বুধবার ১৭ জুলাই, ২০১৯ ইং , ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

আমাদের জীবনের সেই মায়াময় ভূতদের জন্য

মে ১১, ২০১৯ | ৮:৩০ অপরাহ্ণ

আমি ব্যাপারটা অনেকদিন ধরেই বুঝছিলাম। আরেকটু ভালো করে বুঝে তারপর সরেজমিন তদন্তে নামবো বলে মনস্থির করেছিলাম। ব্যাপারটা হলো, আমি যে বাসায় থাকি, সেখানে ভূত আছে।

এই যেমন, আমি লাঞ্চ বক্সে দুই মুঠ ভাত, সাথে আন্দাজ মতন তরকারি ভরে ফ্রিজে রাখলাম রাতে। পরদিন সকালে সেই বক্স ফ্রিজ থেকে বের করে, ব্যাগে করে অফিস নিয়ে আসি। অফিসে লাঞ্চের সময় সেই বক্স খুলে দেখি, দু’মুঠো ভাত চার মুঠো হয়ে গেছে। তরকারি বেড়ে বেড়ে দ্বিগুন। কোনোদিন নুডলস নিয়ে গেলাম হাফ বক্স। অফিসের যেয়ে খুলে দেখি, পুরো বক্স উপচে পড়া নুডলস। ভূতুড়ে ব্যাপার।

আমার মনে এক হালকা সন্দেহ উঁকি মারে। তাকে যাচাই করতেই, আমি বুঝে সুঝে ঠিক সময়ে, খাবার টেবিলে যেদিন সবাই একসাথে খেতে বসলো, কথা পাড়লাম, “আমাদের বাসায় ভূত আছে।”
-“কেন কেন?”
“লাঞ্চ বক্সের খাওয়া ডাবল ট্রিপল হয়ে যাচ্ছে, প্রতিদিন। ভূত হলেও সে ভালো ভূত। কিন্তু ভূতের বোঝা উচিত এতো খাওয়া আমি এক খেতে পারিনা।”

বাবা মনে হয় ভূত টুট বিশ্বাস করেনা। আমার কথায় কোনো পাত্তাই দেয়না। আমাদের বাসার অনেকদিনের সঙ্গী সুমা এবং তার মা। সুমা দেখি রান্না ঘরের দিকে দৌড় দেয় আমার কথা শুনে। ভয় পেলো কিনা ভুতের কথা শুনে কে জানে?

বিজ্ঞাপন

সুমার মা ঠিক সময়ে কোনো গুণী পরিচালকের নজরে আসলে এতদিনে আর্টফিল্মের নায়িকা হতে পারতো। দুর্দান্ত এক্সপ্রেশন এবং অভিনয় ক্ষমতা।

“আপা যে কি বলেন?” মুখে আঁচল চাপা দিয়ে হাসি থামিয়ে সেও প্রস্থান করে।

আমার এ বাড়ির একজন বিশেষ ব্যক্তিকে সন্দেহ হচ্ছিলো। যে নিজেই আসলে ভূত, কিংবা ভূতের সাথে সম্পর্কিত। আমার ভূত বিষয়ক গল্প শোনার পর সে ব্যক্তি মুখ ফ্যাকাশে করে খাওয়ার টেবিলেই বসে থাকে। আমার সন্দেহ তবে যথার্থ। এরপর থেকে আমি যতবারই সেই মানুষের সামনে ভূতের গল্প বলি, সে দেখি চুপচাপ, মুখ ফ্যাকাশে করে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে।

এই যেমন আমি সেদিন বললাম, “ভূত কাজটা কখন করে বুঝিনা। আমি রাতে বক্সে খাওয়া ভরে রাখার পর, সে কখন আমার লাঞ্চবক্স খুলে খাওয়ার পরিমান ডাবল করে?” সন্দেহভাজন ব্যক্তি দেখা হু হা করে।

আমি বলে যাই, “হয় অনেক রাতে করে সবাই ঘুমানোর পর, নাহলে অনেক ভোরে। ভূত কি ঘুমায়না?”

সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তর দেয়না। অযথা সিলিঙের দিকে তাকিয়ে থাকে।

যাই হোক. ঘটনা হাতে নাতে প্রমাণ হওয়ার পর ও, অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। লাঞ্চবক্সে খাওয়া উপচে পরে প্রায় দিনই। আমিও এখন বলা ছেড়ে দিয়েছি। সে এক মায়ায় ভরা ভূত। যে সবার অগোচরে, লাঞ্চবক্সে মায়া গুঁজে দেয়। সে এবং তারা নীরবে একান্তে, আমারদের জীবন পাত্র পূর্ণ করে, বেঁচে থাকার মন্ত্রে ধন্য করে। তারা হলো অন্ধকার আকাশে আলোর ঝলকানিতে ছুটে চলা ইচ্ছেপূরণের উল্কা। প্রতিদিনের ইচ্ছে পূরণের পাত্র পূরণ করা সেই ভূতেরা কোনো বিশেষ দিনের তোয়াক্কা করেনা। তারা প্রতিদিন বিশেষ করার মন্ত্রে বাঁচে। তারা জানে শুধু ‘মায়া’।

আমাদের জীবনের এই মায়াময় ভূতদের কে আমরা ‘মা’ বলে ডাকি।

কিযী তাহনিন

সারাবাংলা/এমএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন