সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং , ১ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৬ মুহাররম, ১৪৪১ হিজরি

বিজ্ঞাপন

কৃষকের দুর্গতি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় চিন্তিত: কৃষিমন্ত্রী

মে ১৮, ২০১৯ | ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ধানের দাম কমে যাওয়া ও কৃষি শ্রমিকের ঘাটতির কারণে কৃষকের দুর্গতি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় গভীর চিন্তিত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কৃষক লীগের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষকরা কি শুধু ধানের দাম পায় না? কৃষকরা যখন শবজি করে শবজির দাম পায় না। এই কাওরান বাজারে পত্র-পত্রিকায় বহুবার এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুদূর ঈশ্বরদী থেকে কপি নিয়ে এসেছে, কপির দাম পায় না। কৃষকরা ট্রাক রেখে পালিয়ে গেছে। টমেটো এরকম, টমেটো বিক্রি হয় না, দুই টাকা কেজি টমেটো। দশটা ফুলকপি পাঁচ টাকায় বিক্রি হয়। এদেশের কৃষকেরা নানান অভাবে দুঃখী ছিল। শেখ হাসিনা কৃষক শ্রমিকের জীবনের পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম লড়াই করছেন।’

কৃষক ধানের দাম না পাওয়ার পিছনে উৎপাদক বৃদ্ধিকে দায়ি করে সরকারের কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই যে ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষক; ধানের উৎপাদন অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, গত বোরোতে অনেক ধান হয়েছে, আমনে আমাদের টার্গেট ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ টন, সেটা বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টন। ১৩ লাখ টন ধানের উৎপাদন আমাদের টার্গেটের বেশি উৎপাদন হয়েছে। আলুর উৎপাদন আমাদের দরকার ৬০-৭০ লক্ষ টন, সেখানে উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি তিন লক্ষ টন। ৩৩ লক্ষ টন আলু বেশি হয়েছে, চাষিরা বিক্রি করতে পারছে না।’

বিজ্ঞাপন

‘এটা কোনো যাদুবলে হয়নি, কোনো আলাউদ্দিনের আর্শ্চার্য প্রদীপের আলোতে হয়নি, এটা হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব কর্মসূচির জন্য, তার দূরদর্শিতার জন্য’ বলেন কৃষিমন্ত্রী।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিন্তিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যায় না, এবং সেই শ্রমিক পাওয়া যায় না বলেই আজকে ধান করে মানুষের লাভ হচ্ছে না। এ জন্য সরকার খুবই চিন্তিত।’

খাদ্য উদ্বৃত্ত হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আপনাদের বলতে চাই খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশে, যেখানে খাদ্য উদ্বৃত্ত করতে পারে। সেখানে আমরা রফতানি করলে কৃষক দাম পাবে। এই কৃষকের সমস্যা সাময়িক। এই সমস্যারও সমাধান আমরা করবো।’

‘কিভাবে করবো, কৃষিকে আমরা বাণিজ্যিক কৃষি করবো, এই কৃষিকে আমরা বহুমুখী করবো। শুধু ধান না অন্যান্য অর্থকরী ফসলের দিকে নিয়ে যাবো। এই কৃষিকে আমরা যান্ত্রীকরণ করবো। আজ শ্রমিক পাওয়া যায় না, শ্রমিক আর দরকার হবে না। এই যান্ত্রীকরণের জন্য আমরা ভর্তুকি দেবো, বলেন কৃষিমন্ত্রী।

এছাড়া কৃষক লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন