বিজ্ঞাপন

অভিবাসীদের সঙ্গে মানবিক ব্যবহারের আহ্বান

April 28, 2019 | 3:13 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অভিবাসীদের সঙ্গে আরও বেশি মানবিক ব্যবহার করার ওপর জোর দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু রেমিটেন্সের জন্য হাততালি দিচ্ছি। কিন্তু প্রবাসীরা যখন বিমানবন্দরে আসছেন সেখানে তারা নেতিবাচক আচরণের শিকার হচ্ছেন। অভিবাসীদের সঙ্গে মানবিক ব্যবহারের জায়গাটি আরও উন্নত করতে হবে। কর্মসংস্থানের জন্য নতুন বাজার সন্ধানেও জোর দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অভিবাসন ও সোনার মানুষ সম্মিলন-২০১৯ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান অতিথি হোসেন জিল্লুর রহমান। চতুর্থবারের মতো এবারও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।

এসময় ২০২০ থেকে ২০২৯ সালকে অভিবাসন দশক ঘোষণা করে নারী ও পুরুষ অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে অভিবাসন প্রক্রিয়া এখনো অনেক দীর্ঘ ও ঢাকাকেন্দ্রিক। খাতটি অনানুষ্ঠানিক ব্যক্তি নির্ভর। ৯০ শতাংশ ব্যক্তিই অনানুষ্ঠানিক ব্যক্তির উপর নির্ভর করে বিদেশে যান। যারা বিদেশ যান তাদের শতভাগকে দালালের ওপর নির্ভর করে যেতে হয়। অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশিদের ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি অর্থ খরচ করে বিদেশে যেতে হয়।

বিজ্ঞাপন

ফ্রি ভিসা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হচ্ছে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভিসা সংগ্রহের বিষয়টি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ১৭টি অভিষ্ট আমাদের অর্জন করতে হবে। এটি একদিক থেকে বৈশ্বিক অভিষ্ট, কিন্তু অন্য দিকে থেকে আমরা যদি বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে চাই, যেখানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন থাকবে, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি থাকবে, অর্থনৈতিক প্রগতি থাকবে। এই তিনটির যে সংমিশ্রণ, অভিষ্টতে কিন্তু তাই বলা আছে। অভিবাসীরা অর্থনীতিতে যে অবদান রাখছেন, সেটার জন্য আমরা যদি একটা ভালো পরিবেশ করতে পারি তাহলে ১৭টি অভিষ্টের মধ্যে ১১টি অর্জন সহজ হবে। আমরা যদি অভিবাসন দশক ঘোষণা করতে পারি, ২০৩০ এ কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রার সময় শেষ হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগামী এক দশকে বাংলাদেশের কয়েক লাখ মানুষ অভিবাসী হতে বাধ্য হবে আশঙ্কা করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের বাংলাদেশ শাখার পরিচালক ড. সেলিম উল হক বলেন, ‘বিশেষত উপকূলের মানুষকে তাদের এলাকা ছাড়তে হবে। তারা ঢাকায় আসবে। তাই অন্য শহরকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন করতে হবে। আমরা ২০ টি শহরকে চিহ্নিত করেছি। সেগুলোর উন্নয়ন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে অভিবাসন হচ্ছে, এর জন্য যারা দায়ী, তাদের সেই অভিবাসন নিশ্চিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

অভিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে চান বলে জানান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব সেলিম রেজা। তিনি বলেন, `আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের জন্য, এই দেশের জনগণের জন্য। মানুষের জন্য যেটা সুবিধা, আমাদের সেটাই করতে হবে।'

রামরু'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ার ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, গতবছরই ২০২০-২৯ সালকে অভিবাসন দশক ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন তারা। এবারও সেই একই দাবি জানানো হচ্ছে। কারণ শুধু বিদেশ পাঠানোই অভিবাসনের কাজ নয়। অভিবাসনের কাজ হচ্ছে, তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা। যাতে করে অপেশাদার ও অদক্ষ লোক না পাঠিয়ে দক্ষ কর্মী পাঠানো। যেন বাংলাদেশিরা শ্রমবাজারে আরও প্রশংসিত হন সেই চেষ্টা করা।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসএমএন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন