শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং , ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৫ রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

৭ বছরেও হয়নি ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন

মে ৫, ২০১৯ | ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

মীর মে‌হেদী হাসান, স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট

ঢাকা: দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নড়বড়ে অবস্থা দেখা দিয়েছে ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে। সবশেষ ২০১২ সালের ২৮ ডিসেম্বর অবিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৭ বছর পার হ‌য়ে গে‌লেও নতুন করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে কোনো সম্মেলন হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এতে দীর্ঘ হচ্ছে কমিটিতে স্থান প্রত্যাশী নেতাদের অপেক্ষার পালা। অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা। তবে এখনই সংবাদ সম্মেলন করার কথা ভাবছেন না দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তারা অপেক্ষা করছেন দলীয় নেত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর।

মহানগরের একাধিক নেতা সারাবাংলা‌কে জানান, বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় সরকার পতনের আন্দোলনের সূত্রপাত রাজধানীতে। এতে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাই রাজপথে থেকেছে। সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রেও তাই। বিগত সময়ে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন, মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াওসহ নানা অপরাজনীতির জবাব ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড নেতারাই দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগ‌রের স‌ম্মেলন না হওয়ায় নেতারা ঝিমিয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে, সম্মেলন ছাড়াও বর্তমান কমিটিরও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনবছর পার হয়ে গেলেও মহানগরে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড কমিটি করা সম্ভব হয়নি। অনেক বছর সম্মেলন না হওয়ায় দায়িত্বে থাকা নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পদ-পদবি বঞ্চিতরা। ঝিমিয়ে পড়েছে সংগঠনের কার্যক্রম। ডেকেও পাওয়া যায় না অনেককে।

বিজ্ঞাপন

জানা গে‌ছে, মহানগরের শীর্ষ নেতাদের দ্বন্দ্ব, স্বজন-প্রীতি, অনিয়ম, বিতর্কিত ও হাইব্রিডদের নাম আলোচনায় আসায় কমিটি গঠনে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে। তাদের মতে, দলের জন্য নিবেদিত, রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নেতাদের উপেক্ষা করে পছন্দের নেতাদের দিয়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট মহানগর নেতারা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি) তা স্থগিত করেন। তারপর আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্যকে উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি নিয়ে আসা অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয় কিন্তু তা‌তেও কোনো লাভ হয়নি।

মহানগর আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বছর সাতেক আগে সম্মেলনের পর কমিটি হলেও তা পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় তারা হতাশ। এছাড়া অনেক নেতাকর্মী দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
তাদের চাওয়া দলের প্রধান যেন শিগগিরই সম্মেলনের তারিখ দেন। তারিখ ঠিক হলে ঝিমিয়ে পড়া নেতারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান সারাবাংলা‌কে ব‌লেন, ‘নির্বাচনে বিপুল বিজয় ও সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের এখন একমাত্র লক্ষ্য তৃণমূল গোছানো। আমাদের সভানেত্রী (শেখ হাসিনা) এখন সে বিষয়টিই ভাবছেন। যেখানে সম্মেলন দরকার সেখানে সম্মেলন দিয়ে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হবে। অপূর্ণাঙ্গ কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতেও সংশ্লিষ্টদের কাছে শিগগিরেই বার্তা যাবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত সারাবাংলা‌কে ব‌লেন, ‘আমাদের সম্মেলন নেত্রী যে দিন নির্দেশ দেবেন সেদিন হবে। আমার মনে হয়, কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর আমাদেরটা হবে। নেত্রী নির্দেশ দিলে আমরা মানতে বাধ্য। আমরা রেডি আছি।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ সারাবাংলা‌কে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঝিমিয়ে পড়েনি। রাজপথে বিরোধীদলের আন্দোলন নেই। সরকারি দলে থাকলে আন্দোলনও করতে হয় না। আমাদের সব নেতাকর্মী সক্রিয় আছেন।’

তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের নেত্রী যেদিন নির্দেশ দেবেন সেইদিনই সম্মেলন হবে।’

সারাবাংলা/এমএমএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন