রবিবার ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ইং , ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩ জিলহজ, ১৪৪০ হিজরি

বিজ্ঞাপন

শিশু অপহরণ: ২ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মে ১৬, ২০১৯ | ১০:১৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: টিএনজেড গ্রুপের মালিকের ছেলে আবিরকে (৮) অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই জনের ফাঁসি ও অপর ৮ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) বিকেলে ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা আসামিরা হলেন- মো. মশিউর রহমান (৪০) ও মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর (৩৫)। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন, মো. রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৮), মো. ইকবাল হোসেন শুভ (২৮), সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন (৪৭), মো. হোসেন চন্দন ওরফে চঞ্চল, কাউসার মৃধা (২৫) ও রেজা মৃধা (৩০)।

রায় ঘোষণার সময় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরাসহ প্রথম আট জন আসামি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শেষের দুই জন সহোদর এবং তারা পলাতক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে রায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জহির উদ্দিন মো. বাবর ও শাহ মো. অলিউল্যাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, টিএনজেড গ্রুপের মালিক শাহাদাত হোসেনের ছেলে আবিরের তথ্য সংগ্রহ করেছিল অপহরণকারীরা। এ জন্য পল্লবীতে একটি বাসাও ভাড়া করা হয়। তারা নিয়মিত শিশুটির গতিপথ অনুসরণ করে। এছাড়া অপহরণকারীদের সঙ্গে যুক্ত টিএনজেড গ্রুপের তিন কর্মী বিশেষ করে গাড়িচালক রেজাউল নিয়মিত তথ্য দিত।

২০১৫ সালের ২ মে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশু আবির গাড়িতে করে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে বনানী উড়াল সড়কের নিচে অপহরণকারীরা তিনটি গাড়ি নিয়ে ওই গাড়ির গতিরোধ করে। নিজেদের একটি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে শিশুটিকে ওই গাড়ির চালক ও শিশুটির তত্ত্বাবধানকারীকে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় অপহরণকারীরা।

এরপর অপহরণকারীরা শিশুটির বাবাকে ফোন করে তার কাঁন্নার শব্দ শোনায়। শিশুটির মুক্তিপণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। শুরু হয় দর-কষাকষি। ওই রাতেই শিশুটিকে বহনকারী গাড়িটি তিনশ ফুট (পূর্বাচল) সড়কে গাড়ির চালক ও তত্ত্বাবধানকারীসহ বিমানবন্দর এলাকায় ফেলে রেখে আসে অপহরণকারীরা।

চার দিন দর-কষাকষির পর দুই কোটি টাকায় রফা হয়। ৬ মে তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেন শাহাদাত হোসেন। এছাড়া ওই দিন সন্ধ্যায় হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে ২৭ লাখ নগদ টাকা নিয়ে নিজেই অপহরণকারীদের দেন।

ব্যবসায়ী তার সন্তানকে ফিরে পাওয়ার পর ২০১৫ সালের ১৮ মে রাজধাণীর ক্যান্টনমেন্ট থনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। র‌্যাব অপহরণকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে। এরপর র‌্যাব বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব থেকে অপহরণকারীদের টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

২০১৫ সালের ১৭ মে আসামি রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন মো. বাবর, মিজানুর রহমান ও শাহ মো. অলিউল্যাগণ আটক হয়। তাদের আটকের পর মিজানুরকে নিয়ে ব্যাংক থেকে ওই টাকা তোলা হয়।

২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্ত শেষে একই থানার ইন্সপেক্টর মো. কবির হোসেন হাওলাদার ১০ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার তদন্তকালে কায়েকজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলাটির বিচারকালে ট্রাইব্যুনাল ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

সারাবাংলা/এআই/এমআই

Advertisement
বিজ্ঞাপন

Tags: ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন