বুধবার ২২ মে, ২০১৯ ইং , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

ওয়াসার এমডিকে ‘সুপেয়’ পানির শরবত পান করাতে হাজির রাজধানীবাসী

এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দুই দিন আগেই ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান দাবি করেছিলেন, ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়। সেই ‘সুপেয়’ পানিতে তৈরি শরবত এমডিকে পান করাতে ওয়াসা ভবনে হাজির হয়েছেন রাজধানীবাসী।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ওয়াসা ভবনের উল্টো দিকের বিএফডিসি ভবনের নিচে অবস্থান নেন  রাজধানীর কয়েকটি এলাকার বাসিন্দা। সঙ্গে করে তারা নিয়ে এসেছেন ওয়াসার ‘সুপেয়’ পানিতে তৈরি শরবত। হাতে রয়েছে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।

তবে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওয়াসার এমডি, ডিএমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাউকেই ওয়াসা ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। কর্মসূচি পালন করতে আসা রাজধানীবাসী বলছেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে এ কর্মসূচির কথা ছড়িয়ে পড়ার কারণেই তারা কেউ অফিসে আসছেন না। তবে ওয়াসার এমডিকে শরবত খাওয়াতে আসা রাজধানীবাসী বলছেন, তারা বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন এমডি’র জন্য।

ওয়াসার এমডিকে শরবত পান করানোর এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন রাজধানীর জুরাইন এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান। স্ত্রী শামীম হাশেম খুকি ও তাদের মেয়েকে নিয়ে তিনি হাজির হয়েছেন ওয়াসা ভবনের সামনে। এছাড়া একই এলাকা থেকে এসেছেন মতিয়ার রহমান। পূর্ব রামপুরা থেকে এসেছেন মনিরুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

ওয়াসা ভবনের উল্টোদিকে এসেই তারা ওয়াসার পানি দিয়ে শরবত তৈরি করেন। লেবু-চিনির সেই শরবতই ওয়াসার এমডিকে পান করাতে চান তারা।

মিজানুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার এলাকায় ওয়াসার লাইন দিয়ে নর্দমার পানি আসে। দুর্গন্ধযুক্ত সেই পানি পান করা যায় না। অথচ ওয়াসার এমডি বলেন, শতভাগ বিশুদ্ধ। তাই উনার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে উনাকে শরবত খাওয়াতে চাই।’

ওয়াসার এমডির কাছে কৈফিয়ত চাইতে এসেছেন জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘উনি যে বললেন সব পানি সুপেয়, এই কারণে আমি আমার এলাকা থেকে উনার সরবরাহ করা পানি নিয়ে এসেছি উনাকে খাওয়ানোর জন্য। উনি খেলেই বুঝতে পারবেন যে কী পানি সরবরাহ করছেন। তিনি সুপেয় পানির যে দাবি করেছেন তা আসলে সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার এলাকা জুরাইনে ৪০ বছর আগে ওয়াসার পাইপ লাইন বসানো হয়েছে। প্রথম ১০ বছর আমরা ভালো পানি পেয়েছি। এরপর থেকে ভালো পানি পাচ্ছি না। যা পানি পাই তা স্যুয়ারেজের পানির মতো। এই পানি খাওয়া যায় না, এমনকি গোসলের জন্যও ব্যবহার করা যায় না। এর বিকল্প হিসেবে এলাকার বেশ কয়েকটি মসজিদে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এলাকার মানুষকে টাকার বিনিময়ে ওই নলকূপ থেকে পানি নিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম সারতে হয়।’

২০১২ সালে জুরাইনবাসীর পক্ষ থেকে সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার গণসাক্ষর সংগ্রহ করে বর্তমান এমডির হাতে দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। এ তথ্য জানিয়ে তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘সে সময় আমরা যে প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে দেখা করি, তাদের সঙ্গে তিনি খুব তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে কথা বলেন। জানান, টাকা নেই। তিনি আমাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন। এ কারণে উনার বক্তব্য অনুযায়ী সুপেয় পানি নিয়ে আমরা এসছি উনাকে খাওয়াতে এবং এই পানি সরবরাহের বিষয়ে কৈফিয়ত চাইতে।’

তবে ওয়াসার জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান এখনও অফিসে আসেননি।

এদিকে, ওয়াসা ভবনের প্রবেশপথে সকাল থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কাউকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দিয়েও এই প্রতিবেদক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই কর্মসূচির কারণেই আমাদের ডাকা হয়েছে। আমরা প্রবেশপথে নিরাপত্তা দিচ্ছি। এছাড়া এমডি’র দফতরের সামনেও আমাদের পুলিশ সদস্যরা আছেন।

ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়!

গত ২০ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা শহরের অধিকাংশ মানুষ ফুটিয়ে নয়, সরাসরি ওয়াসার ট্যাপের পানি পান করেন। আর ওয়াসার পানি শতভাগ সুপেয়

ঢাকা ওয়াসার সার্বিক মান নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ওয়াসার পানি সুপেয় নয়। তাদের সরবরাহ করা পানি ফুটিয়ে পানযোগ্য করতে বছরে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ করতে হয় রাজধানীবাসী। একই প্রতিবেদনে টিআইবি আরও বলেন, দুর্নীতি নেই— ঢাকা ওয়াসায় এমন জায়গা খুঁজে পায়নি টিআইবি!

এ প্রতিবেদনের জবাবে ওয়াসার এমডি বলেন, প্রতিবেদনটি একেবারেই গবেষণামূলক নয়, এটি একপেশে ও ধারণামূলক। আমরা ২৪৩টি জায়গা থেকে ওয়াসার পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছি। কোথাও কোনো ধরনের জীবাণু পাওয়া যায়নি। ঢাকা ওয়াসা ৯৮ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।

সারাবাংলা/এইচএ/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন