বুধবার ২২ মে, ২০১৯ ইং , ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

হাউস অব লর্ডসে আইএমসি’র বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা

মে ১, ২০১৯ | ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

সারাবাংলা ডেস্ক

বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস-২০১৯ উপলক্ষে ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে এক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছে লন্ডনে সাংবাদিকদের নবগঠিত সংগঠন ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ক্লাব (আইএমসি)। স্থানীয় সময় বুধবার (১ মে) সন্ধ্যা ৭টায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় আইএমসি। আলোচনা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন হাউস অব লর্ডসের ক্রস-বেঞ্চ সদস্য লর্ড ইমস।

উল্লেখ্য, এবছর ১ থেকে ৩ মে সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ অথবা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস।

গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত থাকছেন দেশের ও প্রবাসের সাংবাদিকরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন, আইএমসি সভাপতি ও বিবিসি বাংলার ঊর্ধ্বতন প্রযোজক মাসুদ হাসান খান, বিবিসি বাংলার সম্পাদক সাবির মুস্তাফা, চ্যানেল ফোর নিউজের ফ্রিল্যান্স প্রযোজক বেকি হর্সব্রো, তুরস্কের টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিক শামীম আরা চৌধুরী, বাংলাদেশের একাত্তর টিভির সংবাদ প্রধান শাকিল আহমেদ, লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার প্রেস আশেকুন নবী চৌধুরী, বিবিসি নিউজের সাংবাদিক মাহফুজ সাদিক।

বিজ্ঞাপন

আরও উপস্থিত থাকবেন, সাপ্তাহিক জনমতের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরামর্শক রোহেমা মিয়া, চ্যানেল আই বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন স্টাফ করেসপনডেন্ট মসরুর আলাহে, ব্রডকাস্ট সাংবাদিক ও গবেষক বুলবুল হাসান এবং লন্ডনে চ্যানেল এস টিভির কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর ও একাত্তর টেলিভিশনের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি এডিটর তানভীর আহমেদ।

এর বাইরেও, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বহু পেশাদার সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা এবং সমাজের নানা স্তরের গুণীজন এই আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দান করেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিবৃতিতে অনুষ্ঠানের হোস্ট লর্ড ইমস বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম আজ গণতন্ত্রের প্রতীক। এই উপলক্ষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা সাংবাদিকদের আমি স্বাগত জানাই। বিশ্বের নানা দেশে জবাবদিহিতা নেই এমন প্রতিষ্ঠানগুলো বাক স্বাধীনতা ও সত্য প্রকাশে বাধা দান করে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। আমার নিজের দেশেই সম্প্রতি ২৯-বছর বয়সী এক রিপোর্টারের মৃত্যু সাংবাদিকদের ঝুঁকির কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেয়। কিন্তু তারপরও সত্য প্রকাশ করে যে সংবাদ তা তরবারির চেয়েও ধারালো। বাদবাকি সব ব্যর্থ হলেও শুধু সেটাই কার্যকর থাকে।

এছাড়া, ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ক্লাব-এর সভাপতি মাসুদ হাসান খান বলেন বলেন, সাংবাদিকতা এখন এক বিপদজনক পেশায় পরিণত হয়েছে। সারাবিশ্বে সাংবাদিকরা এমন কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন যা অভূতপূর্ব। যেমন, ভুয়া খবর, সাইবার হামলা, সেন্সরশিপ এবং সহিংসতা। সাংবাদিক হিসেবে আমাদের পেশাদারী সততা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আমরা কিভাবে সমুন্নত রাখতে পারি তা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও আলোচনা শুরু করার এটাই উপযুক্ত সময়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিডিয়া ক্লাব-এর বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস-২০১৯ উদযাপন প্রকল্প সমন্বয়ক তানভীর আহমেদ বলেন, আমার যে ডিজিটাল মিডিয়ার নতুন এক যুগে প্রবেশ করেছি তা এখন সুস্পষ্ট। এটা নাগরিক সাংবাদিকদের অনেক বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু নতুন এই মিডিয়া কি ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যমের জন্য হুমকি কি না, অথবা সোশাল মিডিয়া যদি বাক স্বাধীনতা বাহনই হবে, তাহলে আজও কেন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দেশে দেশে আলোচনার বিষয়বস্তু! এসব বিষয়ে ওয়েস্টমিনিস্টার প্রাসাদে  সাংবাদিক, শিক্ষক, গবেষকদের মতামত আমরা শুনবো বলে আশা করছি।

আইএমসি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় দ্রুত-বর্ধনশীল ডিজিটাল মিডিয়ার সম্ভাবনা এবং নতুন এই মাধ্যমের কারণে যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে যে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বহুমুখিতা এবং সাম্যতা বৃদ্ধি করে কিভাবে সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন করা যায় তা নিয়েও আলোচনা হবে।

সারাবাংলা/এনএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন