শনিবার ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ইং

‘টেকনিক্যাল অডিটের মাধ্যমে কলড্রপ সমস্যা সমাধান করা হবে’

মে ১৮, ২০১৯ | ১০:০৪ অপরাহ্ণ

ঢাকা: টেকনিক্যাল অডিটের মাধ্যমে কলড্রপ সমস্যা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৮ মে) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে বিটিআরসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশে এসে কেবল ব্যবসা করে মুনাফা অর্জন করেই চলে যাবেন, তা হবে না। এখানে আপনাদের আরএনডি সেন্টারও স্থাপন করা উচিৎ।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটরদের কলড্রপে গ্রাহক অসন্তুষ্টিতে সরকার বিব্রত হচ্ছে, জানিয়ে এবার থার্ড পার্টির মাধ্যমে টেকনিক্যাল অডিট করে মোবাইল অপারেটরদের ত্রুটি খুঁজে বের করার প্রস্তাবও দিয়েছেন পলক।

বিটিআরসির হিসাবে, গ্রামীণফোনের কলড্রপের সংখ্যা ১০৩ কোটি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির কলড্রপ ৭৬ কোটি, বাংলালিংকের কলড্রপ ৩৬ কোটি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকের কলড্রপ ৬ কোটি।

পলক আরও বলেন, ‘কল ড্রপ নিয়ে বিটিআরসি বলছে এক কথা, মোবাইল অপারেটররা বলছে আরেক কথা। আমরা এখন ডিজিটাল সার্ভিসে কোয়ালিটির কথা বলছি, তখন এই কলড্রপ নিয়ে সরকারকে নানা বিরূপ মন্তব্য শুনতে হচ্ছে। বিটিআরসি ফাইন্যান্সিয়াল অডিট করে, এবার টেকনিক্যাল অডিট হওয়ার প্রয়োজন। থার্ড পার্টির এই অডিটের মাধ্যমে কারণ জানা প্রয়োজন। জানা দরকার ত্রুটি কোথায়।’

পলক বলেন, ‘দেশে এখন সাড়ে ৯ কোটি ইন্টারনেট ইউজার। সময় এসেছে সবগুলো ডিজিটাল সার্ভিসের গুণগত মান ঠিক রাখা। আমাদের সার্ভিস ডিজাইনগুলো স্ট্যান্ডারাইজেশনের জন্য একটা ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডারাইজেশন অব ফাইভ-জি শিরোনামে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের প্রধান কর্মকর্তা ওয়াং শিউ জেরি। পরে ফাইভ-জি নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন নোকিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনের গর্ভানমেন্ট রিলেশনস বিভাগের প্রধান গিয়ম মাসকট।

অনুষ্ঠানে পলক জানান, পদ্মাসেতুর পাশে ৭০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হবে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট ফর ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, যেখানে আরও প্রশিক্ষিত করা হবে আগামী দিনের প্রযুক্তিবিদদের।

বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস উপলক্ষে বিটিআরসির এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি বলেন, ‘ভয়েস কলের দিন শেষ হয়ে আসছে, সামনে ডেটা কলের দিন। ভয়েস টেকনোলজি আইপি নির্ভর হয়ে যাবে। আমাদের অপারেটররা কিভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করবে? তারপর আসছে ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের কথা। তবে আমাদের দেশের ফোরথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের দিক আলাদা। আমরা বলছি, ব্লক চেইন, রোবোটিকস, বিগ ডেটার কথা। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান কতটা উন্নত করতে পারব, তা ভাবতে হবে।’

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক।

আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘ব্রিজিং দ্য স্ট্যান্ডারাইজেশন গ্যাপ’ শিরোনামে কি নোট পেপার উপস্থাপন করেন গ্রামীণফোনের নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেপ্লয়ম্যান্ট বিভাগের প্রধান মো. সাঈফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ডাক বিভাগের স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন মোস্তাফা জব্বার।

এবার ‘ব্রিজিং দ্য স্ট্যান্ডারাইজেশন গ্যাপ’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

সারাবাংলা/টিএস/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন