শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ইং , ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯ রমজান, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘মাছ আহরণ বন্ধের নিষেধাজ্ঞা মানাতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ’

মে ১৬, ২০১৯ | ৭:২০ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে সাগরে মাছ আহরণ করলে কঠোরভাবে ‘আইন ও বল’ প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘বঙ্গোপসাগরে সকল প্রকার নৌযান কর্তৃক মৎস্য ও ক্রাস্টাসিয়ান্স আহরণ বন্ধের বাস্তবায়ন বিষয়ক’ মতবিনিময় সভায় তিনি একথা জানান। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড সদস্যরা কঠোর আইন ও বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হবে।’

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সাল থেকে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও ক্রাস্টাসিয়ান্স (কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণী, কাঁকড়া) ধরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাছের মজুদ সংরক্ষণ সুষ্ঠু ও সহণশীল আহরণ নিশ্চিত করার স্বার্থেই এটা করা হচ্ছে। এর ফল হিসেবে প্রজনন মৌসুমের পর বিপুল পরিমাণ মাছ আহরণ করেন জেলেরা।’

নিষেধাজ্ঞাকে মাছ আহরণের ‘বন্ধ মৌসুম বা ছুটি’ ভাবতে মৎস্যজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন- সব দেশেই এরকম আহরণ বন্ধ থাকে। চীন সাগরে ২০ বছর যাবত ১৬মে থেকে ১ আগস্ট বন্ধ থাকে। ভারতে উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় ২০০০ সাল থেকে ৪৫ থেকে ৬০ দিন বন্ধ থাকে।

তিনি আরও বলেন, মাছ প্রাকৃতিক সম্পদ হলেও তা অফুরন্ত নয়। সমুদ্র মৎস্য সম্পদ সহনশীল পর্যায়ে আহরণ না করলে এমন সময় আসবে যখন সমুদ্র থেকে মাছ আহরণ অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। মাছ বড় হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ডিম ছাড়ার মৌসুমে মাছ আহরণ করে ফেললে একদিন তো আমাদের সমুদ্র মৎস্য শূন্য হয়ে যাবে।

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার ‍সুফল সারা বছর পাওয়া যাবে বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী বছর থেকে মাছ ধরা বন্ধের সময়ে প্রণোদনা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর ইলিশের প্রজনন মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে ৪৮ হাজার খাদ্য উপকরণের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে জেলে পরিবারকে। আমরা চেষ্টা করছি আগামীতে আপনাদের ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ দিব। যাতে আপনাদের মাছ ধরার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে না হয়।’

এদিকে সার্কিট হাউজে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী আসার খবরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেখানে জড়ো হন কয়েক’শ মৎস্যজীবী। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে দাঁড়িয়ে তারা ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন।

প্রতিমন্ত্রী সভা শেষে বেরিয়ে যাবার সময় মৎস্যজীবীরা তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। তবে তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেননি। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গাড়ি থামিয়ে মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সারাবাংলা/আরডি/এমএইচ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন