শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯ ইং , ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

পাহাড়ি জনপদ থেকে বহুজাতিক কোম্পানিতে

এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | ১০:২২ অপরাহ্ণ

ফিচার ডেস্ক

বাংলাদেশের আর দশটা মফস্বলের মেয়ের মতোই নানারকম বাঁধা বিপত্তিতে কেটেছে রাঙ্গামাটির ফাতেমা আক্তারের জীবন। কিন্তু তিনি ছোটবেলা থেকেই জানতেন, তাকে লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আশপাশের মেয়েদের যেখানে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পরপরই বিয়ে হয়ে যেত, সেখানে ফাতেমার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পার করে ভালো একটা ক্যারিয়ার করাই ছিল এক ধরনের চ্যালেঞ্জ।

পরিবারের সহযোগিতায় সেই বাধা ডিঙিয়ে পেরিয়ে যান ঢাকা সিটি কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি। আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি ফাতেমাকে, তিনি এখন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকাকোলার জনসম্পদ বিভাগে কর্মরত।

পাহাড়, লেক আর সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটিতে বেড়ে উঠেছেন ডানপিটে ফাতেমা, ছোটবেলা থেকেই ঝোঁক ছিল নানারকম খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার। কিন্তু বড় হতে হতে সামাজিক বাধায় বাদ দিতে হয় সেসব। তাকে বলা হতো, ‘মেয়ে মানুষ, এই কাজ পারবে না।’ এমনকি মাধ্যমিকের পর ঢাকায় পড়তে আসার সময়ও চারদিক থেকে নানারকম নেতিবাচক কথা শুনতে হয়ে ফাতেমাকে। তখন তার পরিবারকে বলা হতো, ‘কেন ওকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে, আগে পরে তো বিয়েই দেবেন। কেন শুধু শুধু পড়াশোনা বা উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে কোথাও পাঠানো? মেয়ে এখানেই পড়ুক।’

তবে সমাজের কথায় কান দেননি ফাতেমার মা-বোনেরা। সবসময় তাকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। ফাতেমাও বিশ্বাস করতে থাকেন, একটা মেয়ের জীবন মানেই শুধু বিয়ে, সংসার আর সন্তান মানুষ করা নয়। তাকে এগিয়ে যেতে হবে বহুদূর। চাকরির পাশাপাশি এখন ম্যারাথন আর সাইক্লিংয়ের গ্রুপ প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন ফাতেমা।

বিজ্ঞাপন

খেলাধুলার পাশাপাশি বই পড়াতেও আগ্রহ ছিল ফাতেমার। পাহাড়ঘেরা রাঙামাটিতে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগই অনেক কম। সেখানে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্য বই পড়া ছিল আরও কঠিন। এর মধ্যেও টাকা জমিয়ে বই কিনে পড়তেন। ফাতেমা মনে করেন, বই পড়ার সেই অভ্যাসই তাকে এলাকার আর দশটা মেয়ের চাইতে আলাদাভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছে। নিজের সীমাবদ্ধ গণ্ডির বাইরের জীবনকে দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ ফ্যাকাল্টিতে ম্যানেজমেন্টে বিবিএ পড়ার সময়ই বহুজাতিক কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কোকা-কোলা ইন্টারন্যাশনাল বেভারেজেস প্রাইভেট লিমিটেডে চাকরি প্রাপ্তি তার জন্য অনেক বড় স্বপ্ন পূরণ। কোকাকোলার জনসম্পদ বিভাগে চাকরি করতে গিয়ে ফাতেমা শিখেছেন, একটা কোম্পানিতে যখন নানা জায়গা থেকে নানারকম ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ নিয়োগ পায় তখন তারা তাদের চিন্তা-ভাবনা আদান প্রাদানের সুযোগ পায়। এভাবে একজন ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও উন্নতি লাভ করে।

নিজে একটা পিছিয়ে পড়া জায়গা থেকে উঠে এসেছেন। তাই তিনি বলেন, তার চেষ্টা থাকবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ভিভিন্ন এলাকা ও অভিজ্ঞতার মানুষকে প্রমোট করা।

সারাবাংলা/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন