সোমবার ২৭ মে, ২০১৯ ইং , ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে ছাত্রদের মানববন্ধন

মে ১৫, ২০১৯ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

ধানসহ সকল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। বুধবার (১৫ মে) বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে তিনদফা দাবি উত্থাপন করা হয়। সেগুলো হলো- ধানসহ সকল কৃষি পণ্যের খরচ অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও কৃষিতে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরাসরি ক্ষতি পূরণ দেওয়া, সুনির্দিষ্টভাবে ভর্তুকি বাড়িয়ে বীজ-সারের ব্যবস্থা করা ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ধান এত উৎপাদিত হয়েছে যে দাম কমানো যাচ্ছে না। ধানের দাম কম হলে চালের দাম কম হবে, কিন্তু চালের দাম এত বেশি কেন? এর মধ্যে নিশ্চয় কিছু আছে।’

বিজ্ঞাপন

ডাকসুর সমাজ সেবা বিষয়ক সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারে সন্তান। যখন কৃষি পণ্যের উৎপাদন মূল্য না ওঠে তখন কি কষ্ট হয় সেটা আমি বুঝি। এক মণ ধান উৎপাদন করতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু বিক্রয় মূল্য ৪০০-৫০০ টাকা। আবার চালের কেজি ৪০ টাকা। মধ্যস্বত্বভোগী ৩০০ টাকা মেরে দিচ্ছে। সরকার সিন্ডিকেটের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের কৃষিখাত ধ্বংস হয়ে গেলে আমাদের অস্তিত্ব ধ্বংসের মুখে পড়বে। কৃষক সমাজ বঞ্চিত হলে ছাত্র সমাজ বসে থাকবে না।’

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে সরকার কৃষকদের ন্যায্য দাবি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য ছাত্র হয়েও আমাদের তাদের পক্ষে কথা বলতে হচ্ছে। আমরা যাদের উৎপাদিত পণ্য খেয়ে পরে বেঁচে আছি সেই তারা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। মন্ত্রীরা বক্তব্য দিচ্ছেন এত ধান হয়েছে, যে কারণে ধানের দাম কমে যাচ্ছে। অথচ চালের দাম কিন্তু ঠিকই বেশি আছে।’ এসময় তিনি আরও বলেন, ‘এটি পর্যাপ্ত উৎপাদিত ধানের কারণে নয় বরং সিন্ডিকেটের কারণে ধানের দাম কম হচ্ছে। আর সরকারের এক্ষেত্রে কোনো তদারকি নেই। সরকার উল্টো ব্যবসায়ী সমিতির স্বার্থ দেখে।’

রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘তারা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন থাকে।’ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কৃষকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয় আমরা লংমার্চ করব। আপনারা দেখেছেন সাধারণ ছাত্র পরিষদ কী পারে।’ এছাড়া ঈদের আগেই সরকারি পাটকলসহ, গার্মেন্ট শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা নিরসনের আহ্বান জানান নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘যাদের কারণে সভ্যতা টিকে আছে সরকার তাদের প্রতি যতটা সহানুভূতিশীল তার চেয়ে বেশি সহানুভূতিশীল চোরদের রক্ষা করতে। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো দাবিতে সোচ্চার হবে।’

মানববন্ধন থেকে বলা হয়, কৃষকরা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফসল উৎপাদন করে। কিন্তু তাদের ন্যায্যমূল্য পায় না। যেখানে ৮০০ থেকে ১০০ হাজার টাকা খরচ হয় কিন্তু বিক্রিমূল্য ৬০০ টাকা। তারা সরকারের কাছে কৃষি পণ্যের ন্যায্য পাওনা দেওয়ার দাবি জানান।

সারাবাংলা/কেকে/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন