সোমবার ২০ মে, ২০১৯ ইং , ৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

বৃষ্টি বিকেলে গরম কফি ও সুকল্যানের আদ্যোপান্ত

মে ১৪, ২০১৯ | ১২:০২ অপরাহ্ণ

আশীষ সেনগুপ্ত

সুকল্যান ভট্টাচার্য। বিশ্বব্যাপী নৃত্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। ভারতীয় নৃত্য মাধ্যমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যিনি উপস্থাপন করে চলেছেন দীর্ঘদিন ধরে। জন্ম ভারতে, বসবাস কানাডায়। আবার পূর্বপুরুষের শিকড় এই বাংলাদেশেই। তাই হয়তো সুযোগ পেলেই ছুটে আসেন পিতৃভূমিতে। ভালোবাসেন বাংলাদেশের নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি নৃত্যনাট্য করেছেন বাংলাদেশে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাঁদী-বান্দার  রূপকথা, তিন কন্যা দান, বাল্মীকি প্রতিভা, রাই-কৃষ্ণ পদাবলী, গঙ্গাসহ অজস্র কোরিওগ্রাফি। সম্প্রতি মঞ্চে উপস্থাপন করলেন এক মরমীয়া সাধিকার জীবন কাহিনী। বাংলাদেশের প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে নিজের ভাবনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় গত ১৩ এপ্রিল নৃত্য সংগঠন নৃত্যাঞ্চলের প্রযোজনায় মঞ্চায়ন করলেন নৃত্যনাট্য ‘মীরা’। পরিচালনার পাশাপাশি নিজেও নাচলেন কৃষ্ণের ভূমিকায়। এই নৃত্যনাট্যের জন্যই এসেছিলেন বাংলাদেশে। অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও এক বৃষ্টি বিকেলে কফিশপে আমরা বসলাম আড্ডায়। সেখানেই সুকল্যান শোনালেন তার আদ্যোপান্ত। সারাবাংলার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সুকল্যানের কথা।

আমার জন্ম এমন একটা পরিবারে, যে পরিবারের সবাই সংস্কৃতি চর্চার কোনো না কোনো মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত। অধিকাংশই সংগীত শিল্পী। বাকিরা কেউ নৃত্যশিল্পী, কেউ আবার যন্ত্রসংগীতের শিল্পী। যতটুকু মনে আছে, মায়ের কোলে শুয়ে আমি গান শুনতে পেতাম। এই যে ছোটবেলায় আমার কোষের মধ্যে ঢুকে গেছে সংগীতের সুর, তার সাধনা, রেওয়াজ সবকিছুই। যখন জ্ঞান হলো, জানতে পারলাম আমার মা প্রয়াত দিপালী ভট্টাচার্য একসময় খুব বড় মাপের সংগীত শিল্পী ছিলেন। উনি ফিরোজা বেগমের সঙ্গে গান করতেন। আর বাবা প্রয়াত সুধীর চন্দ্র ভট্টাচার্য তবলা বাজাতেন, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। ফলে জন্মগতভাবেই সংগীতের প্রতি আমার ধ্যান-জ্ঞান। যখন বড় হলাম, তখন দেখলাম বাড়িতে আরেকজন শিল্পী আছে, আমার দিদি সুদিপা চক্রবর্তী। সে ছোটবেলা থেকেই মনিপুরী নাচ শিখত। বড় হয়ে গান আর শিল্পচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করত। বলা যায় শিল্পচর্চার সব বিষয় নিয়েই ছিল তার পড়ালেখা।

আমার জন্ম বিহারের হাজারিবাগে। বাবা তখন ওখানে চাকরি করতেন। কিছুদিন পরই ট্রান্সফার হয়ে কলকাতায় চলে আসেন, আর কলকাতাতেই আমার বেড়ে ওঠা। আমার মায়ের নাচের প্রতি একটা দুর্বলতা ছিল। তাই হয়তো আমি যখন বেশ ছোট, তিনি চাইতেন, তার গানে আমি নাচ করি। দিদি আমাকে নাচ শিখিয়ে দিত। যেহেতু আমার সুর-তাল-লয় সম্পর্কে ভালোই ধারণা ছিল, তাই দিদির নাচের শিক্ষাটা খুব দ্রুত ধরতে পারতাম। তখন দুর্গাপুজোর সময় আমাদের পাড়ায় বেশ বড় করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। সেখানে আমার মায়ের গানের সঙ্গে আমি নাচ করতাম। যতদূর মনে পড়ে, আমার প্রথম নাচ ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘দেখ দেখ শুকতারা আঁখি মেলে চায়’ ও ‘মায়াবন বিহারিণী হরিণী’— এই দুটো গানের সঙ্গে। আমার নাচ দেখে আয়োজকরা আমার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলেন। আর পুরস্কার দেওয়া হবে পুজোর শেষ দিনের অনুষ্ঠানে। কিন্তু আমি পুরস্কারটা নিতে পারিনি। কারণ আমার বাবা রাজি ছিলেন না। উনি ইঞ্জিনিয়ার, আমার দাদুও ব্রিটিশ কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। মামা-মামিরা সবাই সংগীত জগতের হলেও পেশায় অনেকেই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। আর সেই পরিবারের ছেলে নৃত্যশিল্পী হয়ে পুরস্কার নেবে, এটা তারা মেনে নেননি। ব্যাপারটাতে আমি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু আমার মা মনে মনে খুবই আশাবাদী ছিলেন। সংসার সামলাতে গিয়ে মাকে গানটা ছেড়ে দিতে হয়েছিল। তাই মার যে সুপ্ত বাসনা, সেটাকে আমি যদি এগিয়ে নিতে পারি। মা তখন বাবার অমতেই লুকিয়ে আমাকে একটা নাচের স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলাম, পরিবারের সবাই যখন সংগীত সাধনায়, আপনি ছেলে হয়ে গান না শিখে নাচে কেন?

সুকল্যাণের উত্তরটা হাসিমুখেই— সে এক করুণ ইতিহাস। আমি ছোটবেলায় খুব কাঁদতাম। আর সেটা এত বেশি যে আমার গলা একেবারেই কর্কশ হয়ে গিয়েছিল। সবাই আমাকে ফাটা বাঁশ বলে খ্যাপাত। ফাটা বাঁশে তো সুর নেই। নাচটা তো সহজেই ধরতে পারতাম, তাই মা চাইতেন নাচ শিখি। তবে হ্যাঁ, যেকোনো রাগ বা রাগের যেকোনো চলন আমি গাইতে না পারলেও হারমোনিয়াম বাজিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারি, আমি কী চাইছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, যারা নাচ করে তাদের গলা নষ্ট হয়ে যায়। এক্সেপশনাল দুয়েকএকজন আছেন। তবে যারা নিয়মিত নৃত্যচর্চা করেন, তাদের অধিকাংশেরই কণ্ঠস্বর সুরেলা থাকে না।

আমি যে নৃত্যশিল্পী হবো— এমন কোনো সিদ্ধান্ত ছোটবেলায় আমার ছিল না। তবে নাচটা ভালো লাগত। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি প্রথম রবীন্দ্রসদনে নাচ করে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মাদার তেরেসার হাত থেকে পুরস্কার পেয়েছিলাম। যদিও তখন মাদার তেরেসা সম্পর্কে ততটা জানতাম না। ভাবতাম উনি শান্তির দূত, কলকাতায় তার মাদার হাউজ আছে— এটুকুই। কিন্তু পরিবারের কেউ কেউ খুশি হলো, বিশেষ করে বড়রা দুয়েকজন।

আমার প্রথম গুরু ছিলেন মনিশংকর চক্রবর্তী। আমি তাকে দাদু বলে ডাকতাম। উনিই আমার মায়ের কাছ থেকে আমাকে চেয়ে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে সেই ছোটবেলাতেই আমি আমার মাকে হারালাম। আমি তখন সব দিক থেকে ভেঙে পরলাম। এক পর্যায়ে মনে হলো— আমাকে মায়ের স্বপ্ন পূরণে দায়িত্ব নিতে হবে। নাচ নিয়ে আমাকে এগিয়ে যেতেই হবে। সিদ্ধান্ত নিলাম, নাচই হবে আমার জীবনের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু প্রতিকূলতা কম ছিল না। বাবা মেনে নিলেন না। আর ওই সময়টা উনি কথায় কথায় রেগে যেতেন। নাচ শিখতে হলে আর্থিক সঙ্গতির খুবই প্রয়োজন। তখন বাবার কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য না নিয়ে নিজের চেষ্টায় কী করে নাচ শেখা যায়, তার পথ খুঁজলাম। আমি বিভিন্ন রকম হ্যান্ডিক্রাফটসের কাজ জানতাম। যেটা আমার দিদি আমাকে শিখিয়েছিলেন। আমার স্কুল ছুটির পর আমি অন্যান্য স্কুলে গিয়ে এই কাজ শেখাতে লাগলাম। হ্যান্ডিক্রাফটসের বিভিন্ন জিনিস বানিয়ে বিক্রি করতে লাগলাম। এভাবে কিছু টাকা আমার হাতে আসত। আমি সেটা নাচ শেখার পেছনে ব্যয় করতাম। ভাবতে পারো, সোনার চামচ মুখে নিয়ে আমার জন্ম। কিন্তু সেই আমিই ছোটবেলা থেকেই আত্মনির্ভর হয়ে আছি।

মনিশংকর দাদুর কাছে ভরতনাট্যম দিয়ে আমার শাস্ত্রীয় নৃত্য শেখা শুরু। আমার মা বলতেন সংগীতের যে মাধ্যমই হোক, তাতে যদি শাস্ত্রীয় চর্চা না থাকে তাহলে তার ভিত্তি কখনোই মজবুত হয় না। আমাদের কোনো শো হতো না, তারপরও প্রতিদিন নতুন কিছু শেখানো হতো এবং সেটার থিয়োরি-প্র্যাক্টিক্যাল— দু’টোই। তখনকার দিনের গুরুরা ছিলেন ভীষণ কড়া। আর এখনকার মতো এত প্রতিযোগিতাও ছিল না। যার ফলে শেখাটাকেই গুরুত্ব দিয়েছি বেশি।

আমাদের আড্ডায় হঠাৎ ব্যাঘাত। শিবলী মহম্মদের প্রবেশ। বিষয়— বিমানের রিটার্ন টিকেট কনফার্ম করা। আমার কাছ থেকে অতি বিনয়ের সঙ্গে একটু বিরতি চেয়ে সুকল্যান ব্যস্ত হলেন সেই কাজে। শিবলী মহম্মদ ফিরে গেলেন। শুধু যাওয়ার সময় বলে গেলেন, শামীম আরা নীপাসহ উনারা শিল্পকলায় মীরার রিহার্সালে যাচ্ছেন। সুকল্যানও যেন তাড়াতাড়ি সেরে চলে আসেন। আমাদের আড্ডা শুরু হয় আবার। বলতে থাকেন সুকল্যান।

আমি মাধ্যমিকে পড়ছি। আর মনি দাদুর কাছে ভরতনাট্যম শিখছি। এমন সময় একদিন পেপারে বিজ্ঞাপন দেখলাম, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত একাডেমিতে মনিপুরী নৃত্যের কর্মশালা হচ্ছে। গুরু বিপীন সিং ও শ্রীমতি কলাবতী দেবী। আমার খুব ইচ্ছে হলো মনিপুরী নৃত্য শেখার। ভর্তি হয়ে গেলাম। কর্মশালার কয়েকদিনের মধ্যেই আমার কাজ দেখে গুরু শ্রীমতি কলাবতী দেবীর ভালো লাগলো। উনি আমাকে ছেলের মতো স্নেহ করতে লাগলেন। আমাকে কর্মশালা শেষ করে তাদের দলে যোগ দিতে বললেন। আমি অতি আনন্দেই যোগ দিলাম। শুরু হলো গুরু বিপীন সিংয়ের কাছে আমার মনিপুরী নৃত্য শেখা। আমি তার প্রচুর সান্নিধ্য পেয়েছি। তার বই লেখা থেকে শুরু সব ধরনের কাজেই তাকে সাহায্য করতাম। একটা মজার বিষয় ছিল, মনিপুরী নর্ত্তনালয়ে মনিপুরী ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের প্রবেশাধিকার ছিল না। কিন্তু উনারা আমাকে সন্তানের ভালোবাসতেন বলেই হয়তো আমার প্রবেশাধিকার ছিল। এমনটাও হয়েছে, যেহেতু আমার মা ছিল না, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে সোজা গুরুর বাড়িতে চলে যেতাম। সেখানেই প্র্যাকটিস সেরে, স্নান করে খেয়ে তারপর কলেজে গেছি। অধিকাংশ দিনই কলাবতী দেবী আমাকে ভাত মেখে খাইয়ে দিতেন।

এভাবেই চলছিল বেশ। আমি মাধ্যমিক পাশ করলাম। আমার মনের মধ্যে কদিন ধরেই নতুন কিছু করার চিন্তা। মনিপুরী তো করছি, সঙ্গে আর কিছু করতে চাই। গুরুকে জানালাম। তিনি বললেন, তুমি যেহেতু শাস্ত্রীয় মনিপুরী নৃত্যটা শিখেছ, অন্য কোনো শাস্ত্রীয় নৃত্য শিখতে যেও না। কারণ শরীরে একটা শাস্ত্রীয় নৃত্য সেট হয়ে গেলে সেখানে অন্য শাস্ত্রীয় নৃত্য সেট হতে দীর্ঘ দিন লাগে। তুমি অন্যভাবে চেষ্টা করে দেখতে পারো। এর মধ্যে হঠাৎ একদিন টিভিতে ড. মঞ্জুশ্রী চাকি সরকারের ‘তোমারই মাটির কন্যা’ নামে একটা নৃত্যানুষ্ঠান দেখলাম। তাদের অসাধারণ নৃত্যভঙ্গি আর পোশাক দেখে আমি অবাক। এতটাই আকর্ষিত হলাম যে খুঁজে খুঁজে নাম্বার জোগাড় করে তাদের সঙ্গে দেখা করলাম। ড. মঞ্জুশ্রী চাকি সরকার ভারতের একজন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোরিওগ্রাফার। আমি তাকে আমার ইচ্ছেটা জানালাম। মঞ্জুশ্রীদি আমার নাচ দেখতে চাইলেন। আমি মনিপুরী গীতের ওপর একটা নাচ করে দেখালাম। উনি দেখে খুব খুশি হলেন। তার আবার মনিপুরী নৃত্যের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা ছিল। কারণ তিনি মনিপুরী মেয়েদের ওপর গবেষণা করেছিলেন। তিনি আমাকে তাদের দলে কাজ করার সুযোগ দিলেন। এই প্রথম আমি কোনো আন্তর্জাতিক মানের দলের সঙ্গে যুক্ত হলাম। এতকিছু ঘটে যাচ্ছে কিন্তু বাড়িতে, বিশেষ করে বাবাকে কিছুই জানাইনি। কলেজে যাই, কোচিংয়ের কথা বলে নাচের ক্লাসে গিয়ে নাচ শিখে চলে আসি। একটা বিশেষ সুবিধা ছিল, তখন খুব একটা অনুষ্ঠান হতো না। বছরে একটা বা দু’টো রবীন্দ্র সদনে রবীন্দ্র জন্মোৎসবে।

ড. মঞ্জুশ্রী চাকি সরকারের কাছে নিয়মিত নাচ শিখছি। কিছুদিন শেখার পর মঞ্জুশ্রীদি তাসের দেশ নৃত্যনাট্যে আমাকে একটা প্রধান চরিত্রে সুযোগ দিলেন। আর এই নৃত্যনাট্যটা পরিবেশন করা হবে লন্ডনে। এটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গায়। আমাদের ওখানে (ভারতে) দেশের বাইরে যাওয়ার প্রসেসিংটা খুবই কঠিন। কারণ সারাদেশে এত বেশি পরিমাণে ট্যালেন্টেড নৃত্যশিল্পী রয়েছে যে তাদেরকে ডিঙিয়ে আইসিসিআর’র প্যানেলে বিদেশ যাওয়াটা অসম্ভব ছিল। কিন্তু মঞ্জুশ্রীদি নিজ দায়িত্বে আমার সবকিছু করে দিয়ে আমাকে লন্ডনে নিয়ে গেলেন। আমার প্রথম বিদেশে যাওয়া। আমরা বেশ সফলতার সঙ্গে লন্ডনে ‘তাসের দেশ’ মঞ্চায়ন করে দেশে ফিরে আসি।

লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বাবার মধ্যে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। আমার সঙ্গে বেশ আন্তরিক হয়ে গেলেন। পরে জানলাম, দাদু ব্রিটিশ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তাই বাবার মধ্যে ছোটবেলা থেকেই লন্ডন যাওয়ার প্রতি একটা দুর্বলতা ছিল। বিভিন্ন কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি। তাই আমার লন্ডন যাওয়াটা তার কাছে বেশ আনন্দের ছিল। এতে বাড়তি লাভ হলো— উনি আর আমার নাচ নিয়ে কোনো রকম বাধা দিলেন না। বরং কিছুটা সাহায্য করার চেষ্টা করলেন।

এরপর কলকাতায় বেশ নাচের অনুষ্ঠান করে বেড়িয়েছি। সারা ভারতবর্ষের যতগুলো ফেস্টিভ্যাল হতো, আমি সবগুলোতেই অংশ নিয়েছি। কখনো এককভাবে, কখনো মঞ্জুশ্রীদির সঙ্গে। মনিপুরী ও কনটেম্পোরারি— দু’টো নাচই করছি। এর মধ্যে একটা অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন কানাডিয়ান দর্শক ছিল, যাদের কাছে আমার কাজ খুব ভালো লেগেছিল। তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাকে জানায়, কানাডায় তাদের ইউনিভার্সিটিতে ওয়ার্কশপ ও লেকচার ডেমোনেস্ট্রেটর হিসাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তারা আমাকে নিতে চায়, আমি আগ্রহী কি না। আমি রাজি হয়ে গেলাম। এটা ১৯৯৫ সালে, আমার বয়স তখন ২২ বছরেরও কম। আর এতেই সমস্যাটা দেখা দিলো। এ রকম একটা কাজের জন্য এত কম বয়সি একটা ছেলেকে কানাডিয়ান দূতাবাস ভিসা দেবে কি না সন্দেহ। হলোও তাই। আমার বয়স অনেক কম, এই কারণ দেখিয়ে ওরা আমার ভিসা ফিরিয়ে দিলো। আর এসময় আমার বাবা আমার পাশে দাঁড়ালেন। আমি আবার আবেদন করলাম। বাবা গেলেন ভিসা অফিসে। সেখানে উনি লিখিত দিলেন, আমি তার আয়ত্তে আছি এবং কানাডাতে আমার সব ভরণপোষণ তিনি এখান থেকেই বহন করবেন। আমাকে যেতে দেওয়া হোক। আমার অভিজ্ঞতার জন্য এটা বিশেষ প্রয়োজন। বাবার সঙ্গে আলাপ করে উনারা হয়তো আশ্বস্ত হয়েছিলেন। আমাকে ভিসা দেয়া হলো। আমি কানাডা গেলাম। ওখানকার ক্যালগিরি ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং লেকচারার হিসাবে কাজ শুরু করলাম। পাশাপাশি ওখানকার কমিউনিটি সেন্টারে কাজ শুরু করি।

কানাডায় আমাকে প্রচুর কাজ করতে হতো। তখন তো আজকের মতো ইন্টারনেটের এতটা সুবিধা ছিল না। প্রচুর বই সংগ্রহ করেছিলাম। গুরুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। গুরু বিপিন সিং, কলাবতী দেবী ও ড. মঞ্জুশ্রী চাকি সরকার আমাকে ভারত থেকেই প্রচুর গাইড করতেন। কানাডা যাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন। আমার জন্য দূতাবাসে চিঠি দিয়েছিলেন। সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তারা তৈরি করে দিয়েছিলেন। আমি মনে করি, গুরুরা মা-বাবার চেয়েও ওপরে। মা-বাবা জন্ম দেন, কিন্তু সেই জন্মকে সার্থক করে দেন গুরুরাই। আমি কে, আমি কী— এটা গুরুই চিনিয়েছেন, শিখিয়েছেন। আমি মনে করি, আমার গুরু কলাবতী দেবী এখনো আমার মাথার ওপর ছাতা হয়ে আছেন। চেষ্টা করি তার কোনো কথাই অমান্য না করতে।

১৯৯৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বছর কানাডায় আছি। আমার মনে হয়, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো আমি কাটাচ্ছি। বিদেশে একা আছি। কিন্তু কখনোই একা মনে হয় না। ওখানে আমি সমস্ত নতুন বন্ধু পেয়েছি। পেয়েছি মা-বাবা, ভাই-বোন সবই। এরা কেউ আমার রক্তের সম্পর্কের নয়। কিন্তু রক্তের সম্পর্কেরও  ঊর্ধ্বে। এদের অধিকাংশই বাঙালি। পাশাপাশি কানাডিয়ান, আমেরিকান, চেকোস্লোভাকিয়ানও আছে। এত বন্ধু, এত আত্মীয় পেয়েছি যে মাঝেমাঝে মনে আমার ভারতবর্ষে না ফিরলেও হবে। কিন্তু রক্তের টান, শেকড়ের টান উপেক্ষা করি কী করে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আসার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকি। কারণ আমার পূর্বপুরুষদের জন্মস্থান, পৈতৃক ভিটে এই বাংলাদেশেই। আমার মা-বাবা দু’জনেরই জন্ম বাংলাদেশে। বাবার বাড়ি ঢাকার টঙ্গীতে। আর মায়ের বাড়ি বিক্রমপুরে। দেশভাগের পর তারা ভারতে চলে যান। ছোটবেলা থেকেই মা-বাবার মুখে বাংলাদেশের গল্প শুনতে শুনতে আমার আত্মায় চেতনায় বাংলাদেশ মিশে গেছে। দেশ ভাগের ৫০ বছর পর বাবাকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলাম। তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম টঙ্গীর গাছা গ্রামে। সেখানে আমাদের ভগ্ন বাড়ি, আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রতিষ্ঠিত সেই গাছা হাই স্কুল, বাবা যেন ছলছল চোখে দেখছেন, আর কোথায় হারিয়ে যাচ্ছেন। আমিও ওখানে যখন যাই সেই বাড়ি, পুকুর, গাছপালা দেখলে মনে হয় পূর্বজন্মে আমি এখানে কোথাও ছিলাম। হয়তো এই টান থেকেই আমার বাংলাদেশে আসতে ভালো লাগে।

বাংলাদেশে আমি প্রথম আসি কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী রুনা লায়লা আপা ও অভিনেতা আলমগীর ভাইয়ের মাধ্যমে। তুমি তো জানো, আমি অনেকগুলো ছবিতে কোরিওগ্রাফি করেছি। যার ফলে বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমাকে যেতে হয়। আমেরিকায় এই রকমই একটা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। এর কিছুদিন পর বাংলাদেশে একটা অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে কোরিওগ্রাফি ও অ্যাওয়ার্ড নেওয়ার জন্য রুনা আপা ও আলমগীর ভাই আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আমি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসি। কাজ করতে গিয়ে আমার সুসম্পর্ক হয় জাহিদ, মৌ, রিয়াজ, ফেরদৌস, পূর্ণিমা ও মাহফুজের সঙ্গে। তবে সবচেয়ে বেশি হৃদ্যতা হয় অভিনেতা মান্না ভাইয়ের সঙ্গে। ভীষণ ভালোবাসতেন আমাকে। আমাকে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং অনেকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে আমার প্রথম কোরিওগ্রাফি ছিল সাদিয়া ইসলাম মৌ’কে দিয়ে। ‘গঙ্গা’ শিরোনামে একটা নাচ ওকে আমি তুলে দিয়েছিলাম। আর সেটা এত বেশি আলোচিত হয় যে মৌ আমাকে নিয়মিত বাংলাদেশে আসার জন্য অনুরোধ করে। কিন্তু কানাডা আর ভারতের কাজ নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত ছিলাম যে বাংলাদেশে এসে কাজ করার সুযোগ একদমই ছিল না। এরই মধ্যে একটা কাজ নিয়ে রিহার্সাল করছি। এমন সময় ফেরদৌস এসে আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় শিবলী মহম্মদ ও শামিম আরা নীপার সঙ্গে। ওদের সঙ্গে কথা বলে বেশ ভালোই লাগল। এরপর থেকে নিয়মিত আমাদের মধ্যে কথা হতো। বেশ ভালো বন্ধুত্ব হলো। কিন্তু তখনও একসঙ্গে কোনো কাজ করা হয়নি। শিবলী-নীপার সঙ্গে আমি প্রথম কাজ করলাম কানাডার ক্যালগিরিতে একটা নৃত্য উৎসবে। আয়োজকদের পরামর্শে আমার যে নাচের গ্রুপ ‘সুকল্যান ডি এন্টুরাজ’, তার সঙ্গে শুধু শিবলী নীপা একটা নাচ করলো আমারই কোরিওগ্রাফিতে। অসাধারণ একটা কাজ হলো। ওরা দু’জন তো এমনিতেই অনেক বড় মাপের নৃত্যশিল্পী। আর এই কাজটা করতে গিয়েই ওদেরকে আমি আরো ভালোভাবেই চিনলাম, আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হলো।

শিবলী নীপা বাংলাদেশে এসে কিছুদিন পরেই আমাকে আমন্ত্রণ জানালো ওদের সঙ্গে কাজ করার জন্য। আমি সেটা গ্রহণ করলাম। একসঙ্গে আমাদের প্রথম প্রযোজনা ছিল ‘তিন কন্যা দান’। দ্রৌপদি, বেহুলা ও সখিনা বিবি— এই তিনটি নারী চরিত্র নিয়ে, যেটা একক ভাবে নীপা করলো। বাকি ৪০টি চরিত্রের সবগুলোই ছিল পুরুষদের। আর কোনো নারী চরিত্র রাখিনি। এরপর ওদের সঙ্গে আমার দ্বিতীয় কাজ ছিল ‘বাল্মীকি প্রতিভা’। শিবলীকে মুখ্য ভূমিকায় রেখে নৃত্যাঞ্চলের সবাইকে নিয়ে করা এই প্রোডাকশনটাও বেশ সাফল্য পায়। এরপর আমরা সফলভাবে মঞ্চায়ন করি ‘রাই-কৃষ্ণ পদাবলী’। শেখ হাফিজুর রহমানের লেখা অসাধারণ একটা স্ক্রিপ্ট। যেখানে রাধা নীপা, কৃষ্ণ শিবলী। পুরো পদাবলী কাব্যে এই কাজটা আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমি পেরেছি।

বাংলাদেশের আরেকজন গুণী নৃত্যশিল্পী আনিসুল ইসলাম হিরু। ওর সঙ্গে আমার জার্নিটা বেশ চমৎকার। শিবলী নীপা ও হিরুসহ আমরা একসঙ্গে একসাথে একবার শান্তিনিকেতন বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানেই বিভিন্ন প্রসঙ্গক্রমে সবাই একসঙ্গে একটা প্রোডাকশন করার পরিকল্পনা করি। আমি প্রস্তাব দিলাম ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’র গল্পটা নৃত্যনাট্যে করার। সবাই রাজি। নাম দেওয়া হলো ‘বাঁদী-বান্দার  রূপকথা’। নীপা মর্জিনা, শিবলী আলিবাবা, হিরু আব্দুল্লাহ ও আমি কাশেমের চরিত্রটা করব। মিউজিকের জন্য ঠিক করলাম পশ্চিমবাংলার বিখ্যাত মিউজিক ডিরেক্টর জয় সরকারকে। সৃষ্টি কালচারাল সেন্টারের ব্যানারে বিশাল বাজেটের এই প্রোডাকশন। সহযোগিতায় নৃত্যাঞ্চল। আর আমরা এটাকে আন্তর্জাতিক মানের করেই মঞ্চায়িত করলাম। মজার বিষয় ছিল, এটা এত বেশি জনপ্রিয় হয়েছিল, শুনেছি চড়া দামে ব্ল্যাকে টিকেট বিক্রি হতো। এ পর্যন্ত আমরা এটার ২৬টি শো করেছি। আরও শো করার জন্য প্রচুর অনুরোধ আমন্ত্রণ আসছে, কিন্তু আমরা করতে পারছি না। কারণ এটা এত ব্যয়বহুল যে চাইলেই শো করা সম্ভব হয় না।

আলিবাবার পর দীর্ঘ বিরতি। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রোগ্রামে কাজল আপার (কাজল ইব্রাহীম) সঙ্গে আমার দেখা হয়। উনি ছিলেন বাংলাদেশের একসময়কার প্রথিতযশা কত্থক নৃত্যশিল্পী। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মঞ্চ থেকে দূরে। শিবলী নীপা দু’জনেই ভীষণ ভালোবাসেন কাজল আপাকে। তাদের ইচ্ছে তাকে আবার মঞ্চে ফিরিয়ে আনবেন। কাজল আপাকে কেন্দ্র করেই নতুন একটা প্রোডাকশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। আমি প্রথমে চণ্ডালিকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যেখানে নীপা থাকবে চণ্ডালিকা, আর কাজল আপা চণ্ডালিকার মায়ের ভূমিকায়। কিন্তু নীপা বাঁধ সাধলো। বললো, চণ্ডালিকা অনেকেই করেছে। আমরা নতুন কিছু করি। এই নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই ‘মীরা’। আমার মনে হয়েছিল কাজল আপার ব্যক্তিত্ব, আচরণ, পোশাক— সবকিছুর মধ্যেই একটা মাতৃত্বসুলভ ভাব রয়েছে। তাই মীরা চরিত্রে উনি একদম পারফেক্ট। শিবলী নীপাও পছন্দ করল। যেই ভাবা সেই কাজ। আমার মাথায় যদি কোনো প্ল্যান ঢোকে, আমি আর বসে থাকতে পারি না। কাজ শুরু করে দিই। চরিত্র সেট করলাম। কাজল আপা মীরা, আর নীপা রাধার ভূমিকায়। সমস্যাটা হলো শিবলীকে নিয়ে। এর আগে সে বেশ কয়েকবার কৃষ্ণ চরিত্র করেছে। এবারও যদি কৃষ্ণ করে, তাহলে নতুনত্ব থাকে না। ওকে বললাম, তুই দুইটা রোল প্লে কর, যার একটা নেগেটিভ। সে তো ক্ষেপে আগুন। বললো, আমি কখনোই নেগেটিভ রোল করি না। তুই আমাকে নেগেটিভ রোল করতে বলিস। তাকে বুঝালাম যে, এটা ঠিক নেগেটিভ রোল না। একজন সহজ-সরল মানুষের চরিত্র। আয়ান ঘোষ, যে কিনা রাধার স্বামী। লোকের কুমন্ত্রণায় যে রাধাকে সন্দেহ করে। আর সম্রাট আকবর, যিনি সব ধর্মকে সমন্বয় করতে চেয়েছিলেন। তিনিই আবার মীরাকে অত্যাচার করার কারণে মীরার স্বামীকে হত্যা করেছিলেন। আমার কথায় রাজি হলো বটে, তবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নয়। আর আমি কৃষ্ণ চরিত্রটা নিলাম। যখন স্ক্রিপ্ট রেডি হলো, সবগুলো কস্টিউম বানানো হলো, তখন এসব দেখে সে খুশি হলো। বুঝলাম, সে আমার ওপর আস্থা ফিরে পেয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমি বেশ গর্বের সঙ্গেই বলতে পারি, মীরা নৃত্যনাট্যটা নৃত্যজগতে একটা ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

আড্ডার প্রায় শেষ পর্যায়ে জানতে চাইলাম, দীর্ঘদিন তো হলো বাংলাদেশে নাচ নিয়ে কাজ করছেন। এখানকার নাচের প্রেক্ষাপটটা কেমন মনে হচ্ছে? বুঝলাম, একটু হতাশই হলেন। কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, একটা খুব রূঢ় সত্যি কথা বলি— নির্দিষ্ট কিছু শিল্পী ছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ নৃত্যশিল্পীরাই নাচ সম্পর্কে অজ্ঞাত। নাচের শিক্ষাটা তাদের নেই, যেটা খুব বেশি প্রয়োজন। নাচটা যে ক্রমবর্ধমান একটা শিক্ষা, এই সম্পর্কে তারা একেবারেই অসচেতন। বাংলাদেশে নৃত্যশিল্পীর অভাব নেই। কিন্তু সত্যিকার শিক্ষক হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র। আমি নাচ নিয়ে বলতে গেলে সারাবিশ্বই ঘুরেছি। বাংলাদেশে এমন একটা বিষয় আছে যেটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই, সেটা হলো অভিভাবকরা। নাচ নিয়ে এত আন্তরিকতা, এত স্বপ্ন আর কোথাও দেখিনি। ছেলেমেয়েদের নাচ শেখানোর জন্য মা-বাবারা যে শ্রম দেন, যেভাবে ধৈর্য ধরে লেগে থাকেন, এটা কল্পনাই করা যায় না। শিক্ষকদের সম্মান দেখানো, তাদের কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা— আমি হলফ করে বলতে পারি, বাংলাদেশের বাইরে সারা পৃথিবীর আর কোথাও এটা নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এত কিছুর পরও ছেলেমেয়েরা সঠিক শিক্ষাটা পাচ্ছে না। তার একমাত্র কারণ সঠিক শিক্ষকের অভাব। নাচ সম্পূর্ণই গুরুমুখী বিদ্যা। তাই আমি মনে করি, এ বিষয়ে গুরুদের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আরেকজনকে শেখানোর আগে নিজের সে সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞানার্জন করা উচিৎ। আর অভিভাবকদের উচিত, তাদের সন্তানকে আগে শাস্ত্রীয় নৃত্যটা শেখানো। কারণ বেসিকটা আগে তৈরি হওয়া দরকার। বেসিকটা তৈরি হয়ে গেলে নৃত্যের যেকোনো শাখায় কাজ করা সহজ হয়ে যায়।

আড্ডা শেষ করতে হলো। কারণ ফোনে বারংবার তাগাদা। শিল্পকলায় চলছে মীরা’র রিহার্সাল। সেখানে ‘কৃষ্ণরূপী’ সুকল্যানের অপেক্ষায় ‘রাধারূপী’ নীপা, ‘আয়ান ঘোষ’ শিবলী, কৃষ্ণভক্ত ‘মীরারূপী’ কাজল ও গোপ-গোপিনীদের বেশে নৃত্যাঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা। কৃষ্ণকে নিয়ে যেতে কফিশপের বাইরে অপেক্ষমান চার চাকার প্রিমিও ‘রথ’। বেরিয়ে এলাম শেষ করে।

১৫ মে এই গুণী নৃত্যশিল্পীর জন্মদিন। সারাবাংলার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা…

সারাবাংলা/এএসজি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন