সোমবার ২০ মে, ২০১৯ ইং , ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীর খোঁচা

এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | ৩:২৫ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুতে নতুন করে আরেকটি রেল সংযোগ করে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের এই প্রস্তাবের কথা। একইসঙ্গে খোঁচা দিতেও ছাড়লেন না সংস্থাটিকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেল সংযোগ দিতে গিয়ে যাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আমাকে কথা বলতে হয়েছিল, সেটা হলো বিশ্বব্যাংক। আর তারা এখন আমাদের নতুনভাবে প্রস্তাব দিয়েছে, সেতুর সঙ্গে যে রেল আছে, সেটা ছাড়াও আলাদা করে একটা রেল সেতু যমুনা নদীর ওপর করে দিতে চায়। এত দিন পরে তারা বুঝল যে এটার প্রয়োজন কত বেশি।’

আরও পড়ুন- প্রধানমন্ত্রীর হুইসেলে যাত্রা শুরু বনলতা এক্সপ্রেসের

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন ‘বনলতা এক্সপ্রেসে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটা আমাদের। আমরা যতটা আমাদের দেশের ভালো বুঝব, বাইরে থেকে হঠাৎ হঠাৎ কেউ এসে কেউ কখনো বুঝবে না— এটাই বাস্তবতা।’

সারাদেশে রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৪ সালে ফিজিবিলিটি স্টাডি করে জাপান। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের ঘটনার কারণে জাতির পিতা আর তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। যাই হোক, পরবর্তী সময়ে যখন এই সেতুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়, তখন এর সঙ্গে রেল সংযোগটা আমি সংযুক্ত করে দিয়েছিলাম। যদিও এটা নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। বিশেষ করে যারা অর্থ দেবে, সেই ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এটার ঘোর আপত্তি জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, এটা কখনো লাভজনক হবে না।’

‘আমার কথা ছিল যে, এটাই লাভজনক হবে এবং এই লাভ থেকেই এ সেতু কার্যকর হবে। তখন ডিজাইন প্রায় হয়ে গিয়েছিল। সেই অবস্থায় আমরা কিন্তু রেললাইন সংযুক্ত করি এবং সেভাবে বাস্তবায়ন করি। এর শুভ ফলটা পেয়েছে উত্তরবঙ্গের মানুষ।’, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণে পণ্য পরিবহন থেকে মানুষের যাতায়াত সুযোগ-সুবিধা তৈরিসহ গোটা অঞ্চলের মানুষের উপকারভোগী হওয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমার মনে আছে, আমরা যখন যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন করলাম, এই উদ্বোধনের পরপর ১৯৯৮ সালে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিল। এই বন্যা মোকাবিলা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু এই সেতুটা হওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গের যেসব অঞ্চলে বন্যা হয়নি, সেখান থেকে পণ্য পরিবহন করে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। কারণ নদী তখন প্রচণ্ড খরস্রোতা ছিল। এই সেতুটা ছিল বলে আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছিল। আর রেল সেখানে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল।’

দেশে রেল যোগাযোগ আরও উন্নতমানের করতে চান বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যেন পুরো দেশের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগটা ভালো হয়।

সারাবাংলা/এনআর/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন