বিজ্ঞাপন

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে চায় সরকার, ইওআই আহ্বানের নির্দেশ

April 28, 2019 | 11:24 pm

হাসান আজাদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশীয় কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে সরকারের তিনটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর বর্তমান রির্জাভ ও উৎপাদন সক্ষমতা বিবেচনা করে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) বা আগ্রহপত্র আহ্বান করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি বিষয় উপদেষ্টার সঙ্গে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং জ্বালানি খাতে লোকসান কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের ওই কর্মকর্তা জানান, দেশি কোম্পানির অধীনে থাকা গ্যাসক্ষেত্রগুলোর অনেক কূপের উৎপাদন কমে গেছে। এ অবস্থায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কূপ থেকে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে এলএনজির ওপর চাপ কমবে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গ্যাসক্ষেত্রে পরিত্যক্ত ও উৎপাদন চলমান থাকা— এই দুই ধরনের কূপ থেকেই উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য কোন কূপগুলোতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন করে গ্যাস উৎপাদন করা যায় এবং চলমান কূপগুলোর উৎপাদন বাড়ানো যায়, এ জন্য কারিগরি পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে। এই পর্যালোচনা শেষে বলা যাবে গ্যাস উৎপাদন কতটুকু বাড়বে। আর এই কাজ করার জন্য এবং সম্ভাব্য কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদনে আগ্রহী কোম্পানি খুঁজতেই আন্তর্জাতিক আগ্রহপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আগ্রহপত্র আহ্বানের কাজ শুরু হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহের বিপরীতে যে লোকসান হচ্ছে, তা কমাতে সরকারের কাছে তিন হাজার ৩৬০ কোটি টাকা চেয়েছে পেট্রোবাংলা। এছাড়া অতিরিক্ত আরও একশ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করতে অতিরিক্ত ২৪ হাজার ৫৪০ কোটি ২৪ লাখ টাকা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি এলএনজি আসার কারণে জ্বালনি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী প্রতি ঘনফুট গ্যাসের দাম শূন্য দশমিক ৫৫৬২ টাকা বাড়াতে হবে।

বিজ্ঞাপন

গ্যাস উৎপাদনের বর্তমান চিত্র

পেট্রোবাংলার গ্যাসের দৈনিক উৎপাদনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির (বিজিএফসিএল) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র। এর মধ্যে দেশের অন্যতম বড় গ্যাসক্ষেত্র তিতাস রয়েছে এই কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। এই গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে ২৬টি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৫৪২ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে ৪৯৫ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের ৭টি কূপের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ২২৫ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও উৎপাদন করা হচ্ছে ২০২ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিজ্ঞাপন

বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ছয়টি কূপের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এখানে উৎপাদন হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের দু’টি কূপের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ২৯ মিলিয়ন ঘটফুট। মেঘনা গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ১১ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে এখন উৎপাদন হচ্ছে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই হিসাবে বিজিএফসিএল নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের মোট ৪২টি কূপের মাধ্যমে ৮৫১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা থাকলেও এগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৭৬৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। অর্থাৎ, এই পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ক্ষমতা কমে এসেছে ৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

এদিকে, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র। এগুলোর ১২টি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ১৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও এখন উৎপাদিত হচ্ছে ১২১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ৬ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে তিন মিলিয়ন ঘনফুটের কিছুটা বেশি। কৈলাশটিলা-১ গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপ থেকে দৈনিক ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে কূপটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কৈলাসটিলা-২ গ্যাসক্ষেত্রের তিন কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে বর্তমান উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ৫৯ মিলিয়ন ঘনফুট। রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের পাঁচটি কূপের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও তা কমে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আর বিয়ানিবাজার গ্যাসক্ষেত্রের দুইটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। এই কূপ দুইটি থেকে এখন উৎপাদন হচ্ছে ৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

বিজ্ঞাপন

বাপেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন সালদা গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ৩ মিলিয়ন ঘনফুটের বিপরীতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের দুই কূপ দিয়ে ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা শুরু হলেও তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুটে। শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের তিনটি কূপ দিয়ে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের জায়গায় বর্তমানে ৫৬ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রের দুইটি কূপ দিয়ে ৩ মিলিয়ন ঘনফুটের স্থলে বর্তমানে কমে উৎপাদন হচ্ছে এক মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন ঘনফুট। শ্রীকাইল গ্যাস ক্ষেত্রের তিনটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতার পুরোটাই উত্তোলন করা হচ্ছে। এই তিনটি কূপের উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের দুইটি কূপ থেকে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৬ দশমিক ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। কূপ দু’টির উৎপাদন ক্ষমতা ছিল দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সারাবাংলা/এইচএ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন