বলা আছে রোজা রাখার কথাও। রোজা রেখে ইবাদত করা, ইবাদত করে রোজা রাখা— দু’টোই উত্তম। কেন না, সারাদিন রোজা রেখে ইবাদত করলে ইবাদতে মন বসে। যাবতীয় গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। কোরআন তিলাওয়াত করতে হবে। রিজিকের জন্য দোয়া করতে হবে। তওবা করতে হবে। তওবা তিনটির সমন্বয়ে হয়— ক. কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে, খ. পাপ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে, এবং গ. ভবিষ্যতে পাপ না করার অঙ্গীকার করতে হবে।

শবে বরাতে উভয় জাহানের কল্যাণ কামনা করতে হবে। নফল নামাজ পড়তে হবে। কবর জিয়ারত করতে হবে। আল্লাহর রহমত কামনা করতে হবে। কেননা, আল্লাহর রহমত না হলে এ রাতে কোনো ইবাদতই করতে পারব না। আর ইবাদত করার পর কবুল হবে না কারণ, আল্লাহর রহমত না হলে ইবাদত কবুল হবে না। এ জন্য ইবাদতের বড়াই বা অহংকার করা যাবে না।

শবে বরাতে বর্জনীয় কাজ

আতশবাজি, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, হালুয়া রুটি এ রাতেই বানাতে হবে— এমন ধারণা দূর করতে হবে। শিরনি বা জিয়াফতের নিয়মে খাদ্য রান্না করা বা অন্য যেকোনো খাদ্য উপকরণ শুধু এ রাতেই নয়, অন্য যেকোনো দিনও রান্না করা যেতে পারে। মসুর ডাল রান্না করতে হবে— এ ধারণাও দূর করতে হবে। শবে বরাতে প্রচুর শিরনি বানাতে গিয়ে মহিলাদের ইবাদত থেকে বঞ্চিত রাখার প্রথা বর্জন করতে হবে।

সারাবাংলা/টিআর

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন