রবিবার ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

জালিয়াতি করে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে দুদকের চার্জশিট

মে ১৫, ২০১৯ | ৪:৫৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্বাক্ষর জালিয়াতি করে অস্ত্রের অবৈধ লাইসেন্স প্রদান, গ্রহণ এবং ব্যবহারের অভিযোগে ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৫ মে) বিকেলে সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য।

তিনি জানান, রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অবৈধভাবে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রংপুর জেলা প্রশাসকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র রায় বাদি হয়ে ২০১৭ সালের ১৮ মে রংপুরের কোতোয়ালী (রংপুর) থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৫৯। মামলাটি তদন্ত করেন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুরের সহকারী পরিচালক মো: আতিকুর রহমান। মামলায় তখন একজনকে আসামী করা হয়। তিনি হলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, জুডিশিয়াল মুন্সীখানা (জেএম শাখা) মোঃ শামসুল ইসলামকে। এরপর তদন্তে আরো ৩৯০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। তাই, ৩৯১ জনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

দুদক সূত্রে জানা যায়, আসামী মোঃ শামসুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেএম শাখায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ২০১১ সালের ১৭ মে থেকে ২০১৭ সালের ১৬ মে পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপর লাইসেন্স শাখার আগ্নেয়াস্ত্রের ভলিউম নিজ হেফাজতে সংরক্ষণ করেন। এছাড়া, লাইসেন্স প্রত্যাশীদের জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বরাবর দাখিল করা আবেদন গ্রহণ করে নোটশীটের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনারের কাছে উপস্থাপন, পুলিশ প্রতিবেদন গ্রহণ, প্রত্যাশিদের সাক্ষাৎকার অনুমোদিত হলে ফরমে এবং ভলিউমের পাতায় প্রয়োজনীয় তথ্যসহ প্রস্তুতপূর্বক জেএম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভলিউমের পাতায় প্রাপ্তি স্বীকার করে লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়ন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, তিনি এই কাজে নিয়োজিত থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে ২১ টি ভলিউমের ৩৯০ টি লাইসেন্স এর পুরাতন পাতা ছিড়ে তথা নতুন পাতা সংযোজন করে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অপর অফিস সহকারী অনুকূল চন্দ্রের স্বাক্ষর জাল করে ৩৯০ জন ব্যক্তির নামে ভূয়া/জাল লাইসেন্স ইস্যু করেছেন। এমনকি অবৈধ কাজের মাধ্যমে ঘুষ হিসেবে ২০ লাখ ১০০ টাকা অর্জন করে তার ব্যবহৃত আলমারিতে নগদ, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক এফডিআর এর মাধ্যমে দখলে রেখে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন। তদন্তকালে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা ৩৫৭টি লাইসেন্স, ৩৫৪টি অস্ত্র এবং ৪,০৩৮টি কার্তুজ জব্দ করে। শিগগিরই এ মামলার চার্জশিট সংশ্লিষ্ট আদালতে দাখিল করা হবে বলেও জানা গেছে।

সারাবাংলা/এসজে/জেএএম

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন