বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

আলোচনায় আসার জন্য আমি মানুষ খুন ছাড়া সব করতে পারি: মালেক আফসারি

মে ১৬, ২০১৯ | ২:০৬ অপরাহ্ণ

রেজওয়ান সিদ্দিকী অর্ণ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ বিরতির পর শাকিব খান দ্বিতীয় সিনেমা প্রযোজনা করছেন। তবে একা নন, এ যাত্রায় তিনি তার বন্ধু মোহাম্মদ ইকবালের সাথে যৌথ প্রযোজক হিসেবে থাকছেন। আর পরিচালক হিসেবে তিনি ভরসা রেখেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের মাস্টারমেকার খ্যাত মালেক আফসারির ওপর। ছবির নাম ‘পাসওয়ার্ড’।

আসছে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে ছবিটি। ইতোমধ্যে ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা চলছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে সমালোচনা। কারণ, পরিচালক ছবিটি নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছেন, আকাশ কুসুম স্ট্যাটাস দিচ্ছেন ফেসবুকে। এরকম আলোচনা–সমালোচনা আর ‘পাসওয়ার্ড’ ছবির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মালেক আফসারি কথা বলেছেন সারাবাংলার সঙ্গে।


ঈদ চলে এলো প্রায়। ‘পাসওয়ার্ড’ ছবির কাজ কোন পর্যায়ে আছে এখন?
ছবির কাজ তো বলতে গেলে শেষ। শুধু দুটো গান বাকি আছে। তারপর ক্যামেরা ক্লোজ। বলেই রেখেছি ‘পাসওয়ার্ড’ ঈদে আসবে। সুতরাং চিন্তার কোনো কারণ নেই। দুর্দান্ত একটি ছবি আসছে ঈদে। এরকম ছবি দেশের মানুষ আগে দেখেনি বলতে পারি।

ছবিটি নিয়ে ফেসবুকে আপনার কিছু স্ট্যাটাস নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ নেতিবাচক কথাও বলছেন। এ বিষয়ে কি বলবেন?
এটা একান্তই তাদের ব্যাপার। আমি সমালোচনা পছন্দ করি। সেটা ইতিবাচক হোক আর নেতিবাচক হোক। ইতিবাচক আর নেতিবাচক সমালোচনা একত্রিত হলেই সবকিছু আলোচনায় আসে। ধরুন, এখন যদি আপনি কোনো বয়স্ক মহিলার ছবি ফেসবুকে আপলোড করে লেখেন যে, সে অহসহায়। ভিক্ষা করে খায়। তাহলে দেখবেন ছবিটা ভাইরাল হবে না। তবে যদি কোনো ন্যুড মেয়ের ছবি দেন তাহলে দেখবেন এক ঘন্টার মধ্যে হাজার হাজার শেয়ার হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

তাহলে বলা যায়, আলোচনায় আসার জন্য আপনি এরকম স্ট্যাটাস দেন!
একদম। আলোচনায় আসার জন্য আমি মানুষ খুন ছাড়া সব করতে পারি। আমার প্রত্যেক ছবি মুক্তির আগে আমি এরকম পাগলামি করি। এটা আমার অভ্যাস। এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে পারব না। সুতরাং পেছনে আমার যতই সমালোচনা হোক তাতে আমার কিছু এসে যায় না। মালেক আফসারি একজনই হয়। তার বিকল্প কেউ নেই।

এতে আপনার ব্যক্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মনে করেন না? কারণ আপনি ঢালিউডের ‘মাস্টারমেকার’ নামে পরিচিত।
না। আমি তা মনে করি না। সিনেমার পরিচলাকদের আবার কিসের ব্যক্তিত্ব! পরিচালক এ জে মিন্টু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে অনেকবার। এখনো বেঁচে আছেন। কেউ তাকে মূল্যায়নই করে না। চলচ্চিত্র দিবসের উৎসবেও কেউ তাকে ডাকেনি। নায়ক রাজ রাজ্জাক সাহেবের জন্ম–মৃত্যুবার্ষিকী গেলো, কয়জন তাকে নিয়ে আপনারা লিখেছেন? ঢাকাই চলচ্চিত্রের নবাব আনোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর তাকে নিয়ে কয়জন লিখেছেন?

এই যে, বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রের নায়িকা বিলকিস বারীর মেয়ে ভিক্ষা করে খায়। কেউ তাকে জিজ্ঞেস করে? করে না। যে বিলকিস বারীর গুলশানে ফ্ল্যাট থাকা উচিত ছিল, তার মেয়ে এখন ভিক্ষা করে এফডিসিতে। তাকে নিয়ে তো কেউ নিউজ করেন না। না। কিন্তু যদি তিনি শিল্পী সমিতির কোনো কর্মকর্তাকে কষে চড় মারতে পারতো তাহলে সেটা নিয়ে অনেক নিউজ হতো।

আপনার সবশেষ মুক্তি পাওয়া ‘অন্তর জ্বালা’ ছবি মুক্তির আগেও কিন্তু আপনাকে এরকম আকাশ কুসুম কথা বলতে শোনা গিয়েছিল।
বাংলাদেশের অন্যতম একটি বিগ হিট ছবি ‘অন্তর জ্বালা’। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। সারাদেশে ১৩০টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছিল। টাকাও উঠে গেছে। এই ছবি দেখে মানুষ কেঁদেছে। আপনি যদি দেখে থাকেন, তাহলে আপনিও কেঁদেছেন। আমার ডিরেকশনের কোনো ভুল নেই। কেউ দেখাতে পারবে না।

আমি জীবনে চব্বিশটি ছবি বানিয়েছি, তার ভেতর থেকে দুটি ফ্লপ গেছে মাত্র। মজার ব্যাপার হলো, আমার ফ্লপ ছবি দিয়েই মানুষ আমাকে বেশি চেনে। হিট ছবি দিয়ে কম চেনে।

আবারও ‘পাসওয়ার্ড’ প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। গানের শুটিংয়ে পরিচালক ছাড়া ইউনিট তুরস্কে গিয়েছে। এটা নিয়েও কথা হচ্ছে।
ওখানে আমি গিয়ে কি করব! গানের শুটিংয়ে পরিচালকের কিছুই করার থাকে না। মতিন রহমান দেখলাম লিখেছেন, পরিচালক ফ্রেম বুঝে নেবে। এই করবে, ওই করবে। উনি এমন একজন পরিচালক, যিনি সিকোয়েন্সই শুট করতে পারেন না। যিনি সিকোয়েন্স শুট করতে জানেন না, তিনি গান শুট করবেন কিভাবে!  অযথা পন্ডিতি করতে আসছেন।

ছবির কাহিনী সম্পর্কে কোনো ধারণা…
মোটেই না। তিন কোটি টাকা দিয়ে ছবি বানিয়েছি মুক্তির আগে গল্প বলে দেয়ার জন্য না। আমার ইউনিটের কেউ গল্প ফাঁস করবে না। করলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সবাইকে নিষেধ করা আছে। তবে এতটুকু বলতে পারি, এই ছবিতে মা–বাবার প্যান প্যানানি , প্রেমের ঘ্যান ঘ্যানানি নাই। এমনকি দেশের কথাও নাই। এতে শুধু আছে এন্টারটেইনমেন্ট।

শুনলাম, ঈদের আগে ছবির কোনো গান প্রকাশ করবেন না।
একটা গান রিলিজ দেয়ার ইচ্ছা আছে। বিশ তারিখের মধ্যে ‘ঈদ মোবারক’ শিরোনামের গানটি ইউটিউবে রিলিজ দেব। বাকি গান প্রকাশ করব না। একটা গানের পেছনে ত্রিশ লাখ টাকা খরচ আছে। টাকা দিয়ে সিনেমা হলে গান দেখতে আসুক মানুষ। ফ্রিতে দেখাব না।

এই গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন ভারতের পবন ও বব। তাদের কেনো ভারত থেকে উড়িয়ে আনলেন?
ভালো কাজ করার জন্য তাদের এনেছি। তারা বলিউডেও অনেক ছবিতে কাজ করেছেন। চাইলে বাংলাদেশ থেকে কোরিওগ্রাফার নিতে পারতাম। কিন্ত নিইনি। কারণ, বাংলাদেশে নৃত্য পরিচালকরা কাজের চেয়ে প্রযোজকের সাথে খাতির জমাতে বেশি ব্যস্ত থাকেন। তারা প্রযোজকের চাটুকারিতা করেন। পবন ও ববের সাথে কাজ করতে গিয়ে দেখলাম, তারা শুধু কাজটা মনোযোগ দিয়ে করেন। প্রযোজক, পরিচালকের সাথে খাতির করার চেষ্টা করেন না।

আপনার ছবি রুখতে কলকাতা থেকে জিতের ছবি আমদানি করা হচ্ছে। কোনো বাড়তি চিন্তা?
আসুক। কোনো সমস্যা নেই। জিতের ছবিকে চিৎ করে ফেলে দেব বুড়িগঙ্গায়। আমার ছবির কাছে পাত্তাই পাবে না। শুধু তাই না, ‘নোলক’ ছবি মুক্তি পাচ্ছে ঈদে। আমি তো ছবিটাকে গোনায়ই ধরছি না। এবার ঈদের ছবি একটাই, সেটা ‘পাসওয়ার্ড’। ছবি মুক্তি পাওয়ার পর মিলিয়ে নিয়ে নিয়েন আমি সত্য বলি না মিথ্যা বলি।

সারাবাংলা/আরএসও/পিএম


আরও পড়ুন :  ঈদে চ্যানেল আইতে ১০ টেলিফিল্ম


বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন