বিজ্ঞাপন

পাঁচশ টাকা ফি দিয়ে দাফন করা হয় জাপানি নাগরিককে

May 8, 2019 | 8:01 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: উত্তরা থেকে নিখোঁজ জাপানি নাগরিক হিরোই মিয়াতাকে উত্তরা ১২ নং সেক্টরের কবরস্থানে সরকারি ফি পাঁচশ টাকায় দাফনের কাজ শেষ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৮ মে) দুপুরে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকছুদা পারভীনের আদালতে উত্তরা-১২ নং সেক্টরের কবরস্থানের ইমাম মো. আব্দুল কুদ্দুসের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তিনি এসব কথা জানান।

আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘২০১৫ সালের ২৯ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে তিন ব্যক্তি একজন মহিলার লাশ দাফনের জন্য কবরস্থানে নিয়ে আসেন। কীভাবে মারা গেছে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে জানান তিনি বাসায় মারা গেছে। তখন তাদের কাছে মৃত মহিলার ভোটার আইডি কার্ড চাই। মৃত মহিলা ও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সম্পর্ক জানতে চাইলে তাদের নানী বলে পরিচয় দেন। তারা জানান মৃত ব্যক্তির নাম হালিমা খাতুন। ভোটার আইডি কার্ড চাইলে বলে নেই। তখন তারা নিজেদেরর একজনের ভোটার আইডি কার্ড দেয়। তা গ্রহণ করে সরকারি ফি পাঁচশ টাকা আদায় করে দাফনের ব্যবস্থা করি।’

বিজ্ঞাপন

এদিন মো. রব্বানী নামের আরেক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আগামী ১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলাটিতে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- এইচ এম জাকির হোসেন পাটোয়ারী ওরফে রতন, মারুফুল ইসলাম, রাশিদুল ইসলাম বাপ্পি, ফখরুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী ও ডা. বিমল চন্দ্র শীল। তবে বর্তমানে আসামিরা সবাই জামিনে আছেন।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ অক্টোবর আসামিরা হিরোই মিয়াতাকে কৌশলে অপহরণ করে আটকে রাখে। এরপর ২৯ অক্টোবর তাকে হত্যা করে গোপনে উত্তরার একটি কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করে।

জানা যায়, ২০০৬ সালের দিক থেকে জাপানি ওই নারী বাংলাদেশে বাস করছিলেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের ১৩/বি নম্বর সড়কের আট নম্বর হোল্ডিংয়ের সিটি হোমসে থাকতেন। এরপর ওই বছরের আগস্টে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় যান তিনি। গত ২৬ অক্টোবর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পায় তার পরিবার। এরপর তার মা ঢাকার জাপানি দূতাবাসকে জানান।

বিজ্ঞাপন

নিখোঁজের ঘটনার পরে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর জাপানের এক কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আসামিরা নাটক সাজিয়ে ১২ নম্বর সেক্টরের খালেরপাড় কবরস্থানে ভিকটিমের দাফনের কাজ শেষ করেন।

বিজ্ঞাপন

ওই ঘটনায় উত্তরা-পূর্ব থানার পুলিশ পরিদর্শক মিজানুর রহমান হাওলাদার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

২০১৬ সালের ৩০ জুন মামলাটি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর মিয়া ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। ওই বছরের ৩ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

সারাবাংলা/এআই/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন