শনিবার ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ইং , ৩ কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ সফর, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিরোধিতাকারীদের ওপর হামলা

মে ১৩, ২০১৯ | ৭:৫০ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ‘অবৈধ’ অ্যাখা দিয়ে বিক্ষোভ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নারী নেতা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রোকেয়া হল শাখার সর্বশেষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশা গুরুতর আহত হয়েছেন। শ্রাবণীসহ বাকিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ মে) সন্ধা ৬টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রলীগের পদঞ্চিতরা। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া নেতারা হামলা করেছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মধুর ক্যান্টিন এলাকায় এখনও দুই পক্ষ অবস্থান নিয়ে রয়েছে। ছাত্রলীগের হল শাখা কমিটিগুলো মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে আসছে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সারাবাংলাকে জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রলীগের নবঘোষিত ৩০১ সদস্যের কমিটির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ মিছিলে ‍উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপসম্পাদক রাকিব হোসেন, জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদন খান, রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু তন্বী, সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তাসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এই অংশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিনের সামনে যায়। এ সময় নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্তরা তাদের ওপর হামলা করে বলে তাদের অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীরা জানান, এরই মধ্যে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশাকে গ্লাস ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তার মাথা ফেটে গেছে। এছাড়া, রোকেয়া হল শাখার সভাপতি ও ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আখতার, সুফিয়া কামাল হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিলোত্তমা শিকদারও আহত হয়েছেন।

এদিকে, ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মধুর ক্যান্টিনে আহত সাত জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রাবণী দিশা চোখে আঘাত পেয়েছেন, মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছেন তানজির শাকিল। এছাড়া লিপি আক্তার, ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, জেরিন জিয়া ও শ্রাবণী শায়লা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান ঢামেক জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

বিক্ষোভকারীরা যা বলছেন

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ছাত্রলীগের গঠিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছে। যারা ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে কোনোদিন থাকেননি, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। এ সময় নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে উপসম্পাদকের পদ পাওয়া কয়েকজন পদত্যাগেরও ঘোষণা দেন।

শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেছি। কিন্তু আমাদের কোনো পদ দেওয়া হয়নি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু আমাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।’

কারা মারধর করেছে— এমন প্রশ্নের জবাবে শান্তা বলেন, ‘নতুন কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, অর্থ সম্পাদক রাকিব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল ভূঁইয়া, সহসভাপতি কামাল খান ও উপক্রীড়া সম্পাদক বায়জিদ কোতোয়াল হামলা করেছেন।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপসম্পাদক পদ পাওয়া তিলোত্তমা শিকদার বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন কোনো কর্মসূচি ছিল না যেখানে আমি উপস্থিত হইনি। অথচ আমাকে উপসম্পাদক করা হয়েছে। এটি আমাদের মতো ত্যাগীদের জন্য অপমানের।’ শিগগিরই পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানান তিনি।

জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান সারাবাংলাকে বলেন, যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, এতে অনেক অযোগ্য নেতৃত্ব স্থান পেয়েছে। আমরা এই কমিটি বাতিল চাই। আর সেই দাবিতে যখন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলাম এবং সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন মধুর ক্যান্টিনে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমরা আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব এবং ভবিষ্যতে সংবাদকর্মী ভাইদের মাধ্যমে আমাদের কর্মসূচিও জানিয়ে দেবো।

সহিষ্ণুতার চর্চার ব্যত্যয়

নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া ইমরান সারাবাংলাকে বলেন, ‘অনেকেই আশা করে থাকে, কমিটি হলে পদ পাবে। পদ না পেলে বা কাঙ্ক্ষিত পদ না পেলে মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকে না। তখন বাজে ব্যবহার করে বসে। এটা তেমনই ভুল বোঝাবুঝি। তবে যারা আজ মারামারি করল, তারা আরেকটু ধৈর্য দেখাতে পারত। পদ না পেলে নেতা হওয়া যাবে না, এমন তো নয়। পদ না পেয়ে যারা মারামরি করে, তারা তো নেতাই হতে পারবে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্ত একাধিক নেতা সারাবাংলাকে বলেন, যারা আজকের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা হয়তো কোথাও থেকে ইন্ধন পেয়ে এই কাজ করেছে। শ্রাবণী দিশা, তিলোত্তমা শিকদার, ফরিদা আক্তারের ইন্ধনে বি এম লিপি আক্তার এই পরিস্থিতি তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ তাদের।

ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, ছাত্রলীগের ১০ বছরের যে সহিষ্ণুতার চর্চা, এই মারামারির মাধ্যমে সেই চর্চার ব্যত্যয় ঘটল। কমিটিকে বিতর্কিত করতেই এই কাজ করা হয়েছে।

ছবি: হাবিবুর রহমান

সারাবাংলা/কেকে/টিএস/এসএসআর/একে/টিআর

বিজ্ঞাপন

Tags: , , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন