মঙ্গলবার ২৫ জুন, ২০১৯ ইং , ১১ আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২১ শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

বিজ্ঞাপন

এফআর টাওয়ারে আগুন: দায়ীদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন

মে ২২, ২০১৯ | ২:১৯ অপরাহ্ণ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর বনানী এলাকার এফআর টাওয়ারে আগুনের ঘটনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি তার রিপোর্ট জমা দিয়েছে। বুধবার (২২ মে) সচিবালয়ে দেওয়া ওই রিপোর্টে আগুনের ঘটনা, তাতে জানমালের ক্ষয় ক্ষতির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়ী বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ৭ দফা পর্যালোচনা ও ১৫ দফা সুপারিশ দিয়েছে কমিটি।

এতে ভবনের অতিরিক্ত অংশ ভেঙ্গে ফেলতে বলা হয়েছে। আর সেটা সম্ভব না হয়েছে সিলগালা করে দেওযার সুপারিশ রয়েছে। ভবনটি নির্মাণ কালের রাজউক চেয়ারম্যান, অথরাইজড অফিসার ও সহকারী অথরাইজড অফিসারের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করার নির্দেশনা রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ভবন মালিক পক্ষের প্রচলিত ব্যবস্থা ও নিয়ম নীতির প্রতি চরম অবহেলা দেখতে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত রিপোর্টে ভবনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন হাউজিং এস্টেটকেই এ জন্য দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দগ্রহীতা এফআর টাওয়ার প্রোপার্টিজ’র সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুকসহ এফআর টাওয়ার ওনার্স সোসাইটিকেও এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে- ২৩ তলা বিশিষ্ট এফআর টাওয়ারের নকশাটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বানিয়েছে। আর এর দায় তৎকালীয় রাজউক চেয়ারম্যান কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না। সে সময়ের রাজউক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহম্মেদ, অথরাইজড অফিসার নাজমুল হুদা, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. বদরুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করার সুপারিশ রয়েছে এই প্রতিবেদনে।

আট সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘটনার ৫৫ দিন পর এই রিপোর্ট জমা দিলো। কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপনের পর তা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম রেজাউল করিম।

গত ২৮ মার্চ ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ভবনটির কয়েকটি ফ্লোর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং আগুনে পুড়ে নিহত হন অন্তত ২৫ জন। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

রিপোর্টে ভবনটি নির্মাণের সময়ে (ফেব্রুয়ারি ২০০৫ থেকে জুলাই ২০০৮) রাজউকের যারা তদারককারী কর্মকর্তা ছিলেন তাদের মধ্যে ২০ জনকে দায়ী করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রধান ইমারত পরিদর্শক মাহবুব হোসেন সরকার ও মো. আবদুল গণি ও ১৮ জন ইমারত পরিদর্শক রয়েছেন।

এছাড়া ভবনের ২০, ২১ ও ২২ তলার বন্ধক অনুমতি দিয়েছেন এমন ৬ কর্মকর্তা কর্মচারীকে দায়ী করা হয়েছে।

রাজউকের সাবেক সদস্য জি এম ব্যাপারী, সবেক নগর পরিকল্পনাবিদ জাকির হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান, সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উল্লাহ, লিজ গ্রহীতা মো. হোসাইন ইমামকেও এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

ভবনের ২৩ তলা বিশিষ্ট নকশাটি বৈধতা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রেজিস্ট্রারে অবৈধ এন্ট্রি ও ইস্যু দেখিয়ে যারা এই অপরাধে সহযোগিতা করেছেন এমন ২৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকেও দায়ী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। মনিটরিংয়ে ব্যত্যয়ের জন্য যারা দায়ী তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইয়ামিনসহ ৯ জন।

রিপোর্টে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে, ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমণ নকশা অনুযায়ী হয়নি। ভবন তৈরিতে দায়িত্বশীলতা, মনযোগিতা ও দক্ষতা তিনটিরই অভাব ছিলো। আর সর্বোপরি এতে অবহেলার ভাবটি প্রকট ছিলো। আগুনের ঘটনা ওই অবহেলার বিষয়টিই প্রমাণ করে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এমএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন