মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

‘গণতান্ত্রিক সরকার না থাকায় কৃষককে মূল্য দিতে হচ্ছে’

মে ২২, ২০১৯ | ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক সরকার না থাকায় কৃষকসহ সবাইকে মূল্য দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বুধবার (২২ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে ‘কৃষক-জনতা এক হও, সরকার হটাও, দেশ বাঁচাও’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সায়ীদ। সূচনা বক্তব্য দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া।

ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গণফোরামের লিখিত বক্তব্যে বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা।

বিজ্ঞাপন

শস্য বহুমুখীকরণ, আধুনিক বাজার ব্যবস্থা চালু করা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সরকারি প্রণোদনা প্রদান, দেশে উৎপাদিত কৃষি যন্ত্রপাতী তৈরিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং উন্নত যন্ত্রপাতি আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক মওকুফ করা।

শস্য বীমা চালু করা, সহজ শর্তে ও বিনা সুদে বা স্বল্প হারে কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশও করা হয় গণফোরামের পক্ষ থেকে।

‘আমার কৃষক চোর নই। গুদাম নেই তাতে কী? কৃষকের নিকট থেকে ধান কিনে তাদের গোলায় রেখ দাও’— বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিয়ে গণফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘খাদ্য গুদাম না থাকার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু যে ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেছিলেন, সে কথা স্মরণ রাখতে চাই। জাতির পিতার আস্থা ছিল জনগণের ওপর, বিশ্বাস ছিল দুঃখী মানুষের ওপর। সেই আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এ কথা বলেছিলেন। আজ সরকার জনগণ হতে বিচ্ছিন্ন। তাদের ওপর আস্থা নেই, বিশ্বাস নেই। জনগণের অধিকার যারা হরণ করে, তারা জনগণের ওপর বিশ্বাস রাখবে কীভাবে?’

লিখিত বক্তব্য শেষে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘কৃষক রেকর্ড ভেঙে ধান উৎপাদন করেছে। তার মূল্য পাওয়া তো দূরের কথা, এখন সে বাধ্য হচ্ছে এটা পোড়াতে। এই সংকটগুলো সৃষ্টি হচ্ছে সরকারের কৃষিনীতি না থাকায়।

সরকার নিজেদের ঘোষণা মানছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তারা (সরকার) ধান উৎপাদনের আগে বক্তব্য রাখে। কিন্তু উৎপাদনের পর সেই ধান কিনে রাখা এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে না। বিষয়টি শুধু কৃষকদের ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে নয়, আমরা সকল ক্ষেত্রেই দেখি সরকারের দায়িত্বহীনতা আছে। সরকার দায়িত্বহীন সরকার। তাদের যে একটা দায়িত্ব আছে কৃষকদের প্রতি, তা তারা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

সব ধরনের সংকট সৃষ্টির ব্যাপারে সরকার মুখ্য ভূমিকা রাখছে অভিযোগ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘ক’জন কৃষক আছে, সেই হিসাব সরকারের কাছে নাই— এটা কি বিশ্বাস করা যায়? সরকারের কাছে সব রকম তথ্য থাকবে। কতজন কৃষক ধান উৎপাদন করে, সে তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে। সেটা থাকে না বলেই এই ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, মেজবাহ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মহসীন হোসেনসহ অন্যরা।

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন