শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

লাল-সবুজের থিম নেই টাইগারদের জার্সিতে

এপ্রিল ২৯, ২০১৯ | ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

মহিবুর রহমান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশ মানেই লাল-সবুজ। জাতীয় ক্রিকেট দলের জার্সিতেও সেই লাল-সবুজের ছোঁয়া মাতিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। কিন্তু আসছে ক্রিকেট বিশ্বকাপের জার্সিতে কি না সেই লাল-সবুজের থিমই নেই! সবুজ জার্সিতে বুকের ওপর বড় বড় করে বাংলাদেশ লেখা থাকলেও সেটা সাদা রঙে। কোথাও নেই লালের এতটুকু ছোঁয়া। আর সে কারণেই এই জার্সি নিয়ে তুমুল সমালোচনায় মেতেছে টাইগার ভক্তরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো জার্সি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার তারা।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু টাইগার জার্সিতে কেন নেই লাল-সবুজের থিম? জার্সির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি’র গাইডলাইনের পরিপন্থি হওয়ার কারণেই লালের ছোঁয়া রাখা যায়নি জার্সিতে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) সারাবাংলাকে এ তথ্য দিলেন টাইগারদের জার্সি প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকা স্পোর্টস অ্যান্ড স্পোর্টেজের কর্ণধার মেহতাবউদ্দিন আনোয়ার আহমেদ সেন্টু।

জার্সি

তিনি বলেন,‘জার্সিতে সবুজের মধ্যে বাংলাদেশ লেখা ও জার্সি নম্বর লাল ছিল। কিন্তু আইসিসিকে পাঠানোর পরে তারা লেখাগুলো সাদা করে দিতে বলেছে। জার্সিতে লাল ছিল না, এটা ভুল কথা। সবারই মাথায় ছিল লাল। মূলত আইসিসি বাংলাদেশের নাম ও জার্সি নম্বর সাদা করতে বলায় লাল রঙ অনুপস্থিত।’

বিজ্ঞাপন

তবে জার্সির ছবি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনার ঝড় ওঠে অনলাইনে-অফলাইনে। ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভ, জাতীয় পতাকার যে চিরচেনা লাল-সবুজ, তার অনুপস্থিতি এই জার্সিকে অচেনা করে তুলেছে। কেউ কেউ তো জার্সিকে পাকিস্তানের জার্সির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মত দিচ্ছেন। এই জার্সি বাতিল করে নতুন ডিজাইনের জার্সি তৈরির দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন অনুষদের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুল ইসলাম নাহিদ সারাবাংলাকে বলেন, এমন জার্সি পরে আগে কখনো বাংলাদেশ খেলেছে বলে মনে পড়ছে না। এটা ঠিক বাংলাদেশের জার্সি মনে হচ্ছে না! মনে হচ্ছে প্রতিবেশী কোনো দেশের জার্সির সঙ্গে মিল রেখে এ জার্সির নকশা করা হয়েছে। বাংলাদেশ দলের বড় একজন ভক্ত হিসেবে আমি বলব, যেকোনো মূল্যে জার্সির নকশা বদল করা হোক। টাইগারদের আমরা ঐতিহ্যের পোশাকে দেখতে চাই।’

ঢাবি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তন্বী বলেন, ‘এই জার্সি মাশরাফি-সাকিব-তামিমকে মানাবে না। প্রতিটি দলের পোশাকের একটি নিজস্ব ধরন আছে। আমরা যদি সেটা বুঝতে না পারি, তাহলে ধীরে ধীরে দলটি স্বকীয়তা হারাবে। অস্ট্রেলিয়ার যেমন ব্যাগি গ্রিন বা নিউজিল্যান্ডের ব্ল্যাক ক্যাপ রয়েছে, বিসিবির কাছে অনুরোধ, তারা যেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তেমন নিজস্ব একটি স্টাইল তৈরি করে দেয়।’

প্রকাশক ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট রবীন আহসান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এ আমার দেশের জার্সি নয়! এই পতাকা আমার নয়! জার্সি বাতিলের ঘোষণা চাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে।’

শাহানা হুদা লিখেছেন, এ জার্সি যে আমাদের নয়, হতে পারে না, সে কথা আমাদের বলতে হচ্ছে কেন? যারা এটা পরে ছবি তুলেছে, যারা এটা পরে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে, তাদের কি কোনো বোধ কাজ করছে না? তারা কি এটা না পারার কথা বলতে পারেনি? তারা পারুক না পারুক, আমরা এই পাকি জার্সি বাতিলের ঘোষণা চাই।’

শহিদকন্যা শাওন মাহমুদ ফেসবুকে জার্সি পরিহিত খেলোয়াড়দের ফটোসেশনের ছবি আপলোড করে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ দলের জার্সি। সব কথা আমাদের বলে দিতে হবে কেন! যারা গায়ে চড়িয়ে ছবি তুলেছে, তাদের মাথায় কেন আমাদের কথাগুলো ফিরে ফিরে আসে না!’

ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট আরিফ জেবতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের এই জার্সি যে বরাহ শাবকের পালেরা অ্যাপ্রুভ করেছে, এদের সবাইকে স্টেডিয়ামের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে চাবকানো উচিত। পাকিস্তানি জাতীয় পতাকার সবুজ-সাদা কম্বিনেশনে বাংলাদেশের জার্সি বানিয়েছে। বাংলাদেশের পতাকার লালের কোনো চিহ্নই নেই। পাকিস্তানি প্রেতাত্মা, পাকিস্তানে ফিরে যা।’

সারাবাংলা/এমআরএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন