সোমবার ২০ মে, ২০১৯ ইং , ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

এপ্রিল ২৭, ২০১৯ | ২:০৭ অপরাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা

—একদিন আমাদের একটা সাদা বাড়ি হবে।
—সেই বাড়িতে প্রচুর আলো-হাওয়া খেলবে বছরজুড়ে।
—সারাবছর ঘরের ভেতর থেকে আকাশ দেখবো, দেখবো বৃষ্টি আর রোদের খেলা।
—আর পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোয় ভেসে যাবে আমাদের ঘর।

ছাত্রজীবনেই টুকটাক করে স্বপ্ন বুনতেন টিনা আর স্বরূপ। বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর যখন সেই স্বপ্ন পূরণের সময় আসে, তখন নিজেদের মনের মতো করে গড়েছেন তাদের স্বপ্নের বাড়ি।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

ছিমছাম বসার ঘর ও খাবার ঘরের মাঝে নেই কোনো দেয়াল

এপ্রিলের তীব্র গরমের এক দুপুরে আমরা গেলাম স্বরূপ-টিনা দম্পতির উত্তরার বাড়িটিতে।  উদ্দেশ্য সারাবাংলার গৃহসজ্জার জন্য কন্টেন্ট তৈরি।  আগেই জেনেছিলাম তাদের বাড়িটায় প্রচুর আলো-হাওয়া আসার ব্যবস্থা রয়েছে।

জ্যামের শহর ঢাকা। তার ওপর নিম্নমানের বাস সার্ভিস।  সেই বাসভ্রমণের ক্লান্তি ও বিরক্তি মুহূর্তেই কেটে গেলো স্বরূপ-টিনার সুখের নীড়ে পৌঁছে। লিফট থেকে পা বাড়ালেই দুই পাল্লার কালো রঙের কাঠের দরজা। সেই দরজার ওপারেই সাদা ঘর—ঠিক যেন নিকোন উঠোন।  যেখানে দুদণ্ড বসে শান্ত হতে মন টানে।

 

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

বাড়ির প্রবেশমুখ 

প্রবেশমুখ পার করেই আমরা সরাসরি পৌঁছে গেলাম স্বরূপ-টিনার বসার ঘরে।  যেখানে চোখে আটকাবে এমন উচ্চতার আসবাব নেই। ঘরের দুই পাশে দুই খানা নিচু সোফা। মাঝখানে নিচু একটি সেন্টার টেবিল।  টেবিলের ওপর চারদিকে আঙুল বের হওয়া সাদা একটা পাত্রে সবুজ এক থোকা মানিপ্লান্ট গাছ। মনে হচ্ছিল বিশাল একটা গোল হাতের মধ্যে পুষ্পাঞ্জলির মতো ধরা সবুজ পাতার অঞ্জলি। মুহূর্তেই মন ভালো হয়ে যাবে ঘরজুড়ে খেলা সূর্যের আলো আর সেই এক টুকরো সবুজ দেখে।

 

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

বসার ঘরে সবুজের ছোঁয়া

 পাশেই ছোট ছোট পাল্লার চিকন চিকন কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো কাঁচের দরজার ওপাশে ছোট্ট বারান্দা। সেখানেও অল্প কিছু গাছ।

নিচু সোফাগুলোর চার পাশে দেওয়ালের সাদার সঙ্গে মিল রেখে হালকা রঙের কিছু শো-পিস, বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি সাজিয়ে রাখা।

খুব আরামদায়ক ভঙ্গিতে সাজানো বসার ঘর, ডায়নিং আর লিভিং মিলে টানা খোলা জায়গা দেখে নিজের অজান্তেই মনে আসে, টমাস হার্ডির সেই বিখ্যাত উপন্যাস, ফার ফ্রম দ্য ম্যাডিং ক্রাউডের কথা।  হিজিবিজি এই শহরের ঘিঞ্জি ব্যস্ততার মধ্যে টিনা-স্বরূপের এই বাড়িটা যেন এক টুকরো শান্তির দ্বীপ। সারাদিনের কর্মক্লান্তি আর মানসিক চাপের রাস্তা পেরিয়ে এমন একটা ঘরেই তো মানুষ ফিরতে চায়।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি
বিজ্ঞাপন

ঘরজুড়ে রোদের খেলা

সেই ঘরে ফেরার কথা উঠে এলো স্বরূপ-টিনা দম্পতির সঙ্গে কথোপকথনেও। দুজনেই ঘরে থাকতে পছন্দ করেন। অফিস শেষ করে বাইরে কোথাও না গিয়ে কখন বাসায় ফিরবেন, সেই তাড়া থাকে দুজনেরই।  স্বরূপ বললেন, সেই তাড়া তখনই থাকবে, যখন ঘর হবে শান্তির নীড়।  ঘরকে শান্তির নীড় বানাতে খুব একটা কসরত করতে হয়নি তাদের। বরং তারা বাদ দিয়েছেন বাহুল্য আর ঘরের ইন্টেরিয়রের সময় দেখিয়েছে কিছু মুন্সিয়ানা। সেই মুন্সিয়ানা আর্কিটেকচারের জটিল মাপজোখের নয়, বরং ডিজাইনের সঙ্গে স্বপ্নের মেলবন্ধনে।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

আফ্রিকা থেকে আনা কাঠের শো-পিস

টিনা বললেন, তিনি রঙ পছন্দ করতে গেলে দ্বিধায় পড়ে যান। তাই তার সব পছন্দ সাদা-কালো আর লালে ঘুরপাক খায়। বাড়ি তৈরির সময় তাই তারা ঘরের রঙ সাদার প্রাধান্য দিয়েছেন। আর ফার্নিচার সব কালো। সাদা আর কালোর একঘেয়েমি কাটাতে এনেছেন কিছুটা ছাই রঙের ছোঁয়া। দুয়েকটা দেয়ালে করিয়েছেন ফেয়ার ফেসের কাজ। ফেয়ার ফেসে আলাদা রঙের ব্যবহার হয় না। রিফাইন্ড সিমেন্ট দিয়েই সাদা আর ধূসরের মিশেলে আলাদা একটা টেক্সচার আসে দেয়ালে।  কয়েকটা খালি ইটের লালচে দেয়ালও আছে। স্বরূপ বললেন, ‘আমার বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো বলতেন এইটাতে কাঠের কাজ করাও বা পেইন্টিং করাও। কিন্তু আমাদের এমনটাই ভালো লাগে। ঘরটাকে বাড়ি বাড়ি লাগে।  সময় কাটাতে ভালো লাগে। যেহেতু আমাদের বাড়িতে উঠোন, লন বা সময় কাটানোর মতো খোলা জায়গা নেই, তাই আমরা বাড়ির ভেতরটাকেই যতটা সম্ভব খোলামেলা রেখেছি।’

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

খাবার ঘরের পাশে সাজানো বাছাইকৃত কিছু সাজানোর উপাদান

তাদের পুরো বাসার সজ্জাতেই তাই ভারী আসবাব, পেইন্টিং, কারুকার্যময় শো-পিসের আবহ নেই। তবে আছে কিছুটা পুরনোর ছোঁয়া। টিনা জানালেন, তিনি বড় হয়েছেন দাদির কাছে আর স্বরূপ তার নানির কাছে। তাই দুজনের কাছেই দাদি-নানির আমলের আসবাবের প্যাটার্ন ভালো লাগে। সব আসবাবের রঙ কালো। নস্টালজিয়া ধরে রাখতে খাবার ঘরে রেখেছেন মিটসেইফের আদলে বানানো কাপবোর্ড। এভাবে ঘরের বাকি আসবাবও টিনা নিজে ডিজাইন করে দিয়ে বানিয়ে নিয়েছেন। বললেন, কোনো কোনোটা হয়তো দুই থেকে তিনবার খুলিয়ে বানাতে হয়েছে। তাও নিজেদের স্বপ্নের সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করেননি।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

স্লিম আর ছিমছাম আসবাবে সাজানো ছেলের শোবার ঘর

ভারী আসবাব পছন্দ না করার পেছনে মজার এক গল্প শোনালেন দুজন মিলে। ছোটবেলায় স্বরূপ যখন গুলশান বা শহরের অন্য এলাকার অভিজাত আত্মীয়দের বাসায় যেতেন, তখন দেখতেন সেখানে ভারী ভারী আসবাব, বিশাল ঝাড়বাতি আর অন্যসব গৃহসজ্জার উপাদান দিয়ে সাজানো। কোনো কোনো আসবাব হয়তো ইউরোপ থেকে এসেছে অথবা দামি কাঠের তৈরি। এটাতে হাত দেওয়া যাবে না, সেটাতে হাত দেওয়া যাবেনা’র বিধিনিষেধে সেসব বাসায় গেলে একরকম অস্বস্তিই হত স্বরূপের।

তাই বড় হয়ে যখন নিজেদের বাড়ির স্বপ্ন দেখেন তখন দুজনেই ভেবে রেখেছিলেন তাদের বাসা হবে এর উল্টো। বাড়ি সাজানোর দর্শনই ছিল, তাদের বাসায় এসে যেন কেউ আড়ষ্ট বোধ না করেন। টিনা বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই ভেবে রেখেছিলাম আমাদের বাসায় এসে যেন কেউকে বসার চিন্তা, জিনিসপত্র ভাঙার চিন্তা না করতে হয়। হাত-পা ছড়িয়ে আরাম করে যেন বসতে পারে লোকজন। ’

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

আরামদায়ক নীচু সাদা সোফা

তাই তো প্রাণোচ্ছ্বল এই দম্পতির বাসার সব আসবাব আই লেভেলের।  তাদের আসবাবপত্র সব স্লিম, স্মার্ট ও নিট।  নিচু সোফার কথা বলতে গিয়ে স্বরূপ তো হাসতে হাসতে বলেই ফেললেন, ‘ভাগ্যিস ঢাকা আর আগের দিনের মতো নাই যখন হুটহাট করে আত্মীয়স্বজন বাসায় চলে আসতো। তখন নিচু সোফায় বসতে বয়স্ক আত্মীয়দের কষ্টই হতো!’

আসবাবের বাহুল্য নেই দেখেই টিনা-স্বরূপের বাড়ি তাদের বন্ধুদেরও ভীষণ পছন্দ। টিনা বলেন, ‘আমাদের বন্ধুরা সেই সকালে আসে, সারাদিন আড্ডা, গানবাজনা শেষে ভোররাতে ফিরে যায়। ’

বসার ঘরের কোণে সাজিয়ে রাখা বাদ্যযন্ত্রগুলোর রহস্য জানা গেলো এবার।

অন্দরসজ্জায় তাদের বসার ঘরে নেই কোনো ঝাড়বাতি। দেয়ালে নেই বাড়তি কোনো কারুকাজ, পেইন্টিং বা ওয়াল হ্যাঙ্গিং। খাবার ঘরের এক কোণে কিছু তাকে সাজানো বাছাই করা কিছু শো-পিস। ঝাড়বাতি না থাকলেও স্পটলাইটের মাধ্যমে পুরো বাড়ি জুড়ে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থা আছে।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

ভিন্নতা আছে খাবারঘরের বেসিনেও

শুধু সাদা-কালো-ধূসরই নয়, এই বাড়িটায় একটুকরো জায়গা রঙের জন্যও বরাদ্দ। খাবার ঘরের পাশে টিনা আর স্বরূপের একমাত্র ছেলের ঘরের পাশেই তাদের রিডিং রুম কাম টেম্পোরারি অফিস। একপাশে খালি ইটের দেয়াল, অন্যপাশে বইয়ের তাক। এক চিলতে মেঝেটা কালচে কাঠের। এই বাড়ির সদস্যদের ছবি আর তাদের ছেলের আঁকা কিছু চিত্রকর্মও জায়গা পেয়েছে এখানেই। লম্বা জায়গাটার মাথায় মেঝে ছোঁয়া কাচের জানালা। সূর্য যেন উঁকি দিতে এসে ফিরে না যায়, তাই জানালায় ভারী পর্দার পরিবর্তে বাঁশের খড়খড়ি।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

ছোট্ট স্টাডি

এখানেই কিছু রঙিন কুশনে বসার ব্যবস্থা। জানালেন শহরজুড়ে যখন এমার্জেন্সি চলে, তখন বিশেষ ব্যবস্থায় প্রয়োজনে এখানে বসেই অফিস করে দুজন। টিনা জানালেন, বাড়িতে বই পড়ার একটা জায়গা রাখার স্বপ্ন ছিল তাদের। স্বরূপ নিজে লেখক। এই বইমেলাতে ওমর শরীফ আর সুমন পাটোয়ারির সঙ্গে মিলে বেরিয়েছে বই ‘বাদামের খোসা’। এখন পেশাগত ব্যস্ততায় নিয়মিত না লিখলেও ভবিষ্যতে নিয়মিত লেখার ইচ্ছা আছে তার। সবমিলিয়ে তাদের এই ছোট্ট সুন্দর স্টাডি। স্বরূপ জানালেন, বাড়ির অসংখ্য দেওয়াল যেমন বাদ দিয়েছেন তারা তেমনি এই জায়গাটা আসলে ছিল বাথরুমের জন্য। ইতোমধ্যেই আরও চারটা বাথরুম থাকায় এই জায়গার দেওয়াল বাদ দিয়ে নিজেদের মনের মতো করে গড়ে নিয়েছেন। সারা বাড়িতে একইরকম রঙের খেলা চলতে থাকলে কিছুটা ব্রিদিং স্পেসও প্রয়োজন। এই বাড়ির ব্রিদিং স্পেস যেন এই বর্ণিল স্টাডি কর্নার।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

বইয়ের ফাঁকে ফাঁকে সাজানো পারিবারিক ছবি আর ছেলের আঁকা চিত্রকর্ম

এই বাড়ির তিনটি বেডরুমেও সাদা-কালোর মিশেলে নিচু নিচু আসবাব। চারদিকে যেখানেই জায়গা সেখানেই জানালা আর হালকা রঙের পর্দা। যেন কোনোভাবেই আলো আসতে বাধা না পায়। এমনকি টিনার শোবার ঘরে কোনো ড্রেসিং টেবিলও নেই। একপাশের দেয়ালজোড়া কালো কাঠের আলমারি।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

বাড়ির প্রধান শোবার ঘর

এপ্রিলের সেই দুপুরে রোদের বন্যায় যেন ভেসে যাচ্ছিলাম আমরা। কংক্রিটের এই জঙ্গলে কখন সকালের মিঠে রোদ গিয়ে দুপুরের কড়া রোদে ঝলসে যায়। দুপুর পেরিয়ে আসে মিষ্টি আলোর বিকেল আর বিকেলের সোনা রোদ গড়িয়ে ডেকে আনে কমলা সন্ধ্যা তা আমরা অনেকেই টের পাই না। কিন্তু এই বাড়িতে সারা বছর সূর্যের গতিবিধি ধরে রাখার ব্যবস্থা রেখেছেন স্বপ্নময় এই দম্পতি।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

ঘরে রোদ আসে এই চিমনির মত করে বানানো কাঁচের ছাদ দিয়েই

খাবার ঘরের এক কোণে ছাদের কিছু জায়গায় ফাঁকা। ছাদ ফুঁড়ে অনেকটা চিমনির মতো উঠে গিয়েছে চারটে সরু দেয়াল।  ওপরে বসানো টেম্পার্ড গ্লাস। সেই কাচের আবরণ ভেদ করেই ‘খেলে যায় রৌদ্র  রোদ্র ছায়া, বর্ষা আসে বসন্ত’

পেশাগত কারণেই সারাবছর দেশে বিদেশে ঘুরতে হয় টিনাকে। বললেন, শীত তার একদম ভালো লাগে না। শীত মানেই তার কাছে অন্ধকার আর বিষণ্নতা। তিনি পছন্দ করেন গ্রীষ্ম। গ্রীষ্ম মানেই তার কাছে আলো, আনন্দ আর প্রাণোচ্ছ্বল্লতা। তাই তাদের বাড়িতে সারাবছর এই আলো আসার ব্যবস্থা। স্বরূপ বললেন আর্কিটেক্টকে ব্যাপারটা বোঝাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল তার। তবে পরিকল্পনামতো সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ায় এই শহরের বুকেও তাদের ঘরে সারাবছর সূর্যের উঁকিঝুঁকি চলতেই থাকে। এমনকি আশেপাশে বাড়ি উঠে গেলেও তাদের বাড়ির এই আলোর উৎস বন্ধ হবে না।

টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি

ছাদবাগানের ফল আর ফুল

আলো আর বাতাসের পাশাপাশি টিনা আর স্বরূপের গাছাপালাও ভীষণ পছন্দ। তাদের ছাদবাগানে আছে নানারকম ফল আর ফুল গাছের সমারোহ। টিনা বললেন সারা বছরই যেন কোন না কোন ফুল থাকে সেই চেষ্টা থাকে তাদের।

এই দম্পতি দামি দামি আসবাব দিয়ে না সাজিয়ে নিজেদের মনের মতো করে গড়েছেন নিজেদের এই গৃহকোণ। ঘরে ঢুকেই যেন শান্তি পেতে চান তারা। আর ঘরে ফেরার সেই আকুলতা থেকেই এই দম্পতি গড়েছেন টিনা-স্বরূপের সাদা বাড়ি।

ছবি- আশীষ সেনগুপ্ত

 সারাবাংলা/আরএফ/এমএনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন