রবিবার ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

‘স্বাস্থ্য খাতকে বদলে দেবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব’

মে ৫, ২০১৯ | ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটলে বদলে যাবে দেশের স্বাস্থ্য খাত। চিকিৎসায় কমে আসবে বিদেশ নির্ভরতা। প্রযুক্তির এই প্রসার ঘটলে ভবিষ্যতে হয়তো মানুষের কোনো অসুখই থাকবে না।’

রোববার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কাউন্সিল হলে আয়োজিত ‘রোল অব বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন দ্য ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা জানান আলোচকরা। আইইবির কম্পিউটারকৌশল বিভাগ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সেমিনারে বক্তারা আরও জানান, ‘তবে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের কথা মাথায় রেখেই ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির এই উন্নয়নে বাংলাদেশের বাস্তবিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ঘটাতে হলে গ্রামের মানুষের কথা লক্ষ্য রেখেই সেই বিপ্লব ঘটাতে হবে। আমাদের যে কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে সেখান থেকেই যেন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারি। আমরা সেই প্রযুক্তি দিতে চায় যাতে গ্রামে বসেই তারা শহরের স্বাস্থ্য সেবা নিতে পারে। ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে বদলে দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিল্পব সব দেশের জন্য এক নয়। এটি সব মানুষের জন্যও এক নয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যদি মানুষের চাকরি যাওয়ার জন্যে ঘটে, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সেই বিপ্লব দরকার নেই। প্রযুক্তিকে আমরা জীবনের জন্য ব্যবহার করবো। কিন্তু প্রযুক্তি যেন আমার জীবনকে রিপ্লেস না করে। আমরা সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও গ্রামে বসে সেবা পায়।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রসার ঘটলে চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা কমবে বলে আমি বিশ্বাস করি। স্বাস্থ্যখাতে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্বাস্থ্য খাত ডিজিটাল উন্নয়নের আওতায় চলে এসেছে। বাকিটাও দ্রুত চলে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক ধারণার জন্যে প্রধানমন্ত্রী একদিন বিশ্ব জয় করবেন, এর জন্যে তিনি নোবেল জয় করবেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রসার ঘটলে এক সময় আমরা বাংলাদেশ থেকে মেডিকেল ডিভাইস রফতানি করতে পারবো। উদ্ভাবনের চর্চা যেন মেডিকেল সেক্টরে থেমে না থাকে।’ এছাড়া বায়োমেডিকেল ইঞ্চিনিয়ারদের ভবিষ্যতে দেশের হাসপাতালগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

সভাপতির বক্তব্যে আইইবির কম্পিউটারকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবায় আমরা মূলত দুই ধরনের সেবা দিয়ে থাকি- রিঅ্যাক্টিভ ট্রিটিম্যান্ট ও প্রোঅ্যাক্টিভ ট্রিটমেন্ট। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে স্বাস্থ্য সেবা প্রোঅ্যাক্টিভ ট্রিটমেন্টের দিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ সেবাটি এমন হবে- হয়তো ভবিষ্যতে কারও কোনো অসুখই থাকবে না। কীভাবে মানুষকে রোগমুক্ত রাখা যায় সারাবিশ্বে তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে মানুষের বডিতে যে অর্গান আছে, সেই অর্গান তৈরি করে মানুষের বডিতে বসিয়ে দেবো। এখন ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারদের একত্রিত করে মেডিকেল সেবা দেওয়ার সময় চলে এসেছে। তরুণ চিকিৎসক ও প্রকৌশলীরা সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী নুরুজ্জামানসহ অনেকে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন