শুক্রবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২০ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কলসিন্দুর স্কুলে আগুন রহস্য: তদন্তে নেমেছে পুলিশ

মে ১৫, ২০১৯ | ১:২১ অপরাহ্ণ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

ময়মনসিংহ: সীমান্তবর্তী জনপদ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে আগুন দিয়ে নারী ফুটবলারদের মেডেল ও সনদপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার রহস্যের কিনারা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষকরা বুঝতে পারছেন না কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো। তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের এলাকাটি’র আশপাশ ‘মাদক জোন’ হিসেবে পরিচিত। মাদকসেবীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, সেটাও ভেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ার মধ্যেই আগুনে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হওয়ার বিষয়টিও প্রশ্ন তুলছে তাদের মনে।

জাতীয়করণ প্রক্রিয়া বন্ধ করতেই এটি কোনো বিশেষ মহলের কারসাজি কি না, এমন প্রশ্নও দানা বেঁধে উঠেছে। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে এখন পর্যন্ত পুলিশকে কারও নাম বলেননি শিক্ষকরা। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, স্কুলটির শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলির কারণেও এই ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনটির নিচ তলার প্রধান ফটকের তালা অক্ষত থাকলেও কীভাবে দ্বিতীয় তলার অফিস কক্ষের তালা ভেঙে আগুন দেওয়া হলো, আপাতত এ বিষয়টি সামনে রেখেই তদন্ত করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ১১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে সারাবাংলা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, মঙ্গলবার ভোরে কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার অফিস কক্ষে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তারা আলমারিতে থাকা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সনদপত্র, মেয়েদের খেলার সার্টিফিকেট, মেডেল, রেজুলেশন বই, কারিগরি শাখার কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

আগুনে পুড়ে গেল কলসিন্দুর স্কুলের মেয়েদের মেডেল-সনদ

তবে এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি স্কুলের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার রাতে সাধারণ ডায়েরি করতে থানায় যান কলসিন্দুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে পুলিশ ডায়েরির পরিবর্তে মামলা করার পরামর্শ দেওয়ায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া তা করতে অপারগতা জানান তারা।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়টির কলেজ শাখার সহকারী অধ্যাপক মালা রাণী সরকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও স্টাফরা তাদের সাধারণ ডায়রি করতে বলেছিলেন। কিন্তু পুলিশ বলছে, জিডি খুবই হালকা একটি বিষয়। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেই তারা মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে আমরা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারব না বলে ফিরে এসেছি।’

বুধবার (১৫ মে) সকাল ১১টার দিকে ম্যানেজিং কমিটি ও স্টাফদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান এই শিক্ষক।

আগুনের এ ঘটনার বিষয়ে কাকে সন্দেহ করছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে মালা রাণী সরকার বলেন, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলের মানুষের আবেগের প্রতিষ্ঠান। এর ক্ষতি সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষই চাইবেন না। তবে বিদ্যালয়ের আশপাশ এলাকা মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। স্কুল বন্ধ থাকায় অসুস্থ মস্তিষ্কের মাদকসেবীরা টাকা পয়সার লোভে আলমারি ভেঙে এ কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী কারণে এমনটি হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করার দায়িত্ব পুলিশের।

দেশের ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলে আশার আলো জ্বালিয়েছে জেলার ধোবাউড়া উপজেলার অজপাড়াগায়ের মারিয়া মান্দা, সানজিদা, তহুরারা। দেশের নারী ফুটবলে তাঁরা রচনা করেছে একের পর এক ইতিহাস। দেশের পাশাপাশি তাঁরা আন্তর্জাতিক ফুটবলের শিরোপাও জিতেছে। তাদের বদৌলতেই গোটা দেশেই স্বনামে খ্যাত কলসিন্দুর গ্রাম। ফলে এ গ্রামের মানুষরাও কিনারা করতে পারছেন না, কীভাবে এবং কেন তাদের গর্ব রোজিনা, শামসুন্নাহার জুনিয়র, সাজেদার সনদপত্র ও মেডেল পুড়িয়ে দেওয়া হলো।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের মধ্যে দলাদলি রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র নিয়ে কেলেঙ্কারীর দায়ে সম্প্রতি এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। একপক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করতেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে বসেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

এসব বিষয়ে ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহাম্মদ মোল্লা সারাবাংলাকে বলেন, ‘পুরো ঘটনাটি আমাদের মধ্যেও বিস্ময় জাগিয়েছে। বিশেষ করে স্কুলের প্রধান ফটকে তালা না ভেঙেই কীভাবে দ্বিতীয় তলাকে টার্গেট করা হলো, এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

সারাবাংলা/এসএমএন

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন