বিজ্ঞাপন

সারা শহর খুঁড়ে রেখেছেন কেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডিকে প্রশ্ন

April 28, 2019 | 5:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে গিয়ে পানি না পাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ, রাস্তায় অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িসহ একগাদা অভিযোগ তুলে ধরেছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন নাগরিকদের একটি প্রতিনিধি দলকে নিয়ে ওয়াসায় গিয়ে এসব অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর ওয়াসা ভবনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহর কাছে গিয়ে সুজন জানতে চান, ‘সারা শহর খুঁড়ে রেখেছেন কেন? মানুষের তো হাঁটার জায়গাও রাখছেন না।’ এভাবে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে একপর্যায়ে সভায় অনেকটা তোপের মুখে পড়েন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে এর আগে গত ২৪ এপ্রিল ওয়াসার বোর্ড সভায় পরিচালকদের একাংশের তোপের মুখে পড়েছিলেন ফজলুল্লাহ। পাঁচদিনের মাথায় একই অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে যান খোরশেদ আলম সুজনের নেতৃত্বে সামাজিক সংগঠন নাগরিক উদ্যোগের নেতারা। তারা ওয়াসাকে সমস্যা সমাধানের জন্য এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেন।

বিজ্ঞাপন

সুজন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্দেশে বলেন, ‘ওয়াসা এখন আগের অবস্থায় নেই। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- মানুষ পানি পাচ্ছে না। আপনি শহর ঘুরে দেখেন, অনেক এলাকার গ্রহকরা পানি পাচ্ছে না। আপনার প্রতিষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতপন্থী কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তারা বোধহয় সরকারের এই উন্নয়ন কাজ পছন্দ করছেন না। তারা মাঠে গিয়ে স্যাবোটাজ করছেন কি-না সেটা দেখবেন।’

বিভিন্ন এলাকায় পানির চাপ কম থাকার প্রসঙ্গ তুললে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল্লাহ বলেন, ‘রাতে পানির প্রেসার বেশি থাকে।’ তখন সুজন বলেন, রাতে প্রেসার দিয়ে লাভ কী। রাতে কি মানুষ পানি ব্যবহার করে। সেই পানি তো রাস্তা থেকে ভাউচারে ভরে বিক্রি করা হয়।’

সুজন বলেন, ‘অনেক এলাকায় ওয়াসার পানি আসছে যেগুলো খুবই দুর্গন্ধযুক্ত। মানুষ এই পানি ব্যবহার করতে পারছে না। ওয়াসার ফিল্ড অফিসাররা কী করেন। উনারা এসব খবর রাখেন না কেন।’

জবাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘দুর্গন্ধযুক্ত পানির খবর কেউ আমাদের জানালে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে দিই।’

এরপর রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ির প্রসঙ্গ তোলেন খোরশেদ আলম সুজন। তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন করতে হলে খোঁড়াখুঁড়ি করতে হবে, সেটা বুঝি। কিন্তু একইসঙ্গে সারা শহরে খুঁড়ে রেখেছেন কেন। একসঙ্গে সব রাস্তা কেটে না ফেলে শহরকে দুই অংশে ভাগ করে কাটেন। এক অংশের কাজ শেষ হলে আরেক অংশে ধরেন। এখন যেভাবে কাটছেন, গাড়ি চালানো দূরের কথা, মানুষের হাঁটার জায়গাও তো রাখছেন না।’

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উদ্দেশ্য করে সুজন আরও বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আপনাদের সমঝোতা নেই কেন। কাউন্সিলররা বলেন- তারা একবার রাস্তা মেরামতের তিনদিন পর ওয়াসা গিয়ে আবারও কেটে দেয়। এটা কেন হবে। আগে আপনারা বড় কাজ করতেন রাতে। এখন দিনেও করেন। আগের মতো রাতে করতে পারেন না।’

জবাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন- ‘চট্টগ্রাম শহরের মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্যই রাস্তা কাটতে হচ্ছে। এই কাজটা ৩০-৪০ বছর আগে হওয়ার কথা। তখন হয়নি বলে এখন করতে হচ্ছে। তবে পানি সরবরাহের জন্য এই কাটা শেষ কাটা। ২০২২ সালের পর আর কোনো রাস্তা কাটা হবে না।’

এক সপ্তাহের মধ্যে সব সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে সুজন বলেন, ‘মনে রাখবেন, পানির জন্য হাজার হাজার মানুষ নিয়ে এই ওয়াসার সামনে এসে আমি কলসি ভেঙেছিলাম। ওয়ান-ইলেভেনের সময় এজন্য আমাকে অনেক হয়রানির শিকারও হতে হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান করুন। অন্যথায় আমি আবারও আসব।’

সভা শেষে সুজন সারাবাংলাকে বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট কয়েকটি অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলাম। ওয়াসার এমডি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। কাজ না করলে একসপ্তাহ পর আবার যাব। তিনি রমজানে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন। আমরা ওয়াসার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করছি। কমিটমেন্ট অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিলে আমাদের ব্যবস্থা আমরা নেব।’

এ সময় নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী এবং সদস্য সমীর মহাজন লিটন, সাইফুল্লাহ আনসারী, শেখ মামুনুর রশীদ, জাহাঙ্গীর আলম, সফি আলম বাদশা, স্বরূপ দত্ত রাজুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন