বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

নামকরা নয়, বাসার কাছের কলেজে ভর্তি হও: আইডিয়াল অধ্যক্ষ

মে ৬, ২০১৯ | ৮:১৩ অপরাহ্ণ

রাজনীন ফারজানা, নিউজরুম এডিটর

ঢাকা: মাধ্যমিকের ভালো ফল উচ্চ মাধ্যমিকেও ধরে রাখতে শিক্ষার্থীদের বাসার কাছাকাছি কলেজে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম। তিনি বলেছেন, ‘মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই এ সময়ে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।’

সোমবার (৬ এপ্রিল) মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময় নিজ কলেজ ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

উচ্চ মাধ্যমিকের সিলেবাস মাধ্যমিকের তুলনায় অনেক বেশি, একথা উল্লেখ করে ড. শাহান আরা বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক দুই বছরের কোর্স  হলেও  একজন শিক্ষার্থী সব মিলিয়ে চৌদ্দ মাস সময় পায়। তাই এসময়ে একজন শিক্ষার্থীকে পড়াশোনায় অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হয়।’

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা ঢাকার এক প্রান্তে বাস করেও ভালো কলেজ বিবেচনায় ভর্তি হয় শহরের আরেক প্রান্তের কলেজে। এতে একজন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় অনেক সময় দিতে হয়। যানজট, ধুলা আর মাত্রাতিরিক্ত শব্দে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যায়। দীর্ঘসময় জ্যামে বসে থাকা, পানি পান করতে না পারা, টয়লেটে যেতে না পারার কারণে অনেক শিক্ষার্থীই নানারকম দীর্ঘিমেয়াদী শারীরিক সমস্যায় ভোগে। এতে তাদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটে। ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে ভালো ফল করা তাদের অধরাই থেকে যায়।’

বিজ্ঞাপন

অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের পরে ‘ভালো কলেজে’ ভর্তির উদ্দেশ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসে। তাদের কথা উল্লেখ করে এই অধ্যক্ষ বলেন, ‘এখানে এসে তারা হোস্টেলে, আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কিংবা সাবলেট নিয়ে বাস করে। এতে তারা ঠিকমতো পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। অনেকেই মাঝপথে কলেজ বদলাতে বাধ্য হয়। এতে ওইসব শিক্ষার্থীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়। যে কারণে অনেকে মাধ্যমিকে ভালো ফল ধরে রাখতে পারে না।’

ছেলে-মেয়েরা যাতে মাধ্যমিকের পর উচ্চ মাধ্যমিকেও ভালো ফল ধরে রাখতে পারে, সে জন্য সন্তানদের বাবা-মায়ের কাছে রেখে কলেজে পড়ানোর জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন ড. শাহান আরা।

প্রয়োজনে বাসা বদল করে সন্তানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীদেরকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে একা অন্য শহরে পাঠাতে নিরুৎসাহিত করে শাহান আরা বলেন, ‘ঢাকার গণপরিবহনে চলতে গিয়ে অনেক মেয়েকেই অসুস্থ হয়ে যেতে দেখেছি। এছাড়া বাবা-মা কাছে না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীই কিছুটা অনিরাপত্তায় ভুগে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না।’

‘কলেজ তো আর পড়িয়ে দেবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদেরই পড়তে হবে। কিন্তু দিনের বেশিরভাগ সময় রাস্তায় চলে গেলে তারা ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে,’ বলেন তিনি।

ভালো ফলের পেছনে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কতখানি জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘একটা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনেক খানি হলেও পড়াশোনা শিক্ষার্থীকেই করতে হয়। সেটার সুযোগ না পেলে ভালো কলেজে পড়েও লাভ নাই। আবার সব কলেজে সবাই চান্স পাবে তাও না।’

ড. শাহান আরা আরও বলেন, মাঝারি মানের কলেজগুলো থেকেও জিপিএ-৫ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো ফলাফল ধরে রেখে উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বাড়ির কাছাকাছি কলেজে ভর্তি করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের উল্লাস

আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে এবছর ১৯০৫ জন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে পাশ করেছে ১৮৯৪ জন। পাশের হার ৯৯.৪২ শতাংশ। মোট জিপিএ- ৫ পেয়েছে ১২৪৮ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৬১৭ জন। পাশ করেছে ১৬১১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২১৩ জন। ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ২৮৩ জন। পাশ করেছে ২৭৮ জন। আর জিপিএ পাঁচ পেয়েছে ৩৫ জন। এই স্কুলে মানবিক বিভাগে কোনও শিক্ষার্থী নেওয়া হয় না।

এবছর এসএসসি পরীক্ষায় সার্বিকভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমে যাওয়ার কারণ কী হতে পারে এমন প্রশ্নে ড. শাহান আরা বলেন, এবছর ইংরেজি ও গণিতে ফল কিছুটা খারাপ হয়েছে। পরীক্ষা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসার কারণে এমনটা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এবার প্রশ্নপদ্ধতিতেও পরিবর্তন এসেছে। বহু নির্বাচনী কমে গিয়ে সৃজনশীল বেড়ে যাওয়ায় জিপিএ-৫ কিছুটা কমেছে, মত ড. শাহান আরার।

এছাড়াও প্রশ্নের ধরণের পাশাপাশি মানবন্টন পদ্ধতি কিছুটা বদলে যাওয়াকে জিপিএ পাঁচ কমে যাওয়ার কারণ বলে মনে করেন তিনি।

টানা কয়েক বছরে পর এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ায় পরীক্ষা সঠিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়েছে, এমন প্রসঙ্গ টানলে এই অধ্যক্ষ বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের প্রভাব পড়ে পরীক্ষার্থীর পাশ ফেলেও ওপর। জিপিএ-৫ এর ক্ষেত্রে তার খুব একটা প্রভাব পড়ে না।’

‘যে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায় তার অবশ্যই নিজের ভেতরে কিছু থাকতে হবে,’ বলেন তিনি।

সারাবাংলা/আরএফ/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন