বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

চার মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে সরকারের পাওনা ১৫ হাজার কোটি টাকা

এপ্রিল ২৮, ২০১৯ | ৮:৫৯ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

সংসদ ভবন থেকে: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের ৪টি মোবাইল ফোন কোম্পানির কাছে সরকারের মোট পাওনা রয়েছে ১৫ হাজার ১৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এ অর্থ আদায়ের জন্য বিটিআরসি কর্তৃক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (২৮ এপ্রিল) সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী জানান, সিটিসেলের কাছে সরকারের রাজস্ব বকেয়া রয়েছে ১২৮ কোটি টাকা। বকেয়ার টাকা পরিশোধ না করায় কোম্পানির সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। এ সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে হাইকোর্টে একাধিক মামলা রয়েছে।

মোস্তাফা জব্বার জানান, রাষ্ট্রীয় মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডসহ বেসরকারি কোম্পানি গ্রামীণ ফোন, রবি আজিয়াটা প্যাসিফিক, বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড (সিটিসেল) -এই চার কোম্পানির ১৫ হাজার ১৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। রাজস্ব বাকির তালিকায় শীর্ষে টেলিটক, এরপরই গ্রামীণ ফোন।

বিজ্ঞাপন

মোস্তাফা জব্বার জানান, বিটিআরসি সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করতে মোবাইল অপারেটরগুলো নিয়মিত অডিট করা হয়। ইতোমধ্যে গ্রামীণ ফোন ও রবি আজিয়াটায় এ অডিট করা হয়েছে।

অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে চালু ফোন কোম্পানিগুলোর মধ্যে সিটিসেলের নিকট ১২৮ কোটি টাকার রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ফোন লিমিটেডের কাছে অডিট আপত্তির পরিমাণ ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, রবি আজিয়াটার নিকট ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আর রাষ্ট্রীয় মোবাইলফোন অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নিকট থ্রিজি স্পেকট্রাম অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবদ একহাজার ৫৮৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে।

মন্ত্রী জানান আপত্তিকৃত অর্থ পরিশোধের জন্য গ্রামীণ ফোন ও রবি আজিয়াটাকে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলালিংক ও এয়ারটেল- এ দু‘টি মোবাইল কোম্পানির অডিট কার্যক্রমের লক্ষ্যে অডিটর নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এম আবদুল লতিফের (চট্টগ্রাম-১১) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘোষণা রয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়নে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক কর্ম-পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের ওপর কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন