সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

কে নেতৃত্বে আসবে, এটা দল ঠিক করবে: প্রধানমন্ত্রী

এপ্রিল ২৬, ২০১৯ | ৭:৩০ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অবসর তো নিতেই হবে। কে নেতৃত্বে আসবে, এটা দল ঠিক করবে, এটা তো আমি ঠিক করব না। সেখানে আমি কেন বলে যাব অমুক হবে, তমুক হবে। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে ব্রুনেই সফর নিয়ে গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেন সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। আমরা কিন্তু আমাদের গঠনতন্ত্র মেনেই সংগঠনটা তৈরি করি। আমাদের সম্মেলন হয়ে গেছে। আবার আমাদের সম্মেলনের সময় এসে গেছে।’

সম্মেলনের আগে একেবারে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা, মহানগর পর্যন্ত সম্মেলনগুলো করা হয় জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আটটি টিম করে দিয়েছি। আমাদের আটটি বিভাগের জন্য। এই আটটি টিমের ওপর দায়িত্ব আছে যে, তারা ওই সব বিভাগে গিয়ে কমিটি করে দেবে। তৃণমূল থেকে সদস্য সংগ্রহ এবং কমিটি করে নিয়ে তারা নিয়ে আসবে।’

আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ডিজিটাল ‘তথ্যভাণ্ডার‘ করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আর একটি কাজ করতে যাচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ, তাই আমাদের সমস্ত কমিটিগুলিকে ডিজিটালাইজড করতে চাচ্ছি। আমরা একটি নতুন অ্যাপ তৈরি করে আমাদের সমস্ত কমিটি সেখানে রাখব। এজন্য একটি টিমও আমরা তৈরি করে দিয়েছি।’

বিজ্ঞাপন

তারা বিভাগওয়ারী সমস্ত কমিটির কারা সদস্য, তাদের নামসহ সব ডিজিটালাইজড করবে। আমি এখানে বসে একটা টিপ দিলেই দেখতে পাব, কি আছে। আর আমি যখন অবসর নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় যাব, সেখানে বসেও তা দেখতে পারবো বলেও জানান শেখ হাসিনা। ‘সেভাবে আমরা তৈরি করে দিচ্ছি। আওয়ামী লীগের একটা সিস্টেম আছে। এটা ভাসমান রাজনৈতিক দল না। আমরা সবসময় আমাদের গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করি।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো কোনদিন ভাবিনি, আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট হবো। চিন্তাও করিনি। ১৯৭৫’র পর ওই দুই-তিন বছর তো কিছুই চিন্তাও করতে পারিনি। খুব খারাপ অবস্থায় গেল। এরপরে যখন প্রথম ১৯৮০ সালে লন্ডনে গেলাম। আর ১৯৭৯ সালে রেহানা আমার পক্ষ থেকে সুইডেনে গিয়ে প্রথম রাজনৈতিক বক্তব্য দিলো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের হত্যার বিচার এবং মিলিটারি ডিটেকটরের বিরুদ্ধে।’

১৯৮০ সালে লন্ডনে সংগঠনকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্মতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন কিন্তু আমি আওয়ামী লীগের ছিলাম না। আমি ছাত্রলীগ করতাম। ছাত্রলীগের মেব্বার ছিলাম। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলাম। কাজেই ওটা আমি চিন্তাই করিনি। আমি পার্টির কিছু আছি কি, না আছি, ও নিয়ে মাথাব্যথাও ছিল না। সারা ইংল্যান্ড ঘুরে ঘুরে যেখানে যেখানে বাঙালি সেখানে সেখানে গিয়েছি। তখন অনেক কঠিনও ছিল। অতো টাকা-পয়সাও আমাদের ছিল না।’

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তখন যে কাজ শুরু করেছিলাম, তখন তো ওই নেতৃত্বের চিন্তাও করিনি। ওসব মাথাও ছিল না, দরকারও ছিল না। সংগঠনের কাজ হিসাবে কাজই করে গেছি। তারপর ১৯৮১ সালে যখন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, সেটাও তো জানিও না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, আসব। কারণ দেশে আসতে পারছিলাম না, সেটা হলে আসতে পারব। তারপর এসে দায়িত্ব নিয়েছি, কাজ করেছি।’

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘরে-বাইরে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করেছি। কোনোদিন মিডিয়ার কাজ থেকে সদয় কিছু পাইনি। সবসময় বৈরিতা পেয়েছি, এতে কোনো সন্দেহ নাই। ক্ষমতায় এলে যে দেশের উন্নতি করা যায়, সেটাও প্রমাণ করেছি। শুধু উন্নতি করা না, অন্তত এইটুকু বলতে পারি আজ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সারাবাংলা/এনআর/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন